Share
পাসপোর্ট অফিসে এখন সরকারি দালাল বসবে। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত, লুকোচুরি নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিজেই বললেন, দলিল লেখকের মতো পাসপোর্ট অফিসেও নিবন্ধিত লোক থাকবে, তারা সার্ভিস চার্জ নিয়ে কাজ করে দেবে। চমৎকার। দেশের মানুষ এতদিন যে দালালদের গালি দিয়ে আসছিল, এখন সেই দালালিটাকেই সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। পার্থক্য শুধু এটুকুই, এখন দালালের গায়ে সরকারি ব্যাজ লাগানো থাকবে।
বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে ১২ ফেব্রুয়ারির একটা নির্বাচনের মাধ্যমে, যেখানে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না। মানুষ ভোট দিতে যায়নি। যে নির্বাচনে প্রতিযোগিতা নেই, জনঅংশগ্রহণ নেই, সেটা নির্বাচন না, সেটা একটা আনুষ্ঠানিকতা। এই আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে এখন তারা দেশ চালাচ্ছেন, আর চালানোর নমুনা হলো পাসপোর্ট অফিসে দালাল নিয়োগ।
সমস্যাটা কোথায় ছিল, সেটা সবাই জানে। পাসপোর্ট অফিসের ভেতরের লোকজন মানুষকে ঘোরায়, হয়রানি করে, টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখে। সমাধান কী হওয়া উচিত ছিল? ওই ভেতরের লোকগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা, ডিজিটাল ব্যবস্থা আরও শক্ত করা, অনলাইন আবেদন সহজ করা, নজরদারি বাড়ানো। কিন্তু বিএনপি সরকার যা করল, সেটা হলো হয়রানিটাকেই আনুষ্ঠানিক রূপ দিল। বলল, ঠিক আছে, ভেতরে যদি সমস্যা থাকেই, তাহলে বাইরে থেকে লোক দাও, তারা টাকার বিনিময়ে কাজটা করে দেবে। মূল সমস্যা যেখানে, সেখানে হাত না দিয়ে একটা নতুন স্তর তৈরি করা হলো। এটা সমাধান না, এটা সমস্যার উপর একটা নতুন আস্তর চাপানো।
আর কর্মসংস্থানের কথা যদি বলেন, তাহলে বলতে হয়, এই কর্মসংস্থানের ধারণাটা ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে? দেশে বেকার তরুণরা চাকরি খুঁজছে, উদ্যোক্তারা পুঁজি খুঁজছে, কৃষক ন্যায্যমূল্য খুঁজছে। আর বিএনপি সরকারের কর্মসংস্থান পরিকল্পনা হলো পাসপোর্ট অফিসে দালাল বসাও। এটাই ইনোভেশন। এটাই নতুন বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা। চাঁদাবাজিকে সমঝোতা বলা হয়েছে আগে থেকেই, এবার দালালিকে বলা হচ্ছে সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি।
জিয়াউর রহমান যে দলটা বানিয়েছিলেন সেনানিবাসে বসে, সেই দলের ইতিহাসে দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের রেকর্ড নতুন কিছু না। কিন্তু এবার একটু অন্যরকম। এবার সেটাকে নীতিমালার ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যুবদল আর ছাত্রদলের নেতারা এলাকায় এলাকায় যে চাঁদা তোলে, সেটা অন্তত বেআইনি ছিল। এখন পাসপোর্ট অফিসের দালালি হবে সরকারি নিবন্ধনে, সার্ভিস চার্জের নামে। পার্থক্যটা খালি কাগজে। কাজ একই।
মানুষের ভোগান্তি কমানোর নামে আসলে একটা নতুন চাঁদার স্তর তৈরি হচ্ছে। নিবন্ধিত দালাল আর অনিবন্ধিত দালালের মধ্যে ভুক্তভোগীর কাছে কোনো ফারাক নেই, দুইজনই টাকা নেবে, দুইজনই ব্যবস্থা করে দেবে। শুধু এখন থেকে রাষ্ট্র ওই টাকার ভাগের বৈধতা দিচ্ছে। এটাকে সংস্কার বলে না। এটাকে বলে ব্যবস্থাকে আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া।
আরো পড়ুন

