Share
সংসদ ভবন এলাকা। রাজধানীর সবচেয়ে নিরাপদ বলে কথিত জায়গা। সেখানে রাত সাড়ে আট-নয়টার দিকে পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন একজন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ। তিন ছিনতাইকারী তার সামনে এসে দাঁড়াল, হুমকি দিল, মোবাইল ছিনিয়ে নিল। এমনকি চোখের চশমাটাও নিয়ে গেল। একজন জজ, যিনি দেশের বিচার ব্যবস্থার অংশ, যার হাতে ন্যায়বিচারের দায়িত্ব, তিনিও রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে নিরাপদ নন।
এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মাত্র কয়েকদিন আগে এক বিচারকের ছেলেকে বাসায় ঢুকে খুন করে যাওয়া হয়েছে। আইনের প্রহরীরা, যারা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেন, তারাই যখন নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন, তখন সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে সেটা সহজেই অনুমেয়।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে যে অস্থিরতা সৃষ্টি করে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছিল, তার পর থেকে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিদেশি অর্থায়নে, চরমপন্থী গোষ্ঠীর সহায়তায় আর সামরিক বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় যে ক্যু ঘটানো হয়েছিল, তার ফলাফল এখন স্পষ্ট। ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ এই সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। রাজধানীতে প্রকাশ্য দিবালোকে অপরাধ ঘটছে, রাতের বেলা তো কথাই নেই।
যে মানুষটি মাইক্রোক্রেডিটের নামে দশকের পর দশক সুদের বোঝা চাপিয়ে দরিদ্র মানুষের রক্ত শুষে নিয়েছেন, তিনি ক্ষমতায় এসে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেবেন – এটা আশা করাই ছিল বোকামি। কিন্তু বাস্তবতা এখন আরও ভয়াবহ। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বিচার বিভাগের মতো সংবেদনশীল পদে থাকা ব্যক্তিরাও এখন অনিরাপদ।
সংসদ ভবন এলাকার মতো জায়গায় যদি একজন জজকে ছিনতাইয়ের শিকার হতে হয়, তাহলে বুঝতে হবে পুলিশি টহল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা – সবই কাগজে-কলমে। মাঠে বাস্তবতা ভিন্ন। অপরাধীরা এখন নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের মনে কোনো ভয় নেই, কারণ তারা জানে এই সরকারের অধীনে তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
ইউনুস সরকারের পুরো মনোযোগ এখন ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখা আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রাখায়। আইন-শৃঙ্খলা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, অর্থনীতি – এসবের প্রতি তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। যে সামরিক সমর্থন নিয়ে তারা ক্ষমতায় এসেছেন, সেই সামরিক বাহিনীও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর জঙ্গি ও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করছে।
একটা দেশে যখন বিচারকদের পরিবারের সদস্যদের খুন করা হয়, জজদের রাস্তায় ছিনতাই করা হয়, তখন সেই দেশের আইনের শাসন বলতে আর কিছু থাকে না। বিচার ব্যবস্থা তখন কেবল একটা দালানকোঠায় পরিণত হয়, যেখানে ফাইল পড়ে থাকে কিন্তু ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না।
অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা এই সরকার প্রতিদিন প্রমাণ করছে যে তারা দেশ চালানোর যোগ্যতা রাখে না। জুলাইয়ের দাঙ্গার পর যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তার কোনোটাই বাস্তবায়িত হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। মানুষ এখন ঘর থেকে বের হতে ভয় পায়। ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশ থেকে পালাচ্ছে।
যে সরকারের অধীনে বিচারকরা নিরাপদ নন, সেই সরকারের অধীনে আপনি-আমি কতটা নিরাপদ? এই প্রশ্নের উত্তর বোধহয় প্রতিদিনের ছিনতাই, খুন, ডাকাতির ঘটনাগুলোই দিচ্ছে। ইউনুসের এই অ-সরকার দেশকে এক অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখান থেকে ফিরে আসা দিনদিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
আরো পড়ুন

