Friday, January 30, 2026

ভোটাধিকার হত্যা করে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি করছে বিএনপি–জামায়াত–এনসিপি

Share

ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি–জামায়াত–এনসিপি জোট যে পথে হাঁটছে, তা সরাসরি গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তির ওপর আঘাত। জনগণের রায় নয়, বরং তথাকথিত নির্বাচন, নামকাওয়াস্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর আগেই ঠিক করা ফলাফলের মাধ্যমে এমপি হওয়ার যে স্বপ্ন তারা লালন করছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

বাস্তব চিত্র আরও নির্মম। এই জোটের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের অন্তত ৮০ শতাংশই নিজ নিজ এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হওয়ার মতো ভোট পাওয়ার অবস্থানে নেই। মাঠে জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, সাংগঠনিক শক্তি ভঙ্গুর, আর অতীতের ভূমিকার কারণে মানুষের আস্থাও প্রায় শূন্য। তবুও কাগুজে হিসাব-নিকাশে তাদের ‘বিজয়ী’ বানানোর চেষ্টা চলছে—যেন জনগণ নেই, ভোট নেই, গণতন্ত্রও নেই।

এ ধরনের আয়োজন নির্বাচন নয়, এটি সুস্পষ্ট প্রহসন। আর এই প্রহসনের মূল লক্ষ্য একটাই—ভোটাধিকার হত্যা করে ক্ষমতা দখল। কিন্তু দেশের মানুষ এখন আর বিভ্রান্ত নয়। তারা জানে, ভোট কেড়ে নেওয়া মানেই ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া। তাই এই সাজানো নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না, প্রতিহত করতেই প্রস্তুত।

বিএনপি–জামায়াত–এনসিপি জোট হয়তো ভাবছে, রাজনৈতিক সমঝোতা, অদৃশ্য আশীর্বাদ কিংবা প্রশাসনিক সুবিধার মাধ্যমে সবকিছু ম্যানেজ করা যাবে। ইতিহাস তাদের এই ভুল বারবার ভেঙে দিয়েছে। জনগণকে বাদ দিয়ে কেউ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি, পারবেও না। কাগজে-কলমে এমপি হওয়া যায়, কিন্তু জনগণের প্রতিনিধি হওয়া যায় না।

আজ দেশের মানুষ স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তুলছে—এই এমপিরা কার প্রতিনিধি? জনগণের, না কি দলীয় সমীকরণের? ভোট ছাড়া সংসদ মানেই দুর্বল গণতন্ত্র, আর দুর্বল গণতন্ত্র মানেই অনিশ্চিত রাষ্ট্রব্যবস্থা।

এই প্রহসন নির্বাচন প্রতিহত করা এখন আর শুধু রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি নাগরিক দায়িত্ব। জনগণ যদি আজ নীরব থাকে, তবে কাল আর কথা বলার অধিকারও অবশিষ্ট থাকবে না। গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে সাজানো নির্বাচন নয়—প্রকৃত, অংশগ্রহণমূলক ও জনগণের রায়ে প্রতিষ্ঠিত নির্বাচনই একমাত্র পথ।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত