Share
ফরিদা আখতার বললেন, সরকারের ভেতরে থেকেও চুক্তি ঠেকাতে পারেননি। কথাটা শুনতে একদম ফেরেশতাদের সৎ স্বীকারোক্তির মতো লাগে না শুনতে একদম? কিন্তু একটু গভীরে গেলেই বোঝা যায়, এটা আসলে এক ধরনের নির্লজ্জ পারফরম্যান্স।
চুক্তি হয়েছে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ। কিন্তু প্রক্রিয়া চলছিল এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। MOU সাইন হয়েছে আগেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাঁর মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে ২০২৫ সালের জুনে। মানে, তিনি জানতেন। শুধু জানতেন না, সরাসরি প্রক্রিয়ার অংশীদার ছিলেন। তাহলে সেই মুহূর্তে তিনি কী করলেন? পদত্যাগ করলেন না। প্রকাশ্যে কিছু বললেন না। জনগণকে জানালেন না যে, কোথায় কী হচ্ছে, চুক্তির ভেতরে কী লুকিয়ে আছে, কীভাবে দেশের কৃষি আর প্রাণিসম্পদ খাতকে বিদেশি কর্পোরেটের কাছে বন্ধক দেওয়া হচ্ছে।
উবিনিগ আর নয়া কৃষি আন্দোলনে তাঁর দশকের পর দশকের কাজ আছে। বিটি বেগুনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি ছিলেন, তাঁর সংগঠন রীতিমতো গবেষণা করেছে, মাঠে নেমেছে। GMO-র বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান শুধু রাজনৈতিক না, বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক বলেই সবাই জানত। সেই মানুষটা যখন উপদেষ্টার চেয়ারে বসে দেখলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এমন একটা চুক্তি হতে চলেছে যেটা কার্যত GMO-নির্ভর ডাম্পিং-এর দরজা খুলে দেবে, তখন তাঁর কাছে একটাই নৈতিক পথ খোলা ছিল। পদত্যাগ করে বেরিয়ে আসা এবং জনগণকে সব জানানো।
সেটা তিনি করেননি।
করেননি কারণ ক্ষমতার ভাগটা ছাড়তে চাননি। ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকার যে সুবিধা, যে প্রভাব, যে পরিচিতি, সেটা ছেড়ে দেওয়া সহজ ছিল না। তাই ভেতরে ভেতরে আপত্তি জানিয়েছেন, ফাইলে চিঠি দিয়েছেন, হয়তো মিটিংয়েও কথা বলেছেন। কিন্তু যখন কথা শোনা হয়নি, তখন চেয়ার আঁকড়ে বসে থেকেছেন। চুক্তি হয়ে গেছে। তারপর সরকার পড়ে গেছে। আর এখন মঞ্চে এসে বলছেন, আমি চেষ্টা করেছিলাম, পারিনি।
এটা স্বীকারোক্তি না। এটা ব্র্যান্ড রিবিল্ডিং।
জনগন যখন বাইরে থেকে এই চুক্তির বিরোধিতা করে গেছে, ইউনূস সরকারের সমর্থকরা তাদের গালাগাল দিয়েছে, দেশদ্রোহী বলেছে, আওয়ামী দালাল বলেছে, মব অ্যাটাক চালিয়েছে। সেই সময়ে তিনি কোথায় ছিলেন? সরকারের উষ্ণ কোলের ভেতরে, চুপ করে, সুবিধা নিয়ে, আরামে।
ফরিদা আখতারের এই বক্তব্যে একটা ঐতিহাসিক প্যাটার্ন আছে। ক্ষমতায় থাকলে চুপ, ক্ষমতার বাইরে গেলে সোচ্চার। আওয়ামী লীগের আমলে বিটি বেগুনের বিরুদ্ধে লড়েছেন কারণ তখন তিনি বিরোধী পক্ষে ছিলেন। ইউনূস সরকারের আমলে GMO চুক্তির বিরুদ্ধে গলা তুলতে পারেননি কারণ তখন তিনি সরকারের ভেতরে সুবিধাভোগী ছিলেন। এখন সরকার নেই, পদ নেই, তাই আবার বিরোধী বেশে হাজির।
এটাকে নীতি বলে না। এটাকে বলে সুবিধাবাদ।
যারা ক্ষমতায় থেকে সুবিধা নেয় আর ক্ষমতা চলে গেলে বিরোধী সেজে ভিড়ে মেশে, তাদের আলাদা নাম আছে। সেটা লেখার দরকার নেই, পাঠক নিজেই বুঝবেন। হিন্ট দেই শুধু আপনাদেরকে একটা : সেই নামটা “দ” দিয়ে শুরু!
আরো পড়ুন

