Share
থানায় লুট হওয়া অস্ত্র নির্বাচনকালীন ব্যবহৃত হবে না স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই বক্তব্য আপাতদৃষ্টিতে আশ্বাসের মতো শোনালেও বাস্তবে এটি এক ধরনের কৌশলী দায়মুক্তির ঘোষণা। কারণ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের কোনো দৃশ্যমান, কার্যকর বা আন্তরিক উদ্যোগ নেই। কেন নেই এই প্রশ্নের উত্তর এখন আর অজানা নয়। লুট হওয়া অস্ত্রগুলো ইতোমধ্যেই সরকারঘেঁষা গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছে গেছে।
এই নীরবতা কোনো প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয় এটি একটি সচেতন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। রাষ্ট্র জানে কোথায় অস্ত্র আছে, জানে কার হাতে আছে তবুও চোখ বন্ধ করে আছে। কারণ এই অস্ত্রই এখন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার অনানুষ্ঠানিক গ্যারান্টি, ভয় প্রদর্শনের হাতিয়ার এবং নিয়ন্ত্রিত অরাজকতার মূল উপকরণ।
পরিকল্পনাটি এখানেই থেমে নেই এটি আরও ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। তথাকথিত নির্বাচন শেষ হলে এসব অস্ত্র রাস্তায় ফেলে রেখে ‘উদ্ধার অভিযান’-এর নাটক মঞ্চস্থ করা হবে। প্রমাণ মুছে ফেলা হবে, দায় চাপানো হবে অজ্ঞাত শক্তির ওপর। এরপর ক্ষমতায় গিয়েই পাকিস্তানি ও চীনা অস্ত্র আমদানির মাধ্যমে নতুন করে একটি সশস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলা হবে—যেখানে রাষ্ট্র থাকবে শক্তিশালী, কিন্তু জনগণ থাকবে অনিরাপদ।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো এই পুরো রূপরেখা নাকি জঙ্গিরাই জাহাঙ্গীরকে জানিয়েছে। যদি এই তথ্য সত্য হয়, তবে এটি স্পষ্ট করে দেয় যে জঙ্গিবাদ ও রাষ্ট্রক্ষমতা এখন আর পৃথক নেই কোথাও গিয়ে তারা একে অপরের ছায়ায় চলাচল করছে। এটি শুধু একটি নির্বাচনের প্রশ্ন নয়। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সংকটও নয়। এটি একটি রাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রকাশ্য ঘোষণা। যে রাষ্ট্র অস্ত্র লুটের সঙ্গে আপস করে, সে রাষ্ট্র জনগণের নিরাপত্তা নয় ক্ষমতার নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে।।
আরো পড়ুন

