Monday, April 6, 2026

দেবিদ্বারের বর্বরতা : জুলাই সন্ত্রাসী হাসনাতের এলাকায় মানুষের জীবন এখন সবচেয়ে সস্তা

Share

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক কৃষকের মৃত্যুর খবরটা শুনে মনে হচ্ছে সমাজটা আর কত নিচে নামবে? পঞ্চাশোর্ধ্ব জুলুস মিয়া শুধু একটা কুকুরকে লাথি মারার প্রতিবাদ করেছিলেন বলে প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামে কামাল হোসেন নামের লোকটি কুকুরটাকে লাথি মারছিল আর জুলুস মিয়া সেটা দেখে কথা বলতে গিয়েছিলেন। কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি হয়ে শেষে কামাল লাথি মেরে তাকে মাটিতে ফেলে দেয়। স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাটা দেখিয়ে দেয় যে যারা কুকুর বিড়ালকে নির্যাতন করতে পারে তারা মানুষকে হত্যা করতেও দুইবার ভাবে না। একটা প্রাণীকে মারতে যাদের বাধে না তারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলতে পারে খুব সহজেই।

এই ঘটনা ঘটেছে দেবিদ্বারে যেখানকার এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জুলাই সন্ত্রাসীদের দল এনসিপির লোক। আর এই দলটা এখন বিএনপির সঙ্গে মিলে দেশ চালাচ্ছে। বিএনপি তো জিয়াউর রহমানের সেনানিবাসে জন্ম নেওয়া দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর। গত ১২ ফেব্রুয়ারিতে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাদ দিয়ে জনগণের বয়কট করা একটা পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় বসেছে। এই স্বৈরশাসকদের আমলে আইনশৃঙ্খলা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষ আর নিরাপদ বোধ করে না। দেবিদ্বারের মতো এলাকায় এমন নৃশংসতা ঘটে যাওয়া আর কোনো অবাক করার বিষয় নয়।

কুমিল্লার বেশিরভাগ মানুষই ইতর আর নির্বোধ। তাদের ভালোমন্দের কোনো জ্ঞান নেই। তাই একটা কুকুরের লাথির প্রতিবাদে মানুষ মরে গেলেও এলাকায় কোনো সাড়া নেই। আর যারা নিজেদের মানবপ্রেমী বলে দাবি করে তারা এখন কোথায় আছে? কুকুর-বিড়ালের অধিকার নিয়ে কিছু বললেই তো তাদের গা জ্বলে যায়, হাউকাউ করে জোর গলায়। কিন্তু জুলুস মিয়ার মতো একজন সাধারণ কৃষক মারা গেলো আর তাদের কোনো সাড়া নেই। বিচার চাইছে না কেন তারা? তাদের এই তারাবাত্তির মতো জ্বলে ওঠা কি শুধু প্রাণীদের জন্য কেউ ভালোবাসা দেখালেই হয় আর মানুষ মরলে কিছু হয় না? জুলুস মিয়ার পাঁচ ছেলে আর দুই মেয়ে আছে। তিনি কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। এখন তার পরিবারের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কিন্তু এই সরকারের কাছে এসব মানুষের জীবনের কোনো দাম নেই।

এই ধরনের ঘটনা বারবার দেখিয়ে দেয় যে ক্ষমতাসীন দলগুলোর অধীনে সমাজটা কতটা পঁচে গেছে। বিএনপি আর এনসিপির এই জোটের আমলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বলে আর কিছু নেই। জুলুস মিয়ার মৃত্যু শুধু একটা দুর্ঘটনা নয় এটা পুরো ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রমাণ। যারা ক্ষমতায় আছে তারা এই ধরনের বর্বরতা থামাতে পারছে না কারণ তাদের নিজেদের শেকড়ই তো সন্ত্রাস আর দুর্নীতিতে ভরা। দেশের এই অবস্থা দেখে মনে হয় আরও খারাপ দিন আসছে যদি না কিছু বদলায়।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত