Friday, January 30, 2026

সেনাবাহিনীর পোশাক পরে রাস্তায় জঙ্গিরা আতঙ্কে জনমনে উদ্বেগ, প্রশ্নের মুখে রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা

Share

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিকভাবে একটি সম্মানিত ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সেনাদের সাহসিকতা ও শৃঙ্খলা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। ঠিক এই কারণেই সেনাবাহিনীর নাম, ইউনিফর্ম ও মর্যাদা ঘিরে যেকোনো অভিযোগ রাষ্ট্রের জন্য গভীর উদ্বেগ ও অশনিসংকেত।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে গুরুতর অভিযোগ ও আশঙ্কা প্রকাশ পাচ্ছে বাংলাদেশের রাস্তায় রাস্তায় যাদের সেনা পোশাকে দেখা যাচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, শিবির-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র ক্যাডার এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিসেবে পরিচিত হিজবুত তাহরির ও জেএমবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে সেনা পোশাক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সহজেই “জঙ্গি” পরিচয় আড়াল করতে পারে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা নিছক আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, বরং সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তির ওপর মারাত্মক আঘাত।

সমালোচকদের বক্তব্য আরও গুরুতর। তাদের অভিযোগ, বর্তমান ইউনুস সরকারের ছত্রছায়ায় এবং সেনাবাহিনীর ভেতরের কিছু আদর্শিকভাবে বিতর্কিত ও পাকিস্তানপন্থী কর্মকর্তার নীরব প্রশ্রয়ে উগ্রবাদী শক্তিকে আড়াল ও সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। যাদের দায়িত্ব জঙ্গিবাদ দমন ও নির্মূল করা, অভিযোগ অনুযায়ী তারাই যদি জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় তাহলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
এখানে স্পষ্টভাবে বলা জরুরি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো মতাদর্শ কিংবা কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর বাহিনী নয়। এটি জনগণের সেনাবাহিনী, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ। কিন্তু সেই সেনাবাহিনীর পোশাক যদি রাজনৈতিক স্বার্থ বা উগ্রবাদী তৎপরতার আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে সেটি সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জনগণের প্রশ্ন তাই অত্যন্ত সরল কিন্তু গভীর যদি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হয়, তবে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও দৃশ্যমান ব্যাখ্যা কেন আসছে না? আর যদি অভিযোগের সামান্য অংশও সত্য হয়, তবে তা জাতির জন্য ভয়াবহ বিপদের ইঙ্গিত।

সেনা পোশাক কোনো ছদ্মবেশ নয়; এটি জাতির আস্থা, সম্মান ও নিরাপত্তার প্রতীক। এই প্রতীককে ব্যবহার করে যদি জঙ্গিবাদ বা রাজনৈতিক সন্ত্রাস লালন করা হয়, তবে তার দায় শুধু কয়েকজন ব্যক্তির নয় তার দায় পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকেই নিতে হবে। নীরবতা এখানে কোনো সমাধান নয়। সত্য উদঘাটন, দায় নির্ধারণ এবং সেনাবাহিনীর পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত