Monday, February 16, 2026

সাজানো নির্বাচনে জয়ের পর দেশজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে বিএনপি

Share

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকেই সারা দেশে চরম তাণ্ডব শুরু করেছে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গত শনিবার রাতে ভোলা ও রাজশাহীতে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণে আ. রহিম ভুট্টো নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে। অন্যদিকে, রাজশাহী মহানগরীর মতিহার এলাকায় নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে মোহাম্মদ মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। নিহতের ডান পায়ে গুলি লাগার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

সহিংসতার চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বাগেরহাটে। সেখানে গত দুই দিনে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৯০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ২০টিরও বেশি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এছাড়া ফরিদপুরের সালথা, কিশোরগঞ্জ এবং মুন্সিগঞ্জে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নাটোরেও রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে; বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন এবং জামায়াত নেতাদের ছয়টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পুলিশ এক বিএনপি নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের কর্মীদের ওপর ২১টি হামলার তালিকা প্রকাশ করে এই সহিংসতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছে। দলটির পক্ষ থেকে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) অভিযোগ করেছে যে, নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনের মৃত্যুসহ শতাধিক স্থানে হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীদের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। তবে দেশজুড়ে এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিন্তু নির্বাচনের পর জয়ী দলের সমর্থকদের দ্বারা যে ধরনের সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে, তা নবগঠিত সরকারের নৈতিক ভিতকে শুরুতেই দুর্বল করে দিতে পারে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত