Share
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র জায়েদ একরামের গার্লফ্রেন্ড উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়াকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে যে ভাইরাল ভিডিও ছড়িয়েছে, তা আদৌ ‘স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা’ নয় বরং পূর্বপরিকল্পিত ও স্ক্রিপ্টেড নাটক— এমন অভিযোগ উঠেছে একাধিক সূত্র থেকে। অভিযোগকারীদের দাবি, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার রায়ের দিন ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে যে উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছিল, তার টিআরপি বাড়ানো এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোই ছিল এই ‘আইটেম গার্ল’ প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য।
সূত্রগুলো জানায়, ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের ব্যানারে যে ধ্বংসাত্মক মিছিল বের করা হয়েছিল, তাতে জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে থাকা কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে পেরে উঠছিলেন না। পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে এবং মিডিয়ার ফোকাস আকর্ষণ করতেই ঢাকা মহানগর ছাত্রশিবিরের নির্দেশে মাঠে নামানো হয় রাফিয়া ও তার বয়ফ্রেন্ড জায়েদ একরামকে। অভিযোগ রয়েছে, জায়েদ একরামই মূলত উসকানি দেন এবং পরে দাবি করেন যে, একজন পুলিশ সদস্য রাফিয়াকে ‘অশ্লীল মন্তব্য’ করেছেন— যা পুরোপুরি মিথ্যা ও পরিকল্পিত।
জায়েদ একরামের পরিচয় নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের ছাত্র এবং ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মী বলে অভিযোগ। তার বাবা বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে গঠিত তথাকথিত ‘গভর্নেন্স/সংস্কার কমিশন’-এর একজন সদস্য। এই পদের প্রভাব ও ক্ষমতার উত্তাপেই নাকি পুলিশকে হুমকি-ধমকি, অশালীন ভাষা এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, রাফিয়া নিজেই একজন পুলিশ সদস্যের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পেছন থেকে টেনে ধরছেন। এরপরই শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি এবং ‘পুলিশ আমাকে অশ্লীল কথা বলেছে’ অভিযোগ। পরিকল্পিত এই নাটকের কাভারেজ বাড়াতে শিবির-সমর্থক কিছু অনলাইন পোর্টাল ও মোবাইল সাংবাদিকদের গ্রুপে নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুরো বিষয়টি তদারকি করছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সাদ্দাম হোসেন, ছিবগাতউল্লাহ সিবগা, সাদিক কায়েম ও ফরহাদ হোসেন।
রাফিয়ার পারিবারিক পটভূমিও এখন আলোচনায়। তার মা জিন্নাত মহল ময়মনসিংহ সদরের একটি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ৫ আগস্টের আগে এই পরিবারের জীবনযাত্রা ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে বর্তমানের আকাশ-পাতাল পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন। হঠাৎ প্রাপ্ত ‘কাঁচা টাকা ও কাঁচা ক্ষমতা’ই এই নাটকের পেছনে বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যদিও রাফিয়া ‘ইংলিশে কপচানো’ চেষ্টা করেছেন এবং কুখ্যাত ভাইরাল শিক্ষিকা মোনামীকে দিয়েও ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা চালানো হয়েছে, তবু সিসি ক্যামেরা ও মোবাইল ফুটেজে সবকিছু ধরা পড়ে গেছে। নেটিজেনদের বড় অংশ এই ঘটনাকে ‘ফ্লপ নাটক’ আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করছেন, রিহার্সাল না দিয়েই মঞ্চে নামলে এমনই হয়।
আরো পড়ুন

