Share
মিরপুরের একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন পরিশ্রমী শ্রমিকের জীবন ভস্মীভূত হয়েছে। তাদের তরতাজা প্রাণের চিৎকার আজ দেশের শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার নীরব সাক্ষী। কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনার পরও সরকারের তথাকথিত “উপদেষ্টারা” কোথায়? কেউ কি দায়িত্ব নিয়েছে? কারো কি বিবেক নড়েছে? উত্তর শুধুই নীরবতা আর উদাসীনতা।
এই দুর্ঘটনা দেশের ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকারের কাছ থেকে কোনো শোক বা দায় স্বীকারের ঘোষণা আসেনি। বরং, জনগণের অর্থে বিলাসবহুল বিদেশ সফরে মগ্ন ইউনূসের কর্মকাণ্ড দেশের জনগণের মনে ক্ষোভ আর হতাশার জন্ম দিচ্ছে।
শ্রমিকের মৃত্যু আর সরকারের উদাসীনতা
মিরপুরের অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিকদের মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার ফল। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা ছিল না, কারখানার নিরাপত্তা মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। তবুও সরকারের কোনো উপদেষ্টা ঘটনাস্থলে যাননি। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, যিনি এ ধরনের সংকটে জনগণের পাশে থাকার কথা, তাকে এই ঘটনায় কোথাও দেখা যায়নি। এমনকি গত জুলাইয়ে মাইলস্টোন স্কুলে দুর্ঘটনার সময়ও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি এখনো পদে বহাল।
নূরজাহান বেগম সম্প্রতি বলেছেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর হয়তো আমরা কেউ থাকব না। তবে গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ এনজিও আপনাদের পাশে থাকবে।” এই বক্তব্য জনমনে প্রশ্ন তুলেছে—জনগণের সংকটে পাশে না থেকে কীভাবে গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের পাশে থাকবে?
ইউনূসের বিলাসী বিদেশ সফর
যখন দেশের শ্রমিকরা আগুনে পুড়ছে, ক্ষুধায় মরছে, তখন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্যস্ত রয়েছেন বিদেশ সফরে। গত ১৪ মাসে তিনি ১৪ বারেরও বেশি বিদেশ সফর করেছেন, যার বেশিরভাগই অপ্রয়োজনীয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব সফরে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে। সম্প্রতি তিনি ইতালির রোমে মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ।
লামিয়া মোর্শেদকে ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হিসেবে দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি সফরে। নেটিজেনদের মধ্যে তাদের সম্পর্ক নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। অনেকে লামিয়াকে ‘ডি-ফ্যাক্টো’ প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অভিহিত করছেন, যিনি ইউনূসের প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছেন। তার দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ‘স্বার্থের সংঘাত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অসুস্থ স্ত্রীর অজুহাতে সহানুভূতি আদায়
গত বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে ইউনূস দাবি করেছিলেন, তার অসুস্থ স্ত্রী তার সহায়তা ছাড়া চলতে-ফিরতে বা খেতে পারেন না। তিনি বলেছিলেন, তাকে জেলে পাঠালে তাঁর স্ত্রীর মারাত্মক সমস্যা হবে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সেই ‘অসুস্থ’ স্ত্রীকে বাংলাদেশে রেখে একের পর এক বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। এসব সফরে জনগণের অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে লন্ডন সফরে প্লেনভর্তি সঙ্গী নিয়ে যাওয়ার ঘটনা তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরো পড়ুন

