সেনাবাহিনীকে ব্যাকফুটে রেখে দেশকে ধ্বংস করতে মরিয়া ইউনূস

Share

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশপ্রেমী সেনাবাহিনীকে ধ্বংসের মিশনে নেমেছে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। বাহিনীটিকে চাপে রাখতে একের পর একে নেওয়া হচ্ছে পদক্ষেপ। সবশেষ পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৯ জন মুক্তি দিয়েছে সরকার। যদিও এ নিয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবের হেলমেট হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, একটা জিনিস সব সময় মনে রাখতে হবে, বিডিআর সদস্য দ্বারা এই হত্যকাকাণ্ড সংঘটিত, ফুলস্টপ, কোনো ‘ইফ’ এবং ‘বাট’ নাই। কিন্তু সেনাবাহিনীর মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে এরইমধ্যে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সাজা পাওয়া আসামিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন। তিনি জানান, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় কারাবন্দি ৯ জনের জামিনের কাগজপত্র মঙ্গলবার রাতে কারাগারে এসে পৌঁছায়। পরে তা যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৯ জনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার কয়েকটি কারণে সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করতে চাইছে। এগুলো হলো নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে আরও সুযোগ তৈরি করে দেওয়া ও বন্দর-মানবিক করিডরের নামে দেশ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া। এর পেছনে কাজ করছে ইউনূসের গুজব সেলও।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়েছে সেনাসদর। তবে এখন পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদের। সূত্র বলছে, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক করিডর বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীকে অস্থিতিশীল করতে চায় ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার।

সম্প্রতি সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে জানান, ট্রাইব্যুনালের তিনটি মামলায় মোট ২৫ জন সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন অবসরপ্রাপ্ত, একজন এলপিআরে (লিভ প্রিপারেটরি টু রিটায়ারমেন্ট) আছেন, আর বাকি ১৫ জন এখনো সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, ‘পুরো জাতি এখন নির্বাচনমুখী। গত ১৩-১৪ মাস ধরে সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে সেনাসদস্যরা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিমাণ তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। ট্রেনিং, পোস্টিং, প্রমোশনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। এমন সময় এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ঘটনাটি সেনাসদস্যদের মনোবলে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী মোর‍্যালি ইফেক্টেড (নৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত).. মোর‍্যালি আপসেট (নৈতিকভাবে বিপর্যস্ত)।

এরইমধ্যে দেশে সেনা অভ্যুত্থান নিয়েও এরইমধ্যে গুজব ছড়ানো শুরু করেছে পিনাকী। যদিও দেশের এ অবস্থায় সেনাশাসন খুবই জরুরি। তবে পিনাকীর কথায় সেনাবাহিনী কি আবারও চুপসে যাবে নাকি সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নেপথ্যে কী
সূত্র বলছে, সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে পারলে দেশে জঙ্গিবাদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা যাবে। আর এর পেছনে নীল নকশাকারী দুটি দেশ হলো পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান চাইছে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পরাজয়ের প্রতিশ্রুতি নিতে। তাই দেশটি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে সব রকম চেষ্টাই করে যাচ্ছে। গত মাসেও পাকিস্তান ভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শামীন মাহফুজ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট।

পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী জামাত-উদ-দাওয়া এক শীর্ষ নেতা দাবি করেছেন, বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতি ও শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পিছনে ভূমিকা রয়েছে তাদের। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যেখানে পাকিস্তান নিজেই সন্ত্রাস দমনে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে তারা কীভাবে বাংলাদেশের সন্ত্রাস দূর করবে। তারা বলছেন, এরমধ্যেও রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র।

এদিকে বাংলাদেশের পুরোনো শত্রু যুক্তরাষ্ট্রের দিক দিয়েও হিসাব স্পষ্ট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো এ দেশেও তারা আরব বসন্তের মতো ঘটনা ঘটাতে পেরেছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে তারা এদেশে প্রাকৃতিক সম্পদসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি একটি নীলনকশার অংশ হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের আধিপত্য বিস্তার। মিয়ানমারে চীন-সমর্থিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থান নিতে সক্রিয় হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক করিডোর, এবং চট্টগ্রাম বন্দর—সব মিলে এই অঞ্চলটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে একটি “খ্রিস্টান রাজ্য” গঠনের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে, যা পূর্ব তিমুরের ঘটনার সাথে তুলনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগেও সতর্ক করে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা বাংলাদেশে একটি এয়ার বেজ স্থাপনের মাধ্যমেও এসেছে।

এদিকে সেনাবাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাখাইনে মানবিক করিডর একটি স্পর্শকাতর বিষয়। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পৃক্ত হবে না। এরপরই সেনাবাহিনী নিয়ে আরও ষড়যন্ত্র শুরু করে ইউনূস গংয়েরা। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত তথাকথিত ‘মানবিক করিডোর’ বাস্তবায়নের নামে দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলতে চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন তারা। এই ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।

একাধিক সূত্র ও বিশ্লেষকের মতে, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এই ষড়যন্ত্রে “প্রক্সি নেতা” হিসেবে ব্যবহার করছে মার্কিন প্রশাসন। তাদের দাবি, তাঁকে জাতিসংঘ মহাসচিব করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের সহায়তা, মানবিক করিডর, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে বাধা এবং বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ যেন অন্য কোনো শক্তির হাতিয়ার হয়ে না পড়ে—সেই বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত