Share
যুক্তরাষ্ট্র ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতির ফলে লাখো বাংলাদেশি পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। কিন্তু এই দুর্ভোগের জন্য দায়ী কে? উত্তর খুবই স্পষ্ট। ২০২৪ এর জুলাইয়ে দাঙ্গা বাঁধিয়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যে অবৈধ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারই পরিণতি ভোগ করছে দেশের সাধারণ মানুষ।
মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে সাংবিধানিক কোনো পথ অনুসরণ না করে। বিদেশি অর্থায়নে, ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় এবং সামরিক বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে যতই গণঅভ্যুত্থান বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হোক, বাস্তবতা হলো এটি একটি সুপরিকল্পিত অভ্যুত্থান ছাড়া আর কিছু নয়।
এখন সেই অবৈধ শাসনের খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষকে। যেসব পরিবার বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয়জনদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য, যেসব শিক্ষার্থী স্বপ্ন দেখছিল আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার, যেসব মানুষ আইনি পথে অভিবাসনের জন্য আবেদন করে রেখেছিল, তারা সবাই এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রায় ৫৯ হাজার বাংলাদেশি প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতেন। এখন সেই সংখ্যাটি শূন্য।
অভিবাসন আইনজীবী দিল্লি রাজ ভট্ট যথার্থই বলেছেন, হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিক এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যাদের নাগরিকত্বের মামলা ঝুলে আছে, যাদের সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারিত হয়ে গেছে, সবার জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। আরেক আইনজীবী মঈন চৌধুরী এই সিদ্ধান্তকে অমানবিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন দেশের প্রতি মানবিকতা দেখাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, যে দেশে একটি অবৈধ সরকার ক্ষমতায় বসে আছে?
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের ভূমিকা অপরিসীম। গত বছর দেশে এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। এর ১১ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এখন সেই পথ রুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুধু ভিসা স্থগিতই নয়, যারা ইতিমধ্যে আবেদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তাদের সব কিছুই এখন ঝুলে আছে অনিশ্চয়তায়। কত দিন এই স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে, তারও কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।
ইউনুস এবং তার দল ক্ষমতায় এসেছে বৈধতা ছাড়াই। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তাদের কোনো সাংবিধানিক অধিকার নেই শাসন করার। তবুও তারা বসে আছে। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের কোটি কোটি মানুষকে। যুক্তরাষ্ট্র যখন ভিসা স্থগিত করে, তখন তারা মূলত বার্তা দেয় যে তারা ওই দেশের স্থিতিশীলতা এবং বৈধতা নিয়ে সন্দিহান। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে কোনো দেশই আস্থা রাখতে পারছে না।
সুদখোর মহাজন হিসেবে খ্যাত ইউনুস দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে তার ব্যবসা গড়েছেন। নোবেল পুরস্কার পেয়ে আন্তর্জাতিক সুনাম অর্জন করলেও দেশের মানুষের কাছে তিনি একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। এখন সেই মানুষটিই বসে আছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, কোনো নির্বাচন ছাড়া, কোনো গণরায় ছাড়া। এবং তার এই অবৈধ শাসনের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসছে দুর্ভোগ।
জুলাই মাসের সহিংসতা যারা সংগঠিত করেছিল, তারা জানত যে একটি নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিতে পারলে ক্ষমতার স্বাদ নেওয়া যাবে। তারা সফলও হয়েছে। কিন্তু তারা হিসাব করেনি যে এর দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি কী হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক সম্পর্ক সবকিছুতেই এর প্রভাব পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিসা স্থগিতকরণ তারই একটি উদাহরণ মাত্র।
এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতি কতদিন চলবে? যতদিন দেশে একটি বৈধ সরকার প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন এই ধরনের সমস্যা থেকেই যাবে। অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো দেশই স্থিতিশীল থাকতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনোই পূর্ণ আস্থা রাখে না এমন সরকারের ওপর যার বৈধতা নেই।
বাংলাদেশের মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে গণতন্ত্র এবং নির্বাচিত সরকারের গুরুত্ব কতটা। যখন একটি নির্বাচিত সরকারকে বলপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়, তখন শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই নষ্ট হয় না, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়। ভিসা বন্ধ, ব্যবসা-বাণিজ্যে সমস্যা, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন, সবকিছুই এর ফল।
ইউনুস এবং তার সমর্থকরা যতই দাবি করুক না কেন যে তারা দেশের কল্যাণে কাজ করছেন, বাস্তবতা হলো তাদের অবৈধ শাসনই দেশকে এই সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় হয়তো, কিন্তু জনগণের আস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্মান অর্জন করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিসা নীতি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু সেটা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের মানুষের জন্য প্রকৃত সমাধান হলো দেশে একটি বৈধ, নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা। যতদিন না সেটা হচ্ছে, ততদিন এই ধরনের সমস্যা থেকেই যাবে।
অবৈধ সরকারের অধীনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। ইউনুসের নেতৃত্বে যে শাসনব্যবস্থা চলছে, তা দেশকে কোনো সুফল দিতে পারছে না। বরং প্রতিটি দিন যত যাচ্ছে, সমস্যা তত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা স্থগিতকরণ এর একটি প্রমাণ মাত্র। আগামীতে আরো কী কী সমস্যা আসবে, তা কেউ জানে না।
দুর্ভাগ্য নেমে এসেছে বাংলাদেশের মানুষের ওপর। এই দুর্ভাগ্যের জন্য দায়ী তারাই যারা গত বছর জুলাইয়ে দেশব্যাপী দাঙ্গা বাঁধিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়েছে। বিদেশি টাকা, জঙ্গি সংগঠনের সহায়তা এবং সামরিক বলের ওপর ভর করে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা কখনোই দেশের প্রকৃত কল্যাণ করতে পারে না। আর সেই মূল্য দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষকে, যাদের কোনো দোষ নেই, যারা শুধু একটি স্থিতিশীল জীবন চেয়েছিল।
আরো পড়ুন

