Wednesday, March 4, 2026

বিনিয়োগ ২০০৮, রিটার্ন ২০২৬: গুলশানের বাড়িওয়ালা এখন মন্ত্রী

Share

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক কিছুই হয়েছে, কিন্তু বাড়ি ভাড়ার বিনিময়ে মন্ত্রণালয় পাওয়ার নজির এটাই প্রথম। জাকারিয়া তাহের গুলশানে তার বাড়িটা বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে দিয়েছিলেন ২০০৮ সালে। সেই বিনিয়োগের রিটার্ন এলো ২০২৬ সালে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় হিসেবে। হিসাবটা খুব পরিষ্কার।

লোকটার হলফনামা বলছে সম্পদ ২৩১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। তার বাবা এ কে এম আবু তাহের ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা, নিজে সেই ব্যাংকের পরিচালক। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন, পরে জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক। রাজনীতিতে তার পরিচিতি মূলত এটুকুই। আর আছে শুধু গুলশানের সেই বাড়িটা, যেটা দলের কাজে লেগেছিল।

এখন প্রশ্ন হলো, গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় কেন তাকে দেওয়া হলো। মানুষ প্রথমে ভাববে এটা কাকতালীয়, বাড়িওয়ালাকে বাড়ি সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়। কিন্তু এটা নিয়ে হাসার আগে একটু থামা দরকার। গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় মানে রাজউক, মানে ঢাকার জমি বরাদ্দ, মানে হাজার হাজার কোটি টাকার প্লট বণ্টনের ক্ষমতা। ২৩১ কোটি টাকার সম্পদের মালিক একজন ব্যাংক পরিচালককে এই মন্ত্রণালয় দেওয়া নিছক পুরস্কার নাকি ভবিষ্যতের বিনিয়োগ, সেটা সময়ই বলবে।

বিএনপির কথায় আসা যাক। দলটা তৈরি হয়েছিল ১৯৭৮ সালে, সেনানিবাসে বসে, এমন একজনের হাতে যিনি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেননি। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের গণভোটে হ্যাঁ-না ব্যালটের মাধ্যমে নিজেকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেই প্রক্রিয়াকে কোনো গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে নির্বাচন বলার সুযোগ নেই। সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকা দলটা এখন গণতন্ত্রের কথা বলে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে। ২০০১ থেকে ২০০৬, বিএনপির শাসনামলে হাওয়া ভবনের রাজত্ব, জ্বালানি খাতে লুটপাট, আর সারা দেশে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে বাংলাদেশ টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এই দলই এখন সংস্কারের কথা বলছে।

আর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বলার কী আছে। আওয়ামী লীগ নেই, অন্যান্য বড় দলগুলো নেই, মানুষের কোনো প্রকৃত পছন্দের সুযোগ নেই, ভোটার উপস্থিতি নিয়ে যা বলা হয়েছে তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি মন্ত্রিসভাকে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল বলার মতো সাহস কারো থাকার কথা না। কিন্তু এই মন্ত্রিসভাই এখন দেশ চালাচ্ছে, আর তার একজন সদস্য হলেন সেই ভদ্রলোক যার মূল যোগ্যতা হলো দলের অফিসের জন্য একটা বাড়ি দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশে মন্ত্রী হতে হলে কী লাগে, এই প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ছিল। কখনো লেগেছে গণআন্দোলন, কখনো দলের ভেতরে বছরের পর বছর কাজ, কখনো নির্বাচনে জেতা। এখন দেখা যাচ্ছে গুলশানে একটা ভালো বাড়ি থাকলেও চলে। যাদের গুলশানে বাড়ি নেই কিন্তু রাজনীতিতে আসতে চান, তারা এখন থেকে রিয়েল এস্টেটে মনোযোগ দিতে পারেন। বিনিয়োগটা ফলপ্রসূ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত