Sunday, November 30, 2025

জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ায় তিন কিশোরকে গ্রেফতার করছেন বীর পুলিশেরা

Share

গত ৩০ অক্টোবর রাতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় তিন কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ শুধুমাত্র ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া। দুই কিশোর স্থানীয় বিএনপি অফিসের সামনে স্লোগান দিয়ে ভিডিও রেকর্ড করছিলেন, যা ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের অধীনে পুলিশের দমনমূলক কার্যকলাপের নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত ১৪ মাস ধরে পুলিশ বাহিনী নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। জুলাই মাসের জঙ্গি হামলায় শতাধিক পুলিশ সদস্য নিহত হলেও তারা বিচার দাবি করতে পারেনি। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমনে পুলিশের ‘সাহস’ প্রকাশ পায়। ‘জয় বাংলা’কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কিশোরদের গ্রেফতার এরই উদাহরণ। সমালোচকরা বলছেন, এসব অভিযান বিএনপি-জামায়াতের নির্দেশে চালিত, যা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের লক্ষ্য করে।

অনুরূপ ঘটনার তালিকা দীর্ঘ। গত জুলাই মাসে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার খোজনগর এলাকায় ১২ যুবককে গ্রেফতার করা হয় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ভিডিও রেকর্ড করার সময়। তাদের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-টেররিজম অ্যাক্টের ধারা ৬(২), ৮, ৯ ও ১০-এর অধীনে মামলা দায়ের করে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পুলিশের দাবি, তারা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্য এবং আক্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন। তবে স্থানীয়রা জানান, তারা শুধু ফেসবুক ও টিকটকের জন্য ভিডিও বানাচ্ছিলেন। এই অভিযানকে ‘ডেভিল হান্ট’ অপারেশনের অংশ বলে দাবি করা হয়েছে, যা ইউনুস সরকারের নিরাপত্তা রক্ষার নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালাচ্ছে।

আরেক ঘটনায়, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় ১৫ বছরের স্কুলছাত্র ফাহিমকে গ্রেফতার করা হয় ফেসবুকে ‘জয় বাংলা’ বলে ভিডিও পোস্ট করার জন্য। চট্টগ্রামের একটি রক কনসার্টে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে সংঘর্ষে ১০ জন আহত এবং ১০ জনকে আটক করা হয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পরিবর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

সমালোচকরা অভিযোগ করছেন, ইউনুস সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে ‘সিকিউরিটি মানি’ আদায় করছে। গ্রেফতার করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াতের নির্দেশে পুলিশ জীবন নিতে ও দিতে প্রস্তুত, কিন্তু জুলাই হামলার বিচার চায় না। এমন কর্মকাণ্ড ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে এবং সময় হলে বিচার হবে।

এই ঘটনাগুলো প্রশ্ন তোলে: দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার স্বার্থ রক্ষা করছে? পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত