Friday, January 30, 2026

নিজেদের কুকর্ম ঢাকতে এবার মসজিদ ব্যবহারের পরিকল্পনা ইউনূসের

Share

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বিতর্কিত গণভোটের স্বপক্ষে জনমত গঠনে সারা দেশের মসজিদের ইমাম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ ঢাকার কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, সরকার গণভোটের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগাতে চায়। তিনি বলেন, “ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এবং বিশেষ লিফলেট ছাপানো হচ্ছে। আমরা নিশ্চিত যে, প্রতিটি মানুষ জানবে কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি আগামী ১০০ বছরের বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা হবে।”

প্রেস সচিব আরও বলেন, ১৯৭৭ সালের তুলনায় এখন শিক্ষার হার এবং প্রযুক্তির ব্যবহার (ইউটিউব-টিকটক) অনেক বেশি, যা এই বার্তা পৌঁছাতে সহায়ক হবে।

বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক দলগুলো এই গণভোটের স্বচ্ছতা ও পদ্ধতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলছেন:

জটিল বিষয়ের সরলীকরণ: ‘জুলাই সনদ’-এ মোট ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এতগুলো জটিল সাংবিধানিক বিষয়ের ওপর কেবল একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট নেওয়া ভোটারদের জন্য বিভ্রান্তিকর। কেউ হয়তো একটি প্রস্তাব পছন্দ করেন কিন্তু অন্যটি নয়—এমন অবস্থায় তাদের কোনো বিকল্প থাকছে না।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ব্যবহার: মসজিদের মতো পবিত্র স্থানকে রাজনৈতিক প্রচারণার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনাকে অনেকেই বাঁকা চোখে দেখছেন। একে ‘ধর্মীয় অনুভূতিকে’ কাজে লাগিয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন অনেক রাজনৈতিক নেতা।

সংসদের ক্ষমতা খর্বের আশঙ্কা: আইনবিদদের মতে, সংবিধান সংস্কারের কাজ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের। গণভোটের মাধ্যমে আগে থেকেই সব ঠিক করে দেওয়া পরবর্তী সংসদের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

আইনি বৈধতার সংকট: সংবিধান থেকে গণভোটের বিধান অনেক আগেই বাতিল হয়েছে। ফলে কেবল একটি অধ্যাদেশের ওপর ভিত্তি করে এত বড় যজ্ঞ কতটুকু স্থায়ী বা আইনসিদ্ধ হবে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা কাটছে না।

সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রীয় কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হলে তা নিয়ে ভবিষ্যতে বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করার বিষয়টি নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত