Sunday, November 30, 2025

আন্তর্জাতিক মহলে দিগম্বর ইউনুস: পাঁচ আন্তর্জাতিক সংগঠন ফাঁস করল ইউনুসের প্রহসন

Share

ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে, সেটা নিয়ে এবার ইউরোপের পাঁচটি সংগঠন সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে। ব্যাপারটা যে শুধু প্রশ্ন তোলা, তা নয়। তারা একে রীতিমতো নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে চিঠি পাঠিয়ে এই বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করেছে। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে অ্যামনেস্টি, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, আন্তর্জাতিক বার অ্যাসোসিয়েশন পর্যন্ত সবার কাছে চিঠি গেছে। এর মানে কী? এর মানে হলো যে নাটকটা মঞ্চস্থ করা হয়েছিল, সেই নাটকের আসল চেহারাটা ধরা পড়তে শুরু করেছে।

জুলাই মাসে যে দাঙ্গা হলো, সেটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন ছিল না। সেটা ছিল একটা সুপরিকল্পিত অভ্যুত্থান। বিদেশি অর্থায়ন, ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর মাঠপর্যায়ের সমর্থন আর সামরিক বাহিনীর একটা অংশের নীরব সহযোগিতা মিলে একটা নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটাকে যতই গণঅভ্যুত্থান বলে চালানোর চেষ্টা করা হোক না কেন, আসলে এটা ছিল একটা ক্যু। আর সেই ক্যুয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছেন মুহাম্মদ ইউনুস।

এখন প্রশ্ন হলো, ক্ষমতায় আসার পর কী হচ্ছে? একের পর এক মামলা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো, জুলাইয়ের দাঙ্গায় যারা মারা গেছেন, তাদের বেশিরভাগই ছিলেন পুলিশ সদস্য আর আওয়ামী লীগের কর্মী। সরকারি দপ্তরে আগুন দেওয়া হয়েছে, জনগণের সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু সেই সহিংসতার দায় চাপানো হচ্ছে যাদের ওপর, তারা আসলে ভুক্তভোগী।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে, সেটা নিয়ে ইউরোপীয় সংগঠনগুলো যে কারণগুলো তুলে ধরেছে, সেগুলো একবার শুনলেই বোঝা যায় পুরো বিষয়টা কতটা হাস্যকর। আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার হয়েছে। তার পক্ষে সাক্ষী হাজির করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। যথাযথ আইনি প্রতিনিধিত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তড়িঘড়ি করে রায় দেওয়া হয়েছে। এমনকি যোগসাজশের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ। এগুলো কি কোনো স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার লক্ষণ? একদমই না। এগুলো হলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার।

যে ট্র্যাইব্যুনাল তৈরি হয়েছিল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে, সেই একই ট্র্যাইব্যুনালকে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলের বিরুদ্ধে। এর চেয়ে বড় বিদ্রূপ আর কী হতে পারে? শেখ হাসিনা যিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, পদ্মা সেতু থেকে শুরু করে মেট্রোরেল, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ – সব কিছুতেই যার অবদান অনস্বীকার্য, তাকে আজ অপরাধী বানানোর চেষ্টা চলছে। আর এই চেষ্টাটা করছে যে লোক, তিনি নিজেই একটা অবৈধ সরকারের প্রধান।

মুহাম্মদ ইউনুসের সুনাম আছে, এটা ঠিক। মাইক্রোক্রেডিটের জন্য নোবেল পেয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই সুনাম দিয়ে কি একটা দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করা যায়? একটা নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে, একটা অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় বসে, সেখান থেকে বিচারের নামে প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা, এটা কি গ্রহণযোগ্য? আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো অন্তত মনে করছে না। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, এই বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আসলে মিথ্যার একটা সমস্যা আছে। সেটা বেশিদিন টিকে না। যতই সাজিয়ে গুছিয়ে বলা হোক না কেন, কোথাও না কোথাও ফাঁক থেকে যায়। জুলাইয়ের ঘটনাকে গণঅভ্যুত্থান বলা হলো। তারপর যাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলো, তাদের কেউ দেশে নেই। তাদের সাক্ষী ডাকার সুযোগ দেওয়া হলো না। তাদের আইনজীবী ঠিকমতো কাজ করতে পারলেন না। আর এখন আন্তর্জাতিক মহল প্রশ্ন তুলছে। এই প্রশ্নগুলো উঠছে বলেই বোঝা যাচ্ছে, পুরো ব্যাপারটা একটা সাজানো খেলা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই দেশের জন্মদাতা দল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দলই দেশকে স্বাধীন করেছে। একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী আর তাদের এদেশীয় দোসররা যা করেছিল, তার বিচার হয়েছিল এই দলের আমলেই। আর এখন সেই দলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে? এটা শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, এটা ইতিহাসকে বিকৃত করার একটা চেষ্টা।

ইউনুস সরকার যতই চেষ্টা করুক, মিথ্যা দিয়ে বেশিদিন দেশ চালানো যায় না। শেখ হাসিনা যে উন্নয়ন করে গেছেন, মানুষ সেটা দেখেছে, ভোগ করেছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য – এসব তো আর মুছে ফেলা যায় না। আর যখন মিথ্যা মামলা দিয়ে সেই নেত্রীকে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়, তখন আন্তর্জাতিক বিশ্বও সেটা দেখে। ইউরোপের সংগঠনগুলো যে নিন্দা জানিয়েছে, সেটা এই কারণেই। তারা বুঝতে পেরেছে, এটা কোনো সত্যিকারের বিচার নয়, এটা একটা রাজনৈতিক নাটক।

বাংলাদেশের মানুষ বোকা নয়। তারা জানে কে তাদের জন্য কাজ করেছে, কে করেনি। জুলাইয়ের দাঙ্গা কারা বাঁধিয়েছিল, কাদের স্বার্থ ছিল সেখানে সেটাও মানুষ বুঝে গেছে। এখন যেসব মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেগুলোও একদিন ধোপে টিকবে না। কারণ সত্য একসময় বেরিয়ে আসে। আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর এই নিন্দা সেই সত্যের দিকে আরেকটা পদক্ষেপ মাত্র।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত