Monday, February 9, 2026

নিজেদের কবর খোঁড়া দেখেও বুঝছে না ইউনুস-জামায়াত কী করতে যাচ্ছে বিএনপির সাথে!

Share

অপারেশন ফুলমুন। নামটা শুনতে যতই কাব্যিক লাগুক, আসল উদ্দেশ্য একদম নগ্ন। নির্বাচনের ৪৮ ঘন্টা আগে থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরপাকড় করে জেলে পুরে দেওয়া হবে, আর অজুহাত হবে অস্ত্র উদ্ধার আর সন্ত্রাস দমন। এনএসআই, ডিজিএফআই, সেনা গোয়েন্দা আর মজার ব্যাপার হলো স্থানীয় জামাত-শিবিরের কর্মীরা মিলে ইতিমধ্যে তালিকা বানিয়ে ফেলেছে কাদের গ্রেফতার করা হবে। জামাত নিজেই ঠিক করে দিচ্ছে কোন বিএনপি নেতাকে আটক করতে হবে। এর চেয়ে বড় রসিকতা আর কী হতে পারে?

ইউনুস আর তার পেছনের শক্তিগুলো জানে যে খোলা মাঠে নির্বাচন হলে জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থন কতটুকু। শূন্যের কাছাকাছি। তাই পুরো খেলাটাই সাজানো হচ্ছে এমনভাবে যেন মাঠে একটা দলই থাকে। বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা, নতুন যোগ দেওয়া কর্মী, পোলিং এজেন্ট সবাইকে তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা। মানে যারা নির্বাচনী কাজ করবে, ভোট পাহারা দেবে, তাদেরকেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। এরপর নির্বাচন হবে কার সাথে? খালি মাঠে গোল দিয়ে জেতার এই ব্যবস্থা।

জুম মিটিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে যে পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে, সেটা মূলত একটা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের নকশা। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার সবাইকে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে। কমান্ডিং অফিসাররা নেতৃত্ব দেবেন এই অভিযানে। মানে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করতে।

যেসব বিএনপি নেতা আওয়ামী লীগ থেকে দল বদল করে এসেছেন, তাদের নাম বিশেষভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কারণ এরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এরা জানে কীভাবে রাজনীতির মাঠ গরম করতে হয়, কীভাবে জনসমর্থন সংগঠিত করতে হয়। তাই এদেরকে সরিয়ে দিতে হবে আগেই। রংপুরে জাতীয় পার্টির কর্মীদেরও নজরদারিতে রাখা হবে কারণ সেখানে তারাও একটা ফ্যাক্টর।

সবচেয়ে নোংরা দিকটা হলো সাজানো অস্ত্র উদ্ধারের পরিকল্পনা। মানে যাকে ধরা হবে, তার কাছ থেকে অস্ত্র পাওয়া যাবেই। কারণ আগে থেকেই রেখে দেওয়া থাকবে। জুলাইয়ের মামলার অজ্ঞাতনামা আসামীদের তালিকায় এদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। একধাক্কায় এদেরকে গুরুতর অপরাধী বানিয়ে দেওয়া হবে। জামিন পাওয়া তো দূরের কথা, আদালতে হাজির হওয়ার সুযোগই থাকবে না নির্বাচনের আগে।

বিএনপির নেতারা কি এই ফাঁদটা দেখতে পাচ্ছেন? মনে হয় না। তারা এখনো মনে করছেন যে এই নির্বাচনে জিতে তারাই ক্ষমতায় আসবেন। তারা বুঝতে পারছেন না যে পুরো খেলাটাই সাজানো তাদের বিরুদ্ধে। ইউনুস তাদেরকে ব্যবহার করছেন জামায়াতের জন্য মাঠ তৈরি করতে। বিএনপি যত দুর্বল হবে, জামায়াত তত শক্তিশালী হবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা যত জেলে যাবে, জামায়াতের পথ তত পরিষ্কার হবে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে যে দাঙ্গা হয়েছিল, সেটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। বিদেশি অর্থায়ন, ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণ আর সামরিক বাহিনীর একাংশের সমর্থন ছিল সেখানে। একটা নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে ইউনুস ক্ষমতায় এসেছেন। এখন সেই ক্ষমতা তিনি হস্তান্তর করতে চান জামায়াতের হাতে। কিন্তু সরাসরি করলে দেশে-বিদেশে প্রশ্ন উঠবে। তাই বিএনপিকে ব্যবহার করা হচ্ছে ঢাল হিসেবে।

ইউনুস জানেন যে তার বৈধতা নেই। জানেন যে তিনি ক্যু করে ক্ষমতায় এসেছেন। তাই তার দরকার এমন একটা শক্তি যারা তাকে রক্ষা করবে, যাদের কাছে গণতন্ত্র বা নির্বাচন কোনো বিষয় না। জামায়াত সেই ভূমিকা পালন করতে পারে। তাদের আদর্শিক অবস্থান, তাদের সাংগঠনিক কাঠামো, সবকিছুই এমন যে ক্ষমতায় গেলে তারা আর ছাড়বে না। ইউনুস চান এই স্থায়িত্ব, এই নিরাপত্তা।

বিএনপির নেতারা ভাবছেন তারা ক্ষমতার অংশীদার হবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো তারা কোরবানির পশু। ১০ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত যে অভিযান চালানো হবে, সেটা তাদের রাজনৈতিক মৃত্যুর সনদপত্র। নির্বাচনের দিন তাদের মাঠে কেউ থাকবে না। পোলিং এজেন্ট থাকবে না, কর্মী থাকবে না, নেতা থাকবে না। ভোট হবে, ফলাফল আসবে, কিন্তু সেটা হবে জামায়াতের পক্ষে। বিএনপি হয়তো দু-একটা আসন পাবে, যেটুকু দিলে প্রহসনটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।

সুদী মহাজন ইউনুসের কাছে এই দেশটা একটা ব্যবসায়িক প্রকল্প ছাড়া আর কিছু না। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের সাথে জোট বেঁধেছেন নিজের স্বার্থে। জামায়াত তাকে ক্ষমতায় রাখবে, তিনি জামায়াতকে রাষ্ট্রক্ষমতা দেবেন। এটাই সমীকরণ। বিএনপি এই সমীকরণে শুধু একটা ভেরিয়েবল, যাকে ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হবে।

অপারেশন ফুলমুনের পুরো পরিকল্পনায় যে জামাত-শিবিরের কর্মীরা তথ্য সরবরাহ করছে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। নিজেদের প্রতিপক্ষকে চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জামায়াতকে। তারাই ঠিক করছে কোন বিএনপি নেতা তাদের জন্য হুমকি, কাকে সরাতে হবে। এবং রাষ্ট্রযন্ত্র সেই তালিকা অনুযায়ী কাজ করছে। এর চেয়ে বড় অপমান বিএনপির জন্য আর কী হতে পারে? তাদের নিজেদের প্রতিপক্ষরাই ঠিক করে দিচ্ছে তাদের কোন নেতাকে জেলে পাঠাতে হবে।

বিএনপির এই রাজনৈতিক অন্ধত্ব বিস্ময়কর। তারা দেখছেন না যে পুরো ব্যবস্থাটাই তাদের বিরুদ্ধে সাজানো। তারা এখনো আশা করছেন যে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় যাবেন। কিন্তু ইউনুস আর জামায়াত তাদের জন্য যে কবর খুঁড়ছে, সেটা তারা দেখতে পাচ্ছেন না। ১০ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে যখন অভিযান শুরু হবে, তখন তারা বুঝবেন। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত