Wednesday, February 4, 2026

আখিরাতের চাঁদের গাড়ি আর নারীর কবর; জামায়াতের অন্ধকার আদর্শ

Share

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান আল জাজিরার সাক্ষাৎকারে যা বলেছেন, সেটা আসলে কোনো চমক নয়। চমকের কিছু নেই। লোকটা ঠিক সেই কথাই বলেছে যা তার দল গত সাত দশক ধরে বিশ্বাস করে আসছে। আসল ব্যাপার হলো, এবার সে সেটা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় খোলামেলা স্বীকার করে নিয়েছে। আর এই স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে জামায়াত আসলে কী চায়, তাদের রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি কোথায়।

শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতের শীর্ষ পদে নারী আসতে পারবে না কারণ শারীরিক সীমাবদ্ধতা। এই যুক্তিটা এতই হাস্যকর যে সেটা নিয়ে আলোচনা করাটাই সময়ের অপচয়। কিন্তু করতে হচ্ছে, কারণ এই দেশে লাখ লাখ মানুষ এই লোকটার কথা বিশ্বাস করে। এখন প্রশ্ন হলো, নেতৃত্বের সাথে শারীরিক সক্ষমতার সম্পর্ক কী? একজন প্রধানমন্ত্রী বা দলীয় প্রধান কি ইট ভাঙেন নাকি রাস্তা মেরামত করেন? নেতৃত্ব দিতে হলে বুদ্ধি লাগে, দূরদর্শিতা লাগে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা লাগে। এগুলোর সাথে লিঙ্গের কী সম্পর্ক?

শফিকুর রহমান নিজেই এর উত্তর দিয়েছেন। উনি বলেছেন, নারীরা বাচ্চা জন্ম দেয়, বুকের দুধ খাওয়ায়, তাই তারা নেতৃত্ব দিতে পারে না। এই যুক্তি মেনে নিলে তো বলতে হয়, পুরুষরা বাচ্চা জন্ম দিতে পারে না বলে তারাও অনেক কিছু করতে পারবে না। কিন্তু না, তার যুক্তি শুধু একদিকে প্রযোজ্য। কারণ তার আসল উদ্দেশ্য যুক্তি দেওয়া নয়, নারীদের একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখার ধর্মীয় ব্যাখ্যা হাজির করা।

এই লোকটা আগে বিএনপি করতেন। খালেদা জিয়া যখন দলীয় প্রধান ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন শফিকুর রহমানের কোনো সমস্যা হয়নি। সেই সময় নারী নেতৃত্ব শারীরিকভাবে অসম্ভব ছিল না। কিন্তু এখন হঠাৎ করে অসম্ভব হয়ে গেল। এটাকে কী বলবেন? সুবিধাবাদ? নাকি ভণ্ডামি? দুটোই। লোকটা যখন যেখানে সুবিধা পেয়েছে, সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন জামায়াতে আছে, তাই জামায়াতের লাইন ধরে কথা বলছে। কাল অন্য কোথাও গেলে অন্য কথা বলবে।

জামায়াত এবারের নির্বাচনে একজনও নারীকে মনোনয়ন দেয়নি। শূন্য। অন্য দলগুলো অল্প হলেও দিয়েছে। কিন্তু জামায়াত একজনও না। শফিকুর রহমান এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে তারা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিসের প্রস্তুতি? একজন যোগ্য নারীকে মনোনয়ন দিতে কী প্রস্তুতি লাগে? এই দেশে হাজার হাজার শিক্ষিত, যোগ্য, রাজনীতি সচেতন নারী আছেন। তাদের মধ্যে থেকে একজনকেও খুঁজে পাওয়া গেল না? না, আসল কথা হলো তারা খুঁজেনইনি। কারণ তাদের আদর্শই এটা মানে না যে নারীরা রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেবে।

শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে নারীরা রাজনীতিতে কম। এই কথাটা সরাসরি মিথ্যা। বাংলাদেশে গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে নারীরাই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, দুজনেই এই দেশ চালিয়েছেন। তারা কি ভালো করেছেন, খারাপ করেছেন, সেটা আলাদা বিতর্ক। কিন্তু এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে তারা দেশ চালিয়েছেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, রাজনীতি করেছেন। আর স্থানীয় পর্যায়ে তো হাজার হাজার নারী ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত হয়ে কাজ করছেন। জামায়াত নিজেও স্থানীয় নির্বাচনে নারীদের দিয়ে ভোট আদায় করেছে। তাহলে সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে কথা বলার মানে কী?

আসল কথা হলো, জামায়াত যে বাংলাদেশ চায়, সেখানে নারীদের জায়গা নেই রাজনীতিতে, নেই অর্থনীতিতে, নেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে। তাদের জায়গা শুধু ঘরে, রান্নাঘরে, সন্তান পালনে। জামায়াতের আদর্শিক ভিত্তি হলো মওদুদীর লেখা, যেখানে পরিষ্কার বলা আছে নারীদের জায়গা ঘরে। তারা সেই লাইনই ধরে আছে। শফিকুর রহমান সেটাই বলেছেন, তবে একটু ঘুরিয়ে, একটু নরম ভাষায়। কিন্তু মূল বক্তব্য একই।

এখন জামায়াতের নারী সমর্থকদের কথায় আসি। এই দেশে যে নারীরা জামায়াত করেন, শিবির করেন, তাদের মানসিকতা আসলে কী? তারা কি জানেন না যে তাদের দল তাদের অধিকার স্বীকার করে না? জানেন। কিন্তু তারপরও তারা এই দল করেন। কেন? কারণ তাদের মগজ ধোলাই করা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে যে নারীর আসল সম্মান ঘরে থাকার মধ্যে, পর্দা করার মধ্যে, স্বামীর সেবা করার মধ্যে। তাদের বলা হয়েছে যে বাইরে কাজ করা, রাজনীতি করা, নেতৃত্ব দেওয়া এসব পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্র, ইসলামবিরোধী। আর তারা সেটা বিশ্বাস করেছেন।

কিন্তু সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাপার হলো, এই নারীরা নিজেরাই অন্য নারীদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠছেন। যে মেয়েটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, সেই মেয়েটাই জামায়াত-শিবিরকে ভোট দিচ্ছে। যে মেয়েটা নিজে শিক্ষিত, সেই মেয়েটাই অন্য মেয়েদের শিক্ষার বিরোধিতা করছে। এটা কীভাবে সম্ভব? এটা সম্ভব যখন একটা আদর্শ এতটাই শক্তিশালী হয় যে মানুষ নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধেও কাজ করতে শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে জামায়াত-শিবির জিতেছে মূলত নারী ভোটে। এই তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মানে হলো, এই দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত নারী শিক্ষার্থীরা একটা সংগঠনকে ভোট দিয়েছেন যে সংগঠন মনে করে নারীরা নেতৃত্ব দিতে পারে না। এটা একটা প্রচণ্ড দ্বন্দ্ব। আর এই দ্বন্দ্বের সমাধান একটাই, সেটা হলো এই নারীরা আসলে জামায়াতের আসল চেহারা দেখতে চান না। তারা চান একটা নিরাপদ, পবিত্র সমাজ যেখানে ইভটিজিং নেই, ধর্ষণ নেই। আর জামায়াত তাদের সেই স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

কিন্তু এই স্বপ্নের মূল্য কী? মূল্য হলো তাদের স্বাধীনতা, তাদের অধিকার, তাদের ব্যক্তিত্ব। জামায়াতের শাসনে হয়তো ইভটিজিং কমবে, কিন্তু কমবে কারণ মেয়েরা ঘর থেকেই বের হতে পারবে না। ধর্ষণ কমবে, কিন্তু কমবে কারণ নারীদের বিয়ে হয়ে যাবে অল্প বয়সে, তারা স্বামীর সম্পত্তি হয়ে যাবে। এটা কোনো সমাধান নয়, এটা আরও বড় সমস্যা।

আফগানিস্তানে তালেবান যা করেছে, সেটা জামায়াতের আদর্শ। তালেবান ক্ষমতায় আসার পর মেয়েদের স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে, নারীদের চাকরি নিষিদ্ধ করেছে, তাদের ঘর থেকে বের হতে হলে মাহরাম লাগবে এই আইন করেছে। একজন আফগান মন্ত্রী সাক্ষাৎকারে যা বলেছিলেন, আর শফিকুর রহমান যা বলেছেন, দুটোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। একই আদর্শ, একই চিন্তাভাবনা, একই লক্ষ্য।

এখন যে নির্বাচন আসছে, সেটা নিয়ে জামায়াত মরিয়া। তারা যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। আর তার জন্য তারা যা করছে সেটা দেখলে বুঝা যায় তাদের নৈতিকতার মান কোথায়। তারা তাদের নারী কর্মীদের দিয়ে ভোটারদের এনআইডি সংগ্রহ করাচ্ছে। মোবাইলে মেসেজ দেওয়ার জন্য এনআইডি লাগবে এই মিথ্যা বলে তথ্য সংগ্রহ করছে। এই এনআইডি দিয়ে কী করবে? ভোট জালিয়াতি। ভুয়া ভোট দেওয়া। এটাই তাদের গণতন্ত্র।

আর মজার ব্যাপার হলো, যে নারীরা এই কাজ করছেন, তারা নিজেরাই জানেন না তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা মনে করছেন তারা দলের জন্য ভালো কাজ করছেন। কিন্তু আসলে তারা একটা জালিয়াতিতে অংশ নিচ্ছেন। আর এই জালিয়াতি ধরা পড়লে দায় কার ওপর আসবে? এই সাধারণ কর্মীদের ওপর। শফিকুর রহমান তো নিরাপদে বসে থাকবেন।

জুলাই ২০২৪ এ যা হয়েছিল, সেটা ছিল একটা সুপরিকল্পিত অভ্যুত্থান। একে দাঙ্গা বলা যায়, অভ্যুত্থান বলা যায়, ষড়যন্ত্র বলা যায়। যে নামেই ডাকি না কেন, সত্য একটাই, সেটা হলো একটা নির্বাচিত সরকারকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এর পেছনে ছিল জামায়াত, বিএনপি আর তাদের দেশি-বিদেশি মদদদাতারা।

বিদেশি টাকা এসেছে, সেটা এখন আর গোপন কিছু নয়। কোন দেশ থেকে এসেছে, কারা পাঠিয়েছে, সেসব তথ্য আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে। ইসলামী জঙ্গি সংগঠনগুলো সহায়তা করেছে, রাস্তায় নেমেছে, সহিংসতা করেছে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, সামরিক বাহিনী নিরপেক্ষ থাকেনি। তারা সরকারের পক্ষে না গিয়ে, অভ্যুত্থানকারীদের পক্ষে গিয়েছে। এটা কু ছাড়া আর কিছু নয়।

আর এই পুরো অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন কে? মুহাম্মদ ইউনূস। একজন লোক যিনি গরিব মানুষের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে ব্যবসা করেছেন, আর সেই কাজের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। মাইক্রোক্রেডিট নামে যা চালু করেছিলেন, সেটা আসলে সুদের ব্যবসা। গরিব নারীদের টার্গেট করে, তাদের ছোট ছোট ঋণ দিয়ে, তারপর বিশাল সুদ আদায় করে ব্যবসা করেছেন। এই লোককে এখন দেশের সর্বোচ্চ পদে বসানো হয়েছে, কোনো নির্বাচন ছাড়াই, কোনো গণরায় ছাড়াই।

ইউনূস সরকারের বৈধতা কী? কোনো নেই। এটা একটা অবৈধ সরকার। একটা অস্থায়ী ব্যবস্থা যেটা চলছে শুধুমাত্র কারণ সামরিক বাহিনী সমর্থন করছে। আর এই সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হবে, সেটা কতটা নিরপেক্ষ হবে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

জামায়াত, বিএনপি আর ইউনূস চক্র এখন একসাথে কাজ করছে। তিনটা শক্তি, তিনটা আলাদা আদর্শ, কিন্তু একটাই লক্ষ্য – ক্ষমতা দখল করা। জামায়াত চায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে। বিএনপি চায় পুরনো ক্ষমতায় ফিরে যেতে। ইউনূস চায় নিজের প্রভাব বজায় রাখতে। তিনজনের স্বার্থ এক হয়েছে, তাই তারা একসাথে।

বিএনপি একটা অদ্ভুত দল। জিয়াউর রহমান এই দল তৈরি করেছিলেন সামরিক শাসক হিসেবে ক্ষমতায় বসে। তিনি নিজেই ছিলেন অবৈধ। আর তিনিই যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে এনেছিলেন। জামায়াতকে বৈধতা দিয়েছিলেন। রাজাকারদের পুনর্বাসন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে তিনি একটা রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছিলেন। আর সেই কাঠামোর ফল হলো বিএনপি।

বিএনপির ইতিহাস দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের ইতিহাস। খালেদা জিয়ার আমলে দুর্নীতি যে পর্যায়ে গিয়েছিল, সেটা এখন আর গোপন কিছু না। তারেক রহমান দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডিত। বিএনপির নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সবাই দেখেছে। এই দলের শাসনামলে দেশে বোমা হামলা হয়েছে, জঙ্গিবাদ মাথা চাড়া দিয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে। এটাই তাদের রেকর্ড।

এখন এই তিন শক্তি মিলে যে বাংলাদেশ তৈরি করতে চায়, সেটা হবে একটা ধর্মীয় মৌলবাদী রাষ্ট্র। যেখানে গণতন্ত্র থাকবে শুধু নামে, আসলে থাকবে একদলীয় শাসন। যেখানে মানবাধিকার থাকবে কাগজে-কলমে, বাস্তবে থাকবে দমন-পীড়ন। যেখানে নারীরা থাকবে ঘরে বন্দি। যেখানে সংখ্যালঘুরা থাকবে ভয়ে। যেখানে মুক্তচিন্তা হবে অপরাধ।

বাংলাদেশে নারীরা এখন যেখানে আছেন, সেখানে পৌঁছাতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। গার্মেন্টস সেক্টরে ৪০ লাখ নারী কাজ করছেন। এই সেক্টর থেকে বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়। এই টাকা কে আনছে? নারীরা। গ্রামে কৃষিকাজে নারীরা সমান অবদান রাখছেন। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, প্রশাসক সব জায়গায় নারীরা আছেন। স্কুলে মেয়েদের ভর্তির হার ছেলেদের চেয়ে বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েরা এখন সমান সংখ্যায়।

এই যে অগ্রগতি, এটা কি এমনি এমনি হয়েছে? না। এর জন্য নীতি তৈরি করতে হয়েছে, আইন বানাতে হয়েছে, মানসিকতা পরিবর্তন করতে হয়েছে। আর এখন জামায়াত এসে বলছে এসব বাদ দিয়ে নারীদের ঘরে ফিরে যেতে হবে। কারণ আল্লাহ তাদের বাচ্চা জন্ম দেওয়ার জন্য বানিয়েছেন, দেশ চালানোর জন্য নয়।

এই যুক্তি শুধু হাস্যকরই নয়, বিপজ্জনকও। কারণ এই যুক্তি মেনে নিলে নারীদের পুরো অস্তিত্বই শুধুমাত্র প্রজননে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। তারা মানুষ হিসেবে থাকে না, হয়ে যায় একটা যন্ত্র। আর এটাই জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি। তারা নারীদের মানুষ হিসেবে দেখে না, দেখে একটা প্রজনন যন্ত্র হিসেবে, একটা সেবাদাসী হিসেবে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই দেশের নারীরা কি এটা মেনে নেবেন? যে নারীরা শিক্ষিত, যারা চাকরি করছেন, যারা স্বাবলম্বী, তারা কি চাইবেন যে তাদের মেয়েরা আবার সেই পুরনো অন্ধকারে ফিরে যাক? যে মায়েরা নিজের রোজগারে সংসার চালাচ্ছেন, তারা কি চাইবেন যে তাদের মেয়েরা শুধু স্বামীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকুক?

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, অনেক নারীই জামায়াতকে সমর্থন করছেন। এটা একটা প্রচণ্ড বিরোধাভাস। নিজের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া। কিন্তু এটা হচ্ছে। কারণ জামায়াত খুব কৌশলে এই নারীদের মগজ ধোলাই করেছে। তাদের বলা হয়েছে যে বাইরের পৃথিবী বিপজ্জনক, পুরুষরা খারাপ, একমাত্র ইসলামী শাসনেই তারা নিরাপদ থাকবে। আর তারা সেটা বিশ্বাস করেছেন।

এই যে মানসিক দাসত্ব, এটা ভাঙা খুবই কঠিন। যে মেয়ে বিশ্বাস করে যে তার জায়গা ঘরে, সে কখনো ঘর থেকে বের হওয়ার স্বপ্ন দেখবে না। যে মেয়ে বিশ্বাস করে যে পুরুষের অধীনে থাকাই তার নিয়তি, সে কখনো স্বাধীনতার জন্য লড়বে না। আর জামায়াত এই বিশ্বাসটাই তৈরি করছে তাদের নারী সমর্থকদের মধ্যে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত