Share
একজন লোক রশ্মিকার সৌন্দর্য আর ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের র্যাঙ্কিং নিয়ে ওয়াজ করে। নারী-লোলুপতা আর মিথ্যাচারের অভিযোগে ভরা থাকে তার অধিকাংশ আলাপ। আর এখন সেই লোকই এখন জাতীয় সংসদে বসতে যাচ্ছে! এটা কোনো স্ক্যান্ডাল না। এটা একটা সিস্টেমের সাকসেস স্টোরি।
আমির হামজা প্রমাণ করে দিলেন যে এই দেশে চরিত্র কোনো যোগ্যতা না। যোগ্যতা হলো ধর্মীয় আবেগ কতটা দক্ষভাবে ম্যানেজ করতে পারো। টুপি পরে মাইকে চিৎকার করতে পারলেই হলো। বাকি সব মাফ।
কী করেছেন আমির হামজা? কনটেন্ট বানিয়েছেন। ভাইরাল হয়েছেন। ভিউ পেয়েছেন। এখন সংসদে বসে সেই একই কাজ করবেন। অর্থনীতি? শিক্ষা? স্বাস্থ্য? না, সেসব বোরিং। রশ্মিকার সৌন্দর্য নিয়ে আলোচনা হবে। জাতীয় সংসদ হবে কনটেন্ট ক্রিয়েশন হাব।
সমস্যা কি আমির হামজা? না। সমস্যা হলো যে সকল ভোটাররা তাকে পাঠিয়েছেন সংসদে। বছরে গড়ে ৩টা বইও পড়ে না যে দেশের মানুষ, আইকিউ সূচকে যাদের অবস্থান তলানিতে, তারা কাকে ভোট দেবে? যে দেশে শিক্ষা মানে সার্টিফিকেট, চিন্তা মানে না, সেখানে হুজুরের টুপিই যথেষ্ট।
দশকের পর দশক ধরে মানুষকে সচেতন নাগরিক না বানিয়ে আবেগী অনুসারী বানানো হয়েছে। ফলাফল সামনে। আমির হামজা সংসদে। এটাই গণতন্ত্রের সেই ফাঁকফোকর, যা দিয়ে আজকে এমন মানুষ সংসদে ঢুকে পড়ছে। ধর্ম এখানে ঢাল। ঢালের পেছনে লুকিয়ে সব করা যায়। প্রশ্ন তুললেই “ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র।” ব্যস, খেলা শেষ।
যেই ভোটার নিজে পড়ে না, চিন্তা করে না, প্রশ্ন করে না, সেই ভোটার আমির হামজাকে পাঠায়। তারপর অবাক হয় দেশ এগোচ্ছে না কেন।কোনো ভিনগ্রহবাসী বা রোবট এসে তো ভোট দেয়নি। মানুষই দিয়েছে। এমন মানুষ যারা রশ্মিকার সৌন্দর্য নিয়ে ওয়াজকে যোগ্যতা মনে করে।
অভিনন্দন আমির হামজা! আপনি জিতেননি। জিতেছে একটা পঁচাগলা, ঘিলুবিহীন সমাজব্যবস্থা।
আরো পড়ুন

