Share
বগুড়ায় একজন ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে বাজার থেকে তুলে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হলো, রগ কাটা হলো, ছয় দিন ছটফট করে মরলেন তিনি। আর অভিযুক্ত যুবদল নেতাকে শুধু “সাময়িক বহিষ্কার” করে দায় সারল বিএনপি। এটুকুই যথেষ্ট বুঝতে, ১২ ফেব্রুয়ারির তথাকথিত নির্বাচনের পর থেকে এই দলটা আসলে কোন পথে হাঁটছে।
আলাল শেখের অপরাধ কী ছিল? একটা সমবায় সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে দাঁড়িয়েছিলেন। ভোটের দিন বাজার থেকে সরাসরি তুলে নিয়ে গেল শফিকুল ইসলামের লোকজন। নির্জন বাঁশঝাড়ে বেঁধে রেখে এমনভাবে মারল যে হাত-পা ভেঙে দিল, রগ কেটে দিল। মানুষটা ছয়দিন লড়াই করে শেষমেশ হার মানলেন।
এখন বিএনপি বলছে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গ। একটা মানুষকে অপহরণ করে নির্যাতন করে মেরে ফেলা বিএনপির ভাষায় “শৃঙ্খলাভঙ্গ”। এই শব্দ চয়নটাই বলে দেয় দলটার ভেতরে আসলে কতটা বদলেছে।
যে দলটা ক্ষমতায় আসার আগে গলা ফাটিয়ে তথাকথিত বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কথা বলত, আলিফ-লায়লার আয়নাঘরের গল্প শোনাত, ভুয়া গুমের তালিকা হাতে নিয়ে মানববন্ধন করত, সেই দলের নেতার লোকেরাই এখন মানুষ তুলে নিয়ে রগ কাটছে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনটা কী ছিল সেটা এখন আর বিতর্কের বিষয় না। বড় দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণ যেখানে ভোটকেন্দ্রেই যায়নি, সেই ভোটে জিতে যারা “জনপ্রতিনিধি” সেজেছে, তারা আজ মন্ত্রী হয়ে বসে আছে। সেই মন্ত্রিসভার ছায়ায় থেকে দলের নেতাকর্মীরা বগুড়ার বাজারে মানুষ তুলে নিয়ে মারছে। আর মন্ত্রিসভার কেউ এ নিয়ে একটা কথাও বলেনি। নিন্দা নেই, বিবৃতি নেই, দুঃখপ্রকাশ নেই। যেন কিছুই হয়নি।
জিয়াউর রহমান যে দলটা বানিয়েছিলেন সেনানিবাসের ভেতরে বসে, সেই দলের ইতিহাস থেকে সন্ত্রাস কখনো আলাদা হয়নি। হাওয়া ভবনের দিনগুলো মনে আছে মানুষের। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, প্রতিপক্ষকে পেটানো এগুলো নতুন না। কিন্তু মানুষ ভেবেছিল হয়তো এবার একটু ভিন্ন হবে। দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থেকে, নির্যাতনের শিকার হয়ে, কিছুটা হলেও শিক্ষা নিয়েছে। সেই আশাটা বগুড়ার বাঁশঝাড়ে আলাল শেখের রগের সাথে কাটা পড়েছে।
মূলহোতা শফিকুল ইসলাম এখনো পলাতক। চারজন ধরা পড়েছে, বাকিরা আত্মগোপনে। যে সরকার ক্ষমতায় বসে আছে তারা যদি সত্যিই চাইত, একটা ফোনেই শফিকুলকে ধরিয়ে দেওয়া যেত। সেই ফোনটা হবে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। না হলে বোঝা যাবে বহিষ্কারটা লোক দেখানো ছিল, যা সবাই এমনিতেই জানে।
আরো পড়ুন

