একটি প্যারোডি এবং তিন ভগ্নিপতির উপাখ্যান

Share

গতকাল মুখপুস্তক সুহৃদ তারিক জামানের একটি পোস্টে প্রথম দেখতে পেলাম সেনাপ্রধান ওয়াকারুজ্জামানের প্রায় মুন্ডিত-মস্তক, গুমফ-বিহীন খোঁচাখোঁচা শ্মশ্রুমণ্ডিত স্থূলদর একদম অগোছালোভাবের একটি প্রতিকৃতি, যেখানে একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার চৌকষ ভাবটি একেবারেই নেই। পোস্টটিতে একটি জনপ্রিয় হিন্দিগানের চমৎকার প্যারোডিও সংযুক্ত করেছেন জনাব জামান।

ওয়াকারের পোশাক কিংবা বর্তমান অবয়ব নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে বাংলাদেশের আর কোনো সেনাপ্রধান চাকুরীরত অবস্থায় এরূপ ‘সুন্নতি’ মুখের ছাঁট কখনোই দেখান নি। সরকারি অর্থে অর্থাৎ জনগণের অর্থে হজ্জ্ব করে এসেছেন, আইনগত বাধা না থাকলে তিনি এই ‘পোস্ট-হজ্জ্ব’ সুরত প্রদর্শন করতেই পারেন। অবশ্য আমার জানামতে হজ্জ্ব কিংবা উমরাহ করার সময়ে মস্তক সম্পূর্ণ মুন্ডন করার কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নেই, পুরো মাথা থেকে কিছু কাটছাঁট করলেই চলে। তবে সম্পূর্ণ মুন্ডন করাটা ‘বেহেতর’, তাই অনেকেই করে থাকেন।

আমার মাথাব্যথার কারণ, একজন ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে তিনি তাঁর জামাতি কানেকশন শুরুতেই মুখ ফস্কে প্রকাশ করে দিয়েছেন। আসল মাথাব্যথা তিনি সংবিধান এবং জাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, জনগণের জানমাল রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, মাফিয়াতন্ত্রকে সহায়তা করেছে, সন্ত্রাসীদের প্রতিরক্ষা দিয়েছে।

আমিও জামান সাহেবের পোস্টে একটি ক্ষুদ্র প্যারোডি অভিমত হিসেবে পোস্ট করলাম। পরে সেটিকে বর্ধিত করলাম। প্যারোডিটি রাহুল দেববর্মনের একটি বিখ্যাত বাংলা গানের প্যারোডি। মান নিয়ে আমি নিজেই সন্তুষ্ট নই। আসলে ছন্দ ঠিক রেখে বক্তব্য সঠিকভাবে প্রকাশ করাটা আমার কাছে সহজ মনে হয় না, তবুও লিখলাম। তবে শুরুতে ইতিহাস থেকে কিছু ঘটনা তুলে ধরি।

বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন অধিপতি ছিলেন নবাব সিরাজ উদ দৌলা। ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সৈন্যদলের সেনাবাহিনীর কাছে পরাস্ত হলো নবাবের বিশাল বাহিনী, সেই সাথে অস্তমিত হলো বাংলার স্বাধীনতার সূর্য্য। পরাজয়ের কারণ ছিল অমাত্যদের ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা। বিশ্বাসঘাতকদের প্রধান ছিলেন নবাবের ভগ্নিপতি সেনাপতি মীর জাফর আলী খান। তখন থেকেই বাংলাদেশে মীরজাফর শব্দটির অর্থ বিশ্বাসঘাতক।

১৭৯৯ সালের ৪ঠা মে, শ্রীরঙ্গপত্তনের দূর্গে ব্রিটিশ বাহিনী অবরুদ্ধ করে রেখেছিলো মহীশূরের বাঘ নামে খ্যাত টিপু সুলতানকে। প্রচন্ড প্রতিরোধের মুখে ব্রিটিশ এবং সহযোগীরা যখন পিছু হঠছিলো, তখনি টিপুর এক ভগ্নিপতি অমাত্য ও সেনাপতি মীর সাদিক তাঁর সৈন্যদল সরিয়ে নিয়ে দুর্গপ্রাকারের ফাটল উন্মোচিত করে শত্রুদের দেখিয়ে দেয়। সেই পথেই ব্রিটিশ সৈন্য ঢুকে পরে। মীর সাদিক কৌশলে টিপুকে এক গুপ্তকক্ষে বন্দী করে শত্রুর হাতে তুলে দেয়।

তৃতীয় ভগ্নিপতি আমাদের ওয়াকারুজ্জামান সাহেব প্রধানমন্ত্রী জননেত্রীর ফুফাতো বোনের স্বামী। তাঁর বিশ্বাসঘাতকতার পালা এখনো শেষ হয় নি। সবকিছুই ইতিহাসে শেষ পর্যন্ত লেখা হবে। তবে শুরুতেই ৫ই আগস্ট তিনি ঢাকার উপকণ্ঠে সব বাধা অপসারণ করে সন্ত্রাসীদের গণভবন আক্রমণ করার সুযোগ করে দেন। ৪ঠা আগস্টের আগে থেকেই তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছিলেন। ৫ই আগস্টেও তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। পুরো ব্যাপার বিশদ আলোচনা এই পোস্টের উপজীব্য নয়।

১৭৫৭ এবং ১৭৯৯ সালের সাথে ২০২৪ সালের আগস্টের বড়ো পার্থক্য হলো এক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রকারীদের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সফল হয় নি। জননেত্রীকে হত্যা করতে সক্ষম হয় নি ষড়যন্ত্রকারীরা। এখন তিনি ফিরে আসবেন এই দুশ্চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে গেছে দেশের শত্রুদের।

মীর জাফর ও মীর সাদেকের শেষটা সুখকর হয় নি। ওয়াকারুজ্জামানের দীর্ঘ জীবন কামনা করি, তিনি যেন বিশ্বাসঘাতকতা এবং দেশদ্রোহের বিচার এড়াতে না পারেন।

সিরাজ উদ দৌলার সাথে বেইমানি করেন নি রাজা মোহনলাল এবং সেনাপতি মীর মদন। শেষ পর্যন্ত টিপু সুলতানের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন বর্ষীয়ান সেনাপতি গাজী খান এবং প্রধান অমাত্য দিওয়ান পুর্নাইয়া পন্ডিত। শেখ হাসিনার প্রতি নিবেদিতপ্রাণ একজন, দুজন নয়, কোটি কোটি তৃণমূল কর্মী। শেখ হাসিনা বীরের বেশে বাংলাদেশে আবার ফিরে আসবেন দেশকে আবারো সমৃদ্ধির দিকে টেনে নেওয়ার জন্য।

জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!! জয় উন্নয়নের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনা!!!

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত