Friday, January 30, 2026

ভোটের বাক্সে লাথি মারো, বাংলাদেশ রক্ষা করো

Share

একটি রাষ্ট্র যখন ধারাবাহিকভাবে সত্য অস্বীকার করে, যখন নাগরিকের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়ে, আর যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দায় এড়ানোর কৌশলকে নীতিতে পরিণত করে—তখন গণতন্ত্রের শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায় ভোট। আজ বাংলাদেশের সামনে ঠিক সেই বাস্তবতাই উপস্থিত।

স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোকে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রেখে, সীমিত জনসমর্থনসম্পন্ন—প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটব্যাংক নির্ভর দলগুলোর অংশগ্রহণে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে না। কারণ নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলন।

যে নির্বাচনে দেশের বড় অংশের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব অনুপস্থিত থাকে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও দীর্ঘদিনের গণভিত্তিসম্পন্ন দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পায় না—সে নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা কঠিন। সংখ্যার হিসাব দিয়ে নির্বাচন বৈধ প্রমাণ করা গেলেও, রাজনৈতিক বৈধতা আসে অংশগ্রহণ, প্রতিযোগিতা ও জনআস্থার মধ্য দিয়ে—যার ঘাটতি আজ স্পষ্ট।

জনগণ দেখছে, প্রশ্ন তুলছে। তারা বুঝতে পারছে—সবাইকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে ক্ষমতা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু জনসম্মতি পাওয়া যায় না। আর জনসম্মতি ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা কখনোই টেকসই হয় না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন মানে কেবল ফলাফল নয়; নির্বাচন মানে প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়াই যখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন ফলাফলও অনিবার্যভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে ‘ভোটের বাক্সে লাথি মারা’ কোনো শারীরিক সহিংসতার আহ্বান নয়; এটি একটি রাজনৈতিক রূপক। এর অর্থ—ভয়ের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করা, ব্যর্থতাকে পুরস্কৃত না করা, এবং নাগরিকের রায়ের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারকে থামানো।

যে রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু হত্যা ‘ছোট ঘটনা’ হয়ে যায়, যে রাষ্ট্রে জবাবদিহি চাপা পড়ে রাজনৈতিক অস্বীকারে, যে রাষ্ট্রে ভোটারকে নীরব দর্শকে পরিণত করা হয়— সেই রাষ্ট্রে ভোট দেওয়া আর কেবল ব্যক্তিগত অধিকার থাকে না; তা নাগরিক দায়িত্বে রূপ নেয়।

ভোট কেবল সরকার পরিবর্তনের উপায় নয়। ভোট হলো রাষ্ট্রের নৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণের প্রক্রিয়া। ভোট হলো স্পষ্ট করে বলা—এই দেশ অবহেলার নয়, এই দেশ অস্বীকারের নয়।

ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—নাগরিকেরা যখন ভোটের মাধ্যমে কথা বলে, তখন সবচেয়ে শক্ত ক্ষমতাও কেঁপে ওঠে। তাই আজ বাংলাদেশের প্রয়োজন স্লোগান নয়; প্রয়োজন সচেতন নাগরিক সিদ্ধান্ত। ভয় নয়—দায়িত্ব। নীরবতা নয়—ভোট। কারণ বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশ টিকে থাকবে যদি জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাকে রক্ষা করে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত