আইনশৃঙ্খলা শিকেয় তোলা জঙ্গলরাজ্যে, লোকাল মোগলী সেজেছেন এবার সুদী মহাজন ইউনুস!

Share

বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন বর্বর সময় আর আসেনি। গত নয় মাসে ৮১১টি অপহরণ। ১৩ বছরের স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অভিনেত্রীকে উবারে উঠিয়ে অপহরণের চেষ্টা চলছে। চিকিৎসককে পিটিয়ে পিটিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। আর যারা ক্ষমতায় বসে আছে তারা মুখে ফেনা তুলে গণতন্ত্র, সংস্কার আর মানবাধিকারের বুলি আওড়াচ্ছে।

ইউনূস আর তার দল যেভাবে ক্ষমতায় এসেছে, সেটা এই দেশের ইতিহাসে কলঙ্কের একটা অধ্যায় হয়ে থাকবে। বিদেশি মদদ, সামরিক সমর্থন আর জঙ্গিদের লেলিয়ে দিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো। তারপর বসে গেল একজন সুদখোর মহাজন, যার পুরো জীবনটাই গরিবের রক্ত চুষে কোটিপতি হওয়ার গল্প। এই লোকটা আর তার তথাকথিত উপদেষ্টারা কী দিয়েছে দেশকে? নৈরাজ্য, অরাজকতা আর মৃত্যুর মিছিল।

২০২৩ সালে অপহরণ হয়েছিল ৪৬৩টি। এই বছরের নয় মাসেই ৮১১টি। এই হিসাবটা বুঝতে কি রকেট সায়েন্স লাগে? মানে ক্ষমতায় আসার পর থেকে অপরাধের হার আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। ঢাকা শহরে একাই ১৯২টি অপহরণ, যেখানে গত বছর পুরোটা মিলিয়ে ছিল ১৩২টি। এটা কোন ধরনের শাসন? নাকি এটাকে শাসন বলাই অপমান?

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, এই অপহরণগুলো হচ্ছে কাদের? ১৩ বছরের বাচ্চা, যে স্কুলে যাচ্ছিল। একজন চিকিৎসক, যে মানুষের সেবা করে। একজন নারী, যে নিজের কাজে যাচ্ছিল। মানে কেউই নিরাপদ নয়। রাস্তায় বের হলেই ভয়, সন্তানকে স্কুলে পাঠালেই আতঙ্ক। এই হলো ইউনূসের “নতুন বাংলাদেশ”? এই হলো তাদের সংস্কার?

যে মানুষটা সারাজীবন গ্রামীণ বেইংক চালিয়ে গরিব মানুষের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে নিজের সাম্রাজ্য গড়েছে, সেই মানুষ কীভাবে একটা দেশ চালাবে? যার কোনো রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নেই, জনগণের ভোট নেই, গণতান্ত্রিক বৈধতা নেই – সে কীভাবে নিরাপত্তা দেবে মানুষকে? উল্টো তার আমলেই দেশ হয়ে গেছে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য।

আরো মজার ব্যাপার হলো, এই সরকার এসেছিল “গুম-খুনের” বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে। কিন্তু তাদের আমলেই খুনের ঘটনা ১৬ হাজার ৯৬২টি হয়ে গেছে নয় মাসে! গত বছর পুরো বছরে ছিল ৩ হাজার ৪৩২টি। এই তুলনাটা দেখুন। পাঁচগুণ বেড়ে গেছে খুনের হার। নারী আর শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৬২টি। আর তারা বলে বেড়াচ্ছে তারা নাকি নারী-শিশুর নিরাপত্তা দেবে।

এই যে ১৩ বছরের প্রতীক সরকার, যাকে স্কুলে যাওয়ার পথে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা হয়েছিল এই বাচ্চাটার কী দোষ ছিল? তার বাবা-মা কেমন আতঙ্কের মধ্যে ছিল ভাবুন। অভিনেত্রী নিঝুম চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নামতে বাধ্য হয়েছিল। চিকিৎসক আমিনুর রহমানকে পিটিয়ে পিটিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছিল। এগুলো কি সভ্য সমাজের লক্ষণ? এই হলো ইউনূসের “সংস্কারের” ফসল?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক যা বলেছেন, সেটাই সত্যি। একটা অপরাধী চক্র তৈরি হয়ে গেছে, যারা অপরাধকেই তাদের আয়ের উৎস মনে করে। আর এই চক্র তৈরি হয়েছে কেন? কারণ আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। পুলিশ, প্রশাসন সব কিছুই ভেঙে পড়েছে। যারা ক্ষমতায় আছে তারা ব্যস্ত নিজেদের চেয়ার সামলাতে, বিদেশি প্রভুদের খুশি করতে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। নির্বাচন নেই, জনগণের ম্যান্ডেট নেই। একটা ক্যু করে ক্ষমতায় বসেছে। তাদের কাছে কে জবাব চাইবে? কোন সংসদ আছে? কোন বিরোধী দল আছে? কিছুই নেই। আছে শুধু একটা মহাজন আর তার কিছু মদদপুষ্ট উপদেষ্টা, যারা নিজেদের নোবেল পুরস্কার নিয়ে ঘুরে বেড়ায় আর দেশটা জাহান্নামে যাক।

বাংলাদেশের মানুষ কি এই প্রাপ্য ছিল? একটা দেশ যেটা এগিয়ে যাচ্ছিল, যেখানে অর্থনীতি বাড়ছিল, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছিল – সেই দেশকে রাতারাতি পেছনে ঠেলে দেওয়া হলো। আর এখন দেশজুড়ে চলছে অপরাধীদের রাজত্ব। যারা ক্ষমতায় বসিয়েছে এই অবৈধ সরকারকে তারা কি খুশি এই অবস্থা দেখে? নাকি এটাই ছিল তাদের পরিকল্পনা? একটা স্থিতিশীল দেশকে অস্থিতিশীল করে ফেলা, যাতে সেখানে তাদের কথামতো সবকিছু চলে?

ইউনূস আর তার দল যতই উন্নয়নের, সংস্কারের, গণতন্ত্রের কথা বলুক না কেন মাঠের বাস্তবতা হলো দেশ এখন একটা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। যেখানে শক্তিমানের জয়, দুর্বলের পরাজয়। যেখানে অপরাধীরা খোলা ময়দান পেয়ে গেছে। আর সাধারণ মানুষ? তারা শুধু গুনছে কবে এই দুঃসময় শেষ হবে, কবে তারা আবার নিরাপদে রাস্তায় বের হতে পারবে, কবে তাদের সন্তানরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারবে।

দেশটা এখন কার হাতে আছে, সেটা বোঝা মুশকিল। তবে একটা জিনিস পরিষ্কার যে, যাদের হাতে আছে, তারা দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য নয়, নিজেদের স্বার্থ আর বিদেশি প্রভুদের খুশি করার জন্যই ক্ষমতায় বসে আছে। আর তার মাশুল দিচ্ছে কোটি কোটি নিরপরাধ মানুষ।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত