Share
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের দিকে তাকালে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল, এটা নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যানই বলে দেয়। ১৯৯১ সালে বিএনপির তথাকথিত জয়ের বছরেও ভোটের হিসাবে তারা আওয়ামী লীগের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছিল। বিএনপি পেয়েছিল ৩০.৮১ শতাংশ, আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩০.০৮ শতাংশ। পার্থক্য মাত্র এক শতাংশেরও কম। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ এগিয়ে গেল, পেল ৩৭.৪৪ শতাংশ ভোট, বিএনপি থাকল ৩৩.৬৩ শতাংশে। ২০০১ সালে আসন সংখ্যায় সবচেয়ে খারাপ পরাজয়ের মুখে পড়েও আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৪০.১৩ শতাংশ ভোট, যা ছিল সবচেয়ে বেশি।
এখন যে অবৈধ ব্যবস্থাটা দেশে চলছে, সেটা ফেব্রুয়ারিতে একটা নির্বাচনের আয়োজন করতে চাইছে এই দলটাকে বাদ দিয়ে। যে দলের ভোটার সংখ্যা দেশের সবচেয়ে বেশি, যে দলের জনসমর্থন নির্বাচনে বারবার প্রমাণিত হয়েছে, সেই দলকে বাইরে রেখে কীভাবে একটা নির্বাচনকে সবার অংশগ্রহণমূলক বলা যায়? এটা তো প্রহসন ছাড়া আর কিছু না।
ইউনূসের এই তথাকথিত সরকার আর তার উপদেষ্টারা জানে যে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আসতে দিলে তারা হেরে যাবে। জাহিদুর রহমান, তাসনিম খলিল, এই সব নামধারী বুদ্ধিজীবীদের এই ভয়েই ঘুম হয় না যে লীগ যদি ভোটে দাঁড়ায় তাহলে আবার ক্ষমতায় আসবে। তখন তাদের এই সব ফুলেফেঁপে ওঠা অহংকার আর বাহবা পাওয়ার দিন শেষ হয়ে যাবে। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, শামিনা লুতফা, বদিউজ্জামান, কিশোর গ্যাং, নূরা, ফুয়াদ, শিবির, সায়ন, বাঁধান, সলিমুল্লাহ, বরবাদ মজহার, নাজিমুদ্দিন, আহমদ মোস্তফা কামাল, সরকার আমিন, লাল বদর গীতিআরা, এই পুরো দলবলটাই আতঙ্কিত।
তাই তারা একটা পাতানো ভোটের আয়োজন করছে। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে একটা নাটকের মঞ্চায়ন করতে চাইছে। আর সেই নাটকে বৈধতা আনার জন্য একটা গণভোটের ধুয়ো তুলেছে। জিয়াউর রহমানের আমলে মানুষ এই গণভোটের খেলা দেখেছে। প্রেসিডেন্ট আগেই ঠিক করে রাখে ফলাফল কী হবে, ভোটার কেন্দ্রে যাক বা না যাক।
যেসব বাম দল আওয়ামী লীগের আমলে ইনক্লুসিভ নির্বাচনের দাবিতে আকাশ মাথায় তুলেছিল, রাস্তায় মিছিল করেছিল, টেলিভিশনে টকশোতে বসে গলা ফাটিয়েছিল, তারাই এখন এই একতরফা নির্বাচনে লাফাচ্ছে। এই ভণ্ডদের চেহারা মনে রাখতে হবে। এরা কখনো সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে রাজপথে আসে না, আদিবাসী নিপীড়ন নিয়ে প্রতিবাদ করে না। কিন্তু ফিলিস্তিনের জন্য বুক চাপড়ায়, সেখানে মৌলবাদীদের সাথে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটে আর সেটাকে একটা ধর্মনিরপেক্ষ রঙ দেওয়ার চেষ্টা করে। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর স্লোগান দিয়েছে, অথচ মার্কিন রেজিম চেঞ্জের এই প্রজেক্টে নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে।
জুলাই মাসে যে দাঙ্গা বাঁধানো হয়েছিল, সেটা ছিল সুপরিকল্পিত। বিদেশি অর্থায়ন, ইসলামিক জঙ্গিদের সক্রিয়তা, আর একাংশের সামরিক সমর্থন মিলে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। এটা যতই গণঅভ্যুত্থানের নাম দেওয়া হোক না কেন, আসলে এটা একটা সামরিক ক্যু। আর সেই ক্যুর ফসল হচ্ছে ইউনূসের এই অবৈধ সরকার।
এখন এই সরকার একটা নির্বাচনের আয়োজন করতে চাইছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলকে বাদ দিয়ে। কিন্তু এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। আওয়ামী লীগের লাখ লাখ ভোটারকে বঞ্চিত করে যে ভোট হবে, সেটা জনগণের কাছে পৌঁছাবেই না। মানুষ জানে তাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তারা জানে এই পুরো প্রক্রিয়াটাই একটা প্রতারণা।
ইসলামি মৌলবাদ যেমন এই দেশে জায়গা পাবে না, তেমনি ২০২৪ সালের লাল বদর লেখক, শিল্পী, বিজ্ঞাপন নির্মাতা, অভিনেতা, অভিনেত্রী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সেলিব্রিটি, সবাইকেই এই সমাজ চিনে রাখবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি হিসেবে। তারা নিজেদের যতই প্রগতিশীল বলে জাহির করুক, তাদের আসল চেহারা মানুষের সামনে পরিষ্কার। এই নির্বাচন বর্জনই হবে সেই বার্তা পাঠানোর উপায়। জামাত, বিএনপি, এনসিপি, এদের যে ইঁদুর বিড়াল খেলা চলছে, সেটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে এই ভোট কতটা ফাঁপা।
আরো পড়ুন

