Sunday, November 30, 2025

দেড় কোটি মানুষের খাদ্যসংকট: ইউনুসের অবৈধ শাসনে দেশ কোথায় যাচ্ছে

Share

দেশের দেড় কোটি মানুষ খাদ্যসংকটে পড়ছে। ১৬ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টির মুখে দাঁড়িয়ে। জাতিসংঘের রিপোর্টে যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, তা যে কোনো সংবেদনশীল মানুষকে নাড়া দেবে। কিন্তু যাদের হাতে এখন দেশের ক্ষমতা, তাদের কি এসব নিয়ে মাথাব্যথা আছে? জুলাই মাসে রক্তাক্ত দাঙ্গার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যেভাবে ক্ষমতা দখল করা হয়েছে, তার পর থেকে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে অসহনীয়।

মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদ যে পথে দেশকে নিয়ে যাচ্ছে, তা কোনো গণতান্ত্রিক বা বৈধ সরকারের পথ নয়। বিদেশি প্রভুদের মদদে, সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থনে এবং চরমপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীর সহায়তায় ক্ষমতায় বসা এই অবৈধ শাসকগোষ্ঠী দেশের মানুষের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা অনুভব করে না। করবেই বা কেন? তারা তো জনগণের ভোটে আসেনি, জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা নেই।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নিজের রিপোর্টই বলছে, ১৩টি জেলার মানুষ মারাত্মক খাদ্যসংকটে পড়তে যাচ্ছে। কক্সবাজারে এই সংকট সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যেখানে ৩০ শতাংশ মানুষ খাদ্যের জন্য হাহাকার করছে। অথচ এই সংকটকালীন মুহূর্তে যারা ক্ষমতায় বসে আছে, তারা ব্যস্ত নিজেদের আখের গোছাতে। দেশের সম্পদ লুটপাট করতে, বিদেশি প্রভুদের খুশি করতে আর নিজেদের পকেট ভরাতে তাদের জুড়ি নেই।

ইউনুসের মাইক্রোক্রেডিট সাম্রাজ্য দিয়ে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে সুদের নামে টাকা শোষণ করার ইতিহাস তো সবারই জানা। এখন পুরো দেশটাই যেন তার সেই শোষণের জাল। একদিকে সাধারণ মানুষ খাবারের জন্য হাহাকার করছে, অন্যদিকে এই অবৈধ সরকার বিদেশি দাতাদের কাছে হাত পাততে ব্যস্ত। কিন্তু সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে? দেশের ১৬ লাখ শিশু যারা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের কাছে কি পৌঁছাচ্ছে সেই সাহায্য?

জাতিসংঘের রিপোর্ট বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪০ শতাংশ মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে। দেশের ১৮টি দুর্যোগপ্রবণ জেলায় ১৬ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার হবে। এক লাখ ১৭ হাজার গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী মা অপুষ্টিতে ভুগবে। এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়, এগুলো আমাদের দেশের মানুষ, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। একটি শিশু যখন অপুষ্টিতে ভোগে, তখন তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এই শিশুরা কীভাবে দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে?

অথচ যাদের এই সংকট মোকাবেলা করার কথা, তারা সেই দায়িত্ব নিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। জুলাই মাসে যে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা বাঁধানো হয়েছিল, তার পেছনে ছিল সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। বিদেশি শক্তির টাকা, ইসলামের নামে চরমপন্থী গোষ্ঠীর তাণ্ডব আর সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা মিলিয়ে যে অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছিল, তার লক্ষ্য ছিল একটাই – নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করা।

এখন সেই অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা যখন দেশ চালাচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে প্রতিদিন। খাদ্যের দাম আকাশছোঁয়া, চাকরি নেই, ব্যবসা-বাণিজ্য ধুঁকছে। কৃষক তার ফসলের দাম পাচ্ছে না, শ্রমিক তার মজুরি পাচ্ছে না। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দুই বেলা খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে। আর এই সংকটের মধ্যেও একটি গোষ্ঠী নিজেদের পকেট ভারী করে চলেছে।

ইউনুস সাহেব নোবেল পুরস্কার নিয়ে বিশ্বব্যাপী সুনাম কুড়িয়েছেন, কিন্তু দেশের মানুষের কাছে তার হিসাব কী? সুদের ব্যবসা করে দরিদ্র মানুষকে আরও দরিদ্র করেছেন, এখন পুরো দেশটাকেই সেই পথে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে যে শাসন চালাচ্ছেন, তা কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি একটি চাপিয়ে দেওয়া শাসন, যা দেশের মানুষ কখনো মেনে নেয়নি।

দেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নিজেই স্বীকার করেছেন সমস্যার কথা। কিন্তু সমাধান কোথায়? বক্তৃতা আর সেমিনার করে কি ১৬ লাখ শিশুর মুখে খাবার তুলে দেওয়া যাবে? রিপোর্ট প্রকাশ করলেই কি কক্সবাজারের ৩০ শতাংশ মানুষের খাদ্যসংকট দূর হবে? দরকার কার্যকর পদক্ষেপ, দরকার একটি বৈধ সরকার যা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।

যে সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকারের কাছ থেকে জনকল্যাণ আশা করা বোকামি। তারা তো ক্ষমতায় এসেছে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে নয়, নিজেদের এবং তাদের প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করতে। জুলাই মাসে যে ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো হয়েছিল, তার ফল এখন ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যারা ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের কাছে দেশের মানুষের খাদ্যসংকট কোনো বিষয়ই নয়।

ইউনুস এবং তার দল দেশকে যে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তা থেকে মুক্তি পেতে হলে দরকার একটি বৈধ, গণতান্ত্রিক সরকার। জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার, যা জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। কিন্তু সেই পথ এখন রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বন্দুকের জোরে। সামরিক বাহিনীর সমর্থনে, বিদেশি শক্তির মদদে আর জঙ্গি গোষ্ঠীর সহায়তায় যে শাসন চলছে, তা কোনোদিন দেশের কল্যাণ করতে পারবে না।

দেশের মানুষ না খেয়ে মরছে, শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে, মায়েরা সন্তানকে খাওয়াতে পারছেন না – এই হলো অবৈধ ইউনুস সরকারের অর্জন। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হয়ে যিনি সারা বিশ্বে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে রেখেছেন, তিনিই দেশের মানুষকে খাদ্যসংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে?

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত