Share
ড. ইউনুস যে নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছেন, তা পক্ষপাতমূলক ও প্রতিহিংসামূলক । আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্দের পক্ষের দলগুলোকে বাদ দিয়ে এই নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইতোমধ্যেই নির্বাচনকে সরকারি হস্তক্ষেপপূর্ণ ও এপক্ষীয় হিসেবে দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন যতই কাছে আসছে, দেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগসহ সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, এবং যারা নির্বাচনে সুযোগ পাচ্ছে না ঐদলগুলো ইতিমধ্যেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।
দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ এই একপক্ষীয় নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এটি স্পষ্ট করে যে, জনগণের আস্থা ও সমর্থন ছাড়া নির্বাচন কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা কেবল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয় এটি দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে গেছে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি, কিন্তু সাধারণ জনগণ কার্যত ভোটে অংশ নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতি নির্বাচনের বৈধতা ও জনগণের আস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে গুঞ্জন রয়েছে, নির্বাচনী সহিংসতা চরমে গেলে ড. ইউনুস দেশ ত্যাগ করে পূর্ব তিমুরে চলে যেতে পারেন।
সেখানে তার বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে, এবং ভবিষ্যতে তিনি সেখানেই স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। দেশের প্রতি আস্থা নষ্ট হওয়া এবং বিদেশে বিনিয়োগের দিকে ঝোঁকা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
জামায়াত–এনসিপি জোটও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার পরিকল্পনা করছে। তারা সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে জয়ের নিশ্চয়তা না পেলে, নির্বাচনের কয়েক দিন আগে পরিস্থিতি এমনভাবে তৈরি করতে পারে যাতে পুরো নির্বাচনই অচল হয়ে যায়। এটি সরাসরি জনগণের ভোটাধিকার হরণ।
ইতিহাস প্রমাণ করেছে, সহিংসতা ও অগণতান্ত্রিক পথ কখনো সংকট সমাধান দেয় না। এই মুহূর্তে রাষ্ট্র, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব হল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। এজন্য সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
আরো পড়ুন

