Share
২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার শ্যামলী থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। তবে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। বলা হচ্ছিল, ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমার কথা। সম্প্রতি চাঁদাবাজির একটি মামলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সংগঠক মাইকেল চাকমাকে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মাইকেল চাকমা ও তার পরিবার ও সংগঠন ইউপিডিএফ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে, তাকে রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে। এই ঘটনাটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে ব্যাপক আলোচিত হয়।
প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতা পরিবর্তনের তিনি প্রকাশ্যে আসেন। ফিরে এসে তিনি দাবি করেন, তাকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কথিত গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এ আটকে রাখা হয়েছিল। তার এই প্রত্যাবর্তন তাকে একাধারে ‘রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার’ হিসেবে সহানুভূতি এনে দিয়েছে, অন্যদিকে তার রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
মাইকেল চাকমার প্রত্যাবর্তনের পর পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি সূত্রের দাবি, তার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ আগের চেয়েও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধির পেছনে তার নির্দেশনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
এই “গোপন শক্তি” মূলত ইউপিডিএফ-এর সেই সশস্ত্র নেটওয়ার্ককে নির্দেশ করে, যা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তার, প্রতিপক্ষকে দমন এবং সংগঠনের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য ব্যাপক চাঁদাবাজি চালানো হয়। মাইকেল চাকমাকে এই নেটওয়ার্কের অন্যতম “মাস্টারমাইন্ড” হিসেবে দেখা হয়। তার ফিরে আসার পর এই নেটওয়ার্ক নতুন করে সক্রিয় হওয়ায় পাহাড়ে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ এই পাঁচ বছর ভারতে মাইকেল চাকমা। সেখানে বসে তিনি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের জুন মাসে তিনি গোপনে বাংলাদেশ সফর করেন এবং ফিরে এসে দেশবিরোধী তৎপরতা আরও জোরদার করেন। দেশে এসে জামায়াতের সঙ্গে সমন্বয় স্থাপন ও সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য কৌশল নির্ধারণ।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত তাকে মোটা অঙ্কের অর্থায়ন প্রদান করে যার মাধ্যমে মাইকেল চাকমা একটি সংগঠিত নাশকতা পরিকল্পনা হাতে নেন। পরিকল্পনাটি ছিল তিন ধাপে:
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে স্নাইপার দিয়ে চোখ ও মাথায় লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ভয় ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা। পুলিশের ওপর হামলা, খুন করে প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল করা। পরবর্তীতে সরকার পতনের পরিবেশ সৃষ্টি করে বিদেশি মহলের সমর্থন আদায়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যদি জামায়াত বা অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে মাইকেল চাকমার যোগাযোগের অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি নিছক আঞ্চলিক ইস্যু নয়—এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। আবার, যদি এসব অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকে, তবে তা আন্দোলনের নৈতিক শক্তিকে দুর্বল করবে। তাই রাষ্ট্রের উচিত হচ্ছে—অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং তথ্যভিত্তিক তদন্তের আওতায় আনা।
তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পার্বত্য চট্টগ্রামে যে অস্থিরতা নতুন করে দেখা যাচ্ছে, তা প্রমাণ করে আন্দোলন, সহিংসতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়ার সম্পর্ক এখন অত্যন্ত জটিল। এখানে বিচক্ষণতা, স্বচ্ছ তদন্ত এবং রাজনৈতিক সংলাপ ছাড়া স্থিতিশীলতা ফেরানো কঠিন হবে।
আরো পড়ুন

