Share
বাংলার আকাশে যখন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল, তখন এক তরুণ বীর উঠে দাঁড়িয়েছিলেন জাতির অস্তিত্ব রক্ষার আহ্বানে। তাঁর হাতে ছিল দেশের প্রতি শপথ, হৃদয়ে ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতি অগাধ ভালোবাসা। তিনি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী—বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক জীবন্ত কিংবদন্তি, যিনি আজও বলেন, “যতদিন বেঁচে থাকব—মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাঁচব, স্বাধীনতা নিয়ে বাঁচব, বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই বাঁচব।”
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়াল সময়—যখন বাংলাদেশে রক্তের নদী বইছে, তখন টাঙ্গাইলের এই তরুণ সংগঠক হাতে অস্ত্র তুলে নেন। তিনি গড়ে তোলেন “কাদেরিয়া বাহিনী”, যার প্রতিটি সদস্য ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ। গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে টাঙ্গাইল ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল মুক্ত করেন তারা। ইতিহাস বলে—বাংলার মাঠে, বনে, নদীতে এই বাহিনী ছিল বীরত্বের প্রতীক।
কাদের সিদ্দিকী শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা নন, তিনি বঙ্গবন্ধুর এক অনুগত সৈনিক। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রঞ্জিত। তিনি বিশ্বাস করেন, স্বাধীনতা মানে শুধু পতাকা নয়, স্বাধীনতা মানে মানুষের মুক্তি, ন্যায়, এবং গণতন্ত্র। তাঁর কণ্ঠে আজও শোনা যায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সেই বজ্রনিনাদ—“এই দেশ কারও করুণায় আসেনি, এই দেশ এসেছে রক্তের বিনিময়ে।”
স্বাধীনতার পরও বঙ্গবীরের জীবন ছিল সংগ্রামী। রাজনীতি, নিপীড়ন, নির্বাসন—সবকিছু পেরিয়ে তিনি থেকেছেন এক অবিচল জাতীয় চেতনার প্রতীক হিসেবে। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ আজও তীক্ষ্ণ। সময়ের রাজনীতিতে যখন সুবিধাবাদ, তখন কাদের সিদ্দিকী এখনও বলেন—“আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, আমি সত্যের সৈনিক।”
যে প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, তাদের জন্য বঙ্গবীর এক ইতিহাসের দরজা খুলে দেন। তাঁর জীবনী এক সংগ্রামী জাতির প্রতিচ্ছবি—যেখানে ত্যাগ, দেশপ্রেম ও নৈতিক দৃঢ়তা একই স্রোতে প্রবাহিত। তরুণদের প্রতি তাঁর আহ্বান—“স্বাধীনতার অর্থ বোঝো, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করো।”
বাংলাদেশের ইতিহাসের পৃষ্ঠা উল্টালে দেখা যাবেকাদের সিদ্দিকী নামটি এক অনন্ত আলোকবর্তিকা। তাঁর বীরত্ব কেবল মুক্তিযুদ্ধের নয়, তা বাংলাদেশের আত্মার সঙ্গে মিশে আছে।
তিনি বলেন, যতদিন বেঁচে থাকব—মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাঁচব, স্বাধীনতা নিয়ে বাঁচব, বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই বাঁচব।” এই এক বাক্যে যেন পুরো এক প্রজন্মের দায়, গর্ব আর স্বপ্ন লুকিয়ে আছে।
আরো পড়ুন

