Wednesday, February 4, 2026

নতুন যুগের নতুন রূপকথা: হ্যাকিং নয়, ধরা পড়ার পর জামাত আমিরের পিঠ বাঁচানোর নোংরা খেলা

Share

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডক্টর শফিকুর রহমানের সেই বিতর্কিত পোস্টের পর যখন চারদিক থেকে সমালোচনার ঝড় উঠল, তখন হঠাৎ করেই শোনা গেল তার অ্যাকাউন্ট নাকি হ্যাক হয়েছিল। শুনে মনে হলো এটা কোন নতুন ধরনের কমেডি শো চলছে। ২০০৭ সালে হলে হয়তো এই গল্প চলত, কিন্তু ২০২৬ সালে এসে এই রকম একটা ফাঁপা বাহানা দিয়ে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা মানে নিজেদের বুদ্ধিমত্তা নিয়েই প্রশ্ন তোলা।

প্রথম কথা হলো, জামায়াত-শিবিরের নিজস্ব একটা পুরো সাইবার টিম আছে যেটা শুধু বাংলাদেশেই না, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। এই টিম সার্বক্ষণিক তাদের শীর্ষ নেতাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পাহারা দেয়। এমন একটা সংগঠিত গ্রুপের আমিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মানুষের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হবে, এটা যে বিশ্বাস করে সে হয় একেবারেই প্রযুক্তি সম্পর্কে কিছুই জানে না, নয়তো ইচ্ছা করেই চোখ বন্ধ করে আছে।

দ্বিতীয়ত, যে পোস্টটা করা হয়েছিল সেটার সাথে শফিকুর রহমানের আগের দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকার আর বক্তব্যের হুবহু মিল। তাহলে কি হ্যাকার তার মাথার ভেতরে ঢুকে চিন্তা পড়ে নিয়ে পোস্ট করেছে? নাকি সত্যি সত্যিই এটা তার নিজের কথাই ছিল? কমন সেন্স বলে দ্বিতীয়টাই সত্য। কিন্তু যখন দেখল মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, তখন দ্রুত পিছু হটার জন্য এই হ্যাকিং নাটক সাজানো হলো।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হলো, তথাকথিত হ্যাকিংয়ের সময়েও অ্যাকাউন্ট থেকে একদম স্বাভাবিক পোস্ট হতে থাকল। হ্যাকাররা সাধারণত অ্যাকাউন্ট দখল করলে হয় অদ্ভুত লিংক শেয়ার করে, নয়তো পুরো অ্যাকাউন্ট লক করে দেয়। কিন্তু এখানে হ্যাকার নাকি জামায়াতের প্রচারণার কাজও করে দিচ্ছিল। এমন দয়ালু হ্যাকার পৃথিবীতে কোথায় পাওয়া যায় একটু বলবেন?

চতুর্থত, একটা ভেরিফাইড এক্স অ্যাকাউন্টে টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন থাকে। মানে শুধু পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢোকা যায় না, ফোনে একটা কোড আসে সেটা দিতে হয়। তাহলে হ্যাকার কি শফিকুর রহমানের ফোনও হ্যাক করেছিল? আর যদি সত্যিই হ্যাক হয়ে থাকে, তাহলে এক্স থেকে যে ইমেইল নোটিফিকেশন আসার কথা, রিকভারি প্রসেসের যে স্ক্রিনশট থাকার কথা, সেগুলো কোথায়? একটাও দেখানো হলো না। কারণ দেখানোর মতো কিছু নেই।

পঞ্চমত, এক্স এর নিজস্ব পলিসি অনুযায়ী একটা হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট রিকভার করতে ন্যূনতম ১ থেকে ৩ কর্মদিবস লাগে। আর যদি ইমেইল পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয় তাহলে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগতে পারে। কিন্তু এখানে দেখা গেল ৪ ঘণ্টারও কম সময়ে অ্যাকাউন্ট রিকভার হয়ে গেছে। এটা কি কোনো জাদু নাকি মিরাকল? নাকি আসলেই কোনো হ্যাকিং হয়নি, শুধু মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা হয়েছে?

আরও মজার ব্যাপার হলো, এক্স হ্যাক হলেও ফেসবুক থেকে একটা পোস্টও গেল না। হ্যাকার কি শুধু এক্স পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল? নাকি ফেসবুক তার পছন্দ নয়? এই ধরনের অসংগতি দেখলেই বোঝা যায় পুরো ব্যাপারটাই একটা পরিকল্পিত মিথ্যাচার।

এখন আসল কথায় আসি। ২০২৪ সালে যে দাঙ্গা হলো, যে অরাজকতা সৃষ্টি হলো, যেভাবে একটা নির্বাচিত সরকারকে সামরিক সমর্থনে উৎখাত করা হলো, সেখানে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা কী ছিল সেটা সবাই জানে। বিদেশি অর্থায়ন, ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের সহায়তা আর সামরিক বাহিনীর একাংশের প্রত্যক্ষ মদদে তারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। আর এখন ক্ষমতায় বসে আছে ইউনুস আর তার দোসররা, যারা অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে রেখেছে।

জামায়াত কখনোই দেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না। ১৯৭১ সালে তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে ছিল। যুদ্ধাপরাধীরা তাদের সংগঠনেরই মানুষ। আর এখন তারা আবার সেই পুরনো কায়দায় দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ধর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে।

যে সংগঠনের নেতারা নিজেদের কথার দায় নিতে পারে না, যারা একটা পোস্ট করে পরে হ্যাকিংয়ের গল্প ফাঁদে, তারা দেশ চালাবে কীভাবে? তাদের কাছে কি কোনো নৈতিকতা আছে? কোনো সততা আছে? নাকি শুধুই ক্ষমতার লোভ আর নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের নেশা?

ইউনুস আর জামায়াতের এই অপবিত্র আঁতাত দেশের জন্য বিপজ্জনক। একজন সুদী মহাজন যার নোবেল পুরস্কার নিয়েই প্রশ্ন আছে, তাকে দিয়ে দেশ চালানো হচ্ছে। আর পাশে আছে একটা যুদ্ধাপরাধী সংগঠন যেটা কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নেয়নি। এরা মিলে দেশকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে সেটা ভাবলে গা শিউরে ওঠে।

শফিকুর রহমানের এই হ্যাকিং নাটক আসলে তাদের পুরো চরিত্রের একটা নমুনা মাত্র। মিথ্যা বলা, ভণ্ডামি করা, আর ধরা পড়লে নতুন গল্প ফাঁদা, এটাই তাদের স্বভাব। কিন্তু মানুষ এখন আর সেই আগের মতো নেই। প্রযুক্তি সবার হাতে, তথ্য সবার কাছে। এই রকম সস্তা নাটক দিয়ে আর মানুষকে বোকা বানানো যাবে না।

যে সংগঠন নিজেদের নেতার একটা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের দায় নিতে পারে না, তারা দেশের দায়িত্ব নেবে কীভাবে? এই প্রশ্নের জবাব তাদের কাছে নেই। আছে শুধু মিথ্যা, ভণ্ডামি আর ক্ষমতার লোভ। আর এই লোভ চরিতার্থ করতে তারা যেকোনো মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে, যেকোনো নাটক করতে পারে। কিন্তু সত্যি কথা হলো, মানুষ আর এই নাটকে বিশ্বাস করে না। বিশ্বাস করে না এই মিথ্যাচারে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত