Share
ইরানে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় নিন্দা জানালেও কৌশলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম এড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১ মার্চ) এক বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় এই নেতা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানানোর কথা বললেও সেখানে কোথাও সরাসরি আমেরিকার নাম উল্লেখ করেননি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে মার্কিন ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলারও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
জামায়াত আমির মনে করেন, উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের এই পাল্টা হামলা অকার্যকর এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটাবে। এ ধরনের পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে তিনি জানান যে, সংঘাতের বিস্তার কেবল নিরীহ মানুষের দুর্ভোগই বাড়াবে। বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে দেখছেন ‘আমেরিকাকে জামায়াতের ভাসুর’ হিসেবে—যার নাম মুখে নেওয়া তাদের জন্য বারণ।
বিবৃতিতে পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম মুখে না নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। জামায়াত আমির ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে এবং সংলাপের পথ রুদ্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার বিষয়েও তার বিবৃতিতে কোনো সরাসরি প্রতিবাদ দেখা যায়নি। তিনি কেবল নাম উল্লেখ না করে বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক আইন তোয়াক্কা না করে জাতীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্যবস্তু করে হত্যার যে প্রবণতা স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, তা বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে এবং বিশ্বকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল সভাপতিত্ব করেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই বিক্ষোভকে ‘লোক দেখানো ডামি’ কর্মসূচি বলে অভিহিত করছেন। তাদের মতে, খামেনি হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে জামায়াতের তৎপরতা কেবল নয়াপল্টন এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অতীতে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো দাবিতে দূতাবাস অভিমুখে রওনা হওয়ার মতো সক্রিয়তা দেখা গেলেও এবার তেমন কিছু ঘটেনি, যা জামায়াতকে আমেরিকার ‘আজ্ঞাবহ’ দল হিসেবে চিহ্নিত করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমেরিকার সঙ্গে গোপন আঁতাত করেই জামায়াত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মাধ্যমে দেশে ‘মবের রাজত্ব’ কায়েম করতে সহায়তা করেছে। এর আগে নির্বাচনের ঠিক আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জামায়াতের বসুন্ধরা কার্যালয়ে গিয়ে আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এক হৃদ্যতাপূর্ণ সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকে দূতাবাস ও জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্র সংস্কার, বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা সংকটসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।
সার্বিকভাবে বর্তমান এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ও বিবৃতিকে অনেকে আমেরিকার প্রভাবের ছায়া হিসেবে দেখছেন, যা জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই দলটিকে মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’-এর অংশ হিসেবে অভিযুক্ত করছেন।
আরো পড়ুন

