Monday, February 9, 2026

হাদী প্রজেক্টের মেয়াদ ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ পর্যন্ত: হাদীর ঠাণ্ডা লাশে জামাতের রাজনীতি গরম

Share

হাদী মরেছে পঞ্চাশ দিন হয়ে গেল। এই পঞ্চাশ দিনে হাদীর লোকলস্করদের কারো মাথায় আসেনি যে যমুনা ঘেরাও করতে হবে। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক পাঁচ দিন আগে হঠাৎ করেই মনে পড়ে গেল। কাকতালীয় ব্যাপার দেখো, যখন আইন করে সব ধরনের সভা-সমাবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ঠিক তখনই হাদীর বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামতে হবে। এত দিন কোথায় ছিল এই বিচারের দাবি? হাদীর লাশ তো এতদিন মাটিতে মিশে যাওয়া শুরুও হয়ে গেছে, কিন্তু জামাত-শিবিরের রাজনীতি গরম হয়ে উঠল নির্বাচনের ঠিক আগে আগে।

জাবের নামের এক ছেলেকে নাকি গুলি করা হয়েছে। জুমা নামের এক মেয়েকে নাকি বুট দিয়ে পেটানো হয়েছে। এই গল্প ছড়ানো হলো হাজার হাজার একাউন্ট থেকে। কিন্তু ভিডিও দেখলে সত্যিটা পরিষ্কার। জুমা নিজেই পুলিশকে চড় মেরেছে, গালাগাল করেছে। জাবের আর তার মা মিলে পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর দাঁড়িয়ে যেভাবে উস্কানি দিয়েছে, সেটা দেখলে যে কোনো দেশেই তাদের জেলে পচতে হতো। আমেরিকায় হলে সেকেন্ডেই গুলি খেত, বেলজিয়ামে হলে মাটিতে আছড়ে ফেলে হাতকড়া পরানো হতো। কিন্তু এখানে পুলিশ ধৈর্য ধরে রইল, আর সেই ধৈর্যকেই পুঁজি করে প্রচার করা হলো পুলিশ নাকি নির্যাতন করেছে।

এই যে পরিকল্পিত মিথ্যাচার, এটা কোনো এলোমেলো ঘটনা না। জামাত-শিবির জানে কীভাবে একটা ঘটনাকে বিকৃত করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে হয়। হাদীকে তারা পুরোপুরি ক্যাপিটালাইজ করেছে। মুখে বলে হাদী নাকি তাদের কেউ না, কিন্তু প্রতিটা মিছিলে, প্রতিটা পোস্টারে হাদীর ছবি। এই ভণ্ডামি আর কতদিন চলবে? যে সরকার নিজেই জামাতের ছত্রছায়ায় টিকে আছে, সেই সরকারের কাছে বিচার চাওয়াটা তো রসিকতা ছাড়া আর কিছু না।

ইউনুস যেভাবে ক্ষমতায় এসেছে, সেটা তো ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়েই থাকবে। জুলাই মাসে যে দাঙ্গা বাধানো হয়েছিল, সেটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। বিদেশি টাকা, ইসলামি জঙ্গিদের সহায়তা, আর সামরিক বাহিনীর নীরব সমর্থন মিলিয়ে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। এটা কোনো বিপ্লব না, এটা সুপরিকল্পিত অভ্যুত্থান। আর সেই ক্যুয়ের পেছনে যারা ছিল, তারা এখন ক্ষমতায় বসে লুটপাটে ব্যস্ত।

জামাত-শিবিরের স্বার্থের জন্য এমন কোনো নোংরামি নেই যেটা তারা করতে পারে না। নিরীহ মানুষের মৃত্যুকে তারা ভোটের হাতিয়ার বানাতে পারে। মিথ্যা প্রচার করে পুরো দেশকে বিভক্ত করতে পারে। আর এখন নির্বাচনের ঠিক আগে এসে হাদীর নাম নিয়ে যে নাটক চলছে, সেটা আর কিছু না, শুধুমাত্র সিম্প্যাথি আদায়ের খেলা। বারো তারিখের পর দেখা যাবে হাদীর নাম আর কেউ মুখে নেবে না। জামাত জিতুক বা হারুক, হাদী প্রজেক্ট শেষ হয়ে যাবে। কারণ হাদী তাদের কাছে মানুষ ছিল না, ছিল শুধু একটা রাজনৈতিক হাতিয়ার।

যে দেশে একটা ছেলের মৃত্যুকে নিয়ে এভাবে ব্যবসা করা হয়, সেই দেশে আর কী আশা করা যায়? ইউনুস আর তার দোসররা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এই দেশে সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য মুছে যাবে। জামাত-শিবির যতদিন রাজনীতি করবে, ততদিন নিরীহ মানুষের মৃত্যু তাদের কাছে শুধুই ভোটের বাক্স ভরার উপকরণ হয়ে থাকবে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত