Share
ড. ইউনুসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বেগম খালেদা জিয়ার হঠাৎ অসুস্থতা এখন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে দুর্বল থাকা সত্ত্বেও সাক্ষাতের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিএনপি অঙ্গনে সন্দেহ, গুঞ্জন ও ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকেই মনে করছেন—এটি নিছক একটি চিকিৎসাজনিত ঘটনা নয়; বরং সাক্ষাত-পরবর্তী মানসিক চাপ, রাজনৈতিক বার্তা বা পরিবেশগত কোনো অস্বাভাবিকতার প্রভাবও থাকতে পারে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ—সেদিন ক্যান্টনমেন্টে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ড. ইউনুস অত্যন্ত কঠোর ভাষায় চাপ প্রয়োগ করেন। দলীয় মহলে প্রচার রয়েছে যে, কথোপকথনের এক পর্যায়ে নেত্রীকে সরাসরি হুমকির মতো বার্তা দেওয়া হয়—বিশেষ করে তারেক রহমান দেশে ফিরলে “নিরাপত্তা ঝুঁকি” তৈরি হবে বলে ইঙ্গিত করা হয়। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রমাণ নেই, কিন্তু সাক্ষাতের পরপরই খালেদা জিয়ার অসুস্থ হয়ে পড়াটা নেতাকর্মীদের কাছে সন্দেহজনক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
এদিকে, ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তা পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিএনপি কর্মীরা। তাদের দাবি, সেদিনের উপস্থিত সেনা সদস্যদের আচরণ, বৈঠকের পরিবেশ এবং পুরো প্রোটোকল অস্বাভাবিকভাবে কঠোর ছিল। কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে খাবার, ওষুধ বা ইনজেকশনের মাধ্যমে নেত্রীকে ক্ষতি করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নও তুলছেন, যদিও এসব সন্দেহের কোনো প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। তবুও দলের ভেতরে ভয়, আতঙ্ক ও ক্ষোভ অসাধারণ গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দলের তৃণমূল এখন বিস্ফোরণের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। বিএনপির ঘরে ঘরে উচ্চারিত হচ্ছে একটি স্লোগান—“খালেদা জিয়ার কিছু হলে আগুন জ্বলবে ঘরে ঘরে।” এটি শুধু একটি স্লোগান নয়; বরং নেত্রীর প্রতি আবেগ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দলের হতাশাগ্রস্ত মানসিকতার প্রতিফলন। দলীয় সূত্র বলছে—খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এখন আর কেবল চিকিৎসাজনিত সংকট নয়; বরং এটি রাজনৈতিক অস্থিরতার এক নতুন অধ্যায়ে রূপ নিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলের মধ্যে এমন আতঙ্ক ও অবিশ্বাস জাতীয় রাজনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি এবং ড. ইউনুসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা উত্তেজনা দেশের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হচ্ছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বিএনপি অঙ্গনের প্রতিটি স্তরে।
সব মিলিয়ে, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও ড. ইউনুসের সাক্ষাৎকে ঘিরে যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—তা দেশের রাজনীতিতে অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও তীব্র উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরো পড়ুন

