Share
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে একটা ঘটনা ঘটলো যেটা শুনলে হাসবেন না কাঁদবেন বুঝবেন না। বিএনপির একজন ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক রাস্তায় প্রস্রাব করা নিয়ে ঝগড়া করতে গিয়ে ইটের আঘাতে মাথা ফাটিয়ে মারা গেলেন। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। প্রস্রাব করা নিয়ে। এটাই সেই দল যারা দেশ চালাবে বলে দাবি করে। যারা জুলাই মাসে রাজপথে আগুন জ্বালিয়ে, মানুষ পুড়িয়ে, পুলিশ হত্যা করে একটা নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দিয়েছে। আর এখন তাদের নিজেদের নেতা মরছে রাস্তার পাশে প্রস্রাব করতে গিয়ে ঝগড়া করে।
কথা হলো, এরা কীভাবে একটা দেশ চালাবে যখন নিজেদের মূত্রথলিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না? কাদিরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের সাথে জনৈক সুমন আহমদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা নিয়ে আপত্তি প্রকাশ ও বচসা শুরু হয়। এরপর কথা-কাটাকাটি, তারপর ইট ছোড়াছুড়ি, এবং শেষে একজন মানুষের মৃত্যু। এই হলো বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
যে দল বিদেশি অর্থায়নে, জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের সাথে হাত মিলিয়ে, আর সামরিক বাহিনীর একাংশের সমর্থন নিয়ে জুলাইয়ে দেশব্যাপী দাঙ্গা বাঁধিয়ে ক্যু ঘটিয়েছে, সেই দলের নেতারা এখন রাস্তায় প্রস্রাব নিয়ে মারামারি করছে। ডক্টর ইউনূস আর তার অবৈধ সরকার ক্ষমতায় বসেছে মানুষের রক্তে পা ধুয়ে। আর তাদের প্রধান সহযোগী বিএনপির নেতারা এখন নিজেদের মধ্যেই খুনোখুনি শুরু করেছে। এর চেয়ে বড় পোয়েটিক জাস্টিস আর কী হতে পারে?
প্রশ্ন হলো, যারা জুলাইয়ে কোটা আন্দোলনকারী ছাত্রদের নামে পুলিশ পোস্ট জ্বালিয়েছে, সরকারি ভবন ভাঙচুর করেছে, মেট্রোরেল ভাঙচুর করেছে, তারা কি সভ্য মানুষ? যারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, হাসপাতালে ঢুকে আহতদের মেরেছে, তাদের কাছে রাস্তায় প্রস্রাব করাটা তো খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। আসলে এটাই তো তাদের মানসিকতা। সভ্যতা, শিষ্টাচার, নৈতিকতা – এসব তাদের অভিধানে নেই।
আব্দুর রহমান মারা গেছেন ইটের আঘাতে। কিন্তু জুলাইয়ে কতজন পুলিশ সদস্য মারা গেছে এদের ইট-পাটকেল আর ককটেলের আঘাতে? কতজন সাধারণ মানুষ পুড়ে মরেছে এদের অগ্নিসংযোগে? আওয়ামী লীগের কতজন নেতাকর্মীকে বাড়িঘর থেকে টেনে বের করে পিটিয়ে মেরেছে এরা? সেই হিসাব কি কেউ রাখছে? এখন নিজেদের মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে এই বর্বরতা। যেটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ সহিংসতা যখন একবার ছড়িয়ে দেওয়া হয়, সেটা আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
ডক্টর ইউনূসের তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে অবৈধভাবে। কোনো নির্বাচন নেই, কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নেই। শুধু একটা সামরিক সমর্থিত ক্যু। আর এই ক্যুর প্রধান সুবিধাভোগী হলো বিএনপি আর জামায়াত। যারা দশকের পর দশক ধরে ক্ষমতায় আসতে পারেনি, তারা এখন সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতার ভাগীদার হয়েছে। কিন্তু যেভাবে এসেছে, সেভাবেই তো যাবে। সহিংসতা দিয়ে যা শুরু, তার শেষও সহিংসতায়।
বিএনপির নেতারা এখনো ক্ষমতায় পুরোপুরি আসেনি, কিন্তু তাদের চরিত্র আগেই প্রকাশ হয়ে গেছে। রাস্তায় প্রস্রাব করা নিয়ে মারামারি। এটাই তাদের রাজনৈতিক চর্চা। জুলাইয়ে যখন দেশ জ্বলছিল, তখন তারা বলেছিল এটা ছাত্রদের আন্দোলন, তারা নাকি এর সাথে জড়িত না। কিন্তু আসল চেহারা তো লুকানো যায় না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর জ্বালানো, তাদের হত্যা করা, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা – এসব তো তাদেরই কাজ। আর এখন নিজেদের মধ্যেই খুনোখুনি।
যারা বলে এরা দেশকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবে, তাদের কাছে প্রশ্ন: কোন গণতন্ত্র? যে গণতন্ত্রে রাস্তায় প্রস্রাব করা নিয়ে মানুষ মরে? যে গণতন্ত্রে নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে ফেলা হয়? যে গণতন্ত্রে বিদেশি টাকা আর সামরিক সমর্থনে ক্ষমতা দখল করা হয়?
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, পশ্চিমা দেশগুলো এখনো এই অবৈধ সরকারকে সমর্থন করছে। আমেরিকা, ইউরোপ – যারা গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী বলে দাবি করে, তারা একটা সামরিক ক্যুকে বৈধতা দিচ্ছে। কারণ তাদের স্বার্থ আছে। ইউনূস তাদের লোক। গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে সুদের ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা লুটেছেন, আর সেই টাকা দিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতে লবিং করেছেন। নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মাইক্রোক্রেডিটের নামে গরিব মানুষের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা আদায় করার জন্য।
বিএনপি আর জামায়াত এখন ইউনূসের ছত্রছায়ায়। তারা ভাবছে ক্ষমতা এসে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারা নিজেদের মধ্যেই ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। রাস্তায় প্রস্রাব করা নিয়ে খুন এর প্রমাণ। যখন একটা দলের মধ্যে কোনো শৃঙ্খলা থাকে না, কোনো নৈতিকতা থাকে না, তখন এরকমই হয়। জুলাইয়ে যারা দেশে আগুন জ্বালিয়েছে, তারা এখন নিজেদের মধ্যেই আগুন জ্বালাবে।
প্রকৃতির বিচার বলে একটা কথা আছে। যা করবে তাই পাবে। বিএনপি আর তার সহযোগীরা জুলাইয়ে যে সহিংসতা ছড়িয়েছে, সেই সহিংসতা এখন তাদের নিজেদেরই গ্রাস করছে। আব্দুর রহমানের মৃত্যু তার প্রমাণ। এটা শুধু একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা একটা প্রতীক। বিএনপির নৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রতীক। তাদের রাজনৈতিক অসহায়ত্বের প্রতীক।
ইউনূস আর বিএনপি মনে করেছিল ক্যু করে ক্ষমতা দখল করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসলে সেখানে টিকে থাকা যায় না। মানুষ সব দেখছে, সব বুঝছে। রাস্তায় প্রস্রাব নিয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু সাধারণ মানুষের কাছে একটা বার্তা দিয়েছে। এরাই সেই মানুষ যারা দেশ চালাবে? এরাই সেই নেতা যারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবে?
দেশে এখন কোনো আইনের শাসন নেই। পুলিশ দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রশাসন দলীয়করণ করা হচ্ছে। আর এর সুযোগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা যা খুশি তাই করছে। রাস্তায় প্রস্রাব করা তো খুবই ছোট একটা বিষয়। এর চেয়ে বড় বড় অপরাধ তারা করছে প্রতিদিন। কিন্তু কোনো বিচার হচ্ছে না।
আব্দুর রহমানের পরিবার এখন কার কাছে বিচার চাইবে? যে সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছে, তাদের কাছে? যে দল নিজেই সহিংসতার রাজনীতি করে, তাদের কাছে? বাস্তবতা হলো, এই মৃত্যুর কোনো বিচার হবে না। কারণ যারা বিচার করবে, তারাই তো অপরাধী।
বিএনপি এবং তাদের প্রভু ইউনূস ভেবেছিল জুলাইয়ের রক্তে হাত রাঙিয়ে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকবে। কিন্তু ইতিহাস বলে, রক্তে যার হাত রাঙানো, তার পতন অনিবার্য। সিলেটে রাস্তার পাশে প্রস্রাব নিয়ে যে খুন হলো, সেটা শুধু একজন মানুষের মৃত্যু নয়। এটা বিএনপির রাজনৈতিক মৃত্যুর সূচনা।
আরো পড়ুন

