Share
ক্ষমতার স্বাদ একবার পেলে তা ছাড়া কঠিন হয়ে পড়ে। আসিফ মাহমুদ আর মাহফুজ আলমের ক্ষেত্রে এই কথাটা যেন হুবহু মিলে যাচ্ছে। পদত্যাগ করেছেন দুই মাস হয়ে গেল, কিন্তু সরকারি বাসা ছাড়ার কোনো তাড়া নেই। যারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারাই এখন নিজেদের জন্য আলাদা নিয়ম তৈরি করে ফেলেছেন।
আসিফ মাহমুদ বলছেন এক মাস আগেই বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ তার বাসায় গিয়ে কর্মচারীদের সাথে কথা বললে জানা যাচ্ছে স্যার এখনো সেখানে আছেন, বাসা ছাড়েননি। একপাশে বলছেন এক কথা, বাস্তবে হচ্ছে উল্টো। এই দ্বিচারিতা কোন নীতি-নৈতিকতায় পড়ে সেটা বোঝা দায়।
মাহফুজ আলম আরও খোলাখুলি বলে দিয়েছেন যে নির্বাচনের আগে বাসা ছেড়ে দেবেন। মানে এখনো কিছুদিন থাকবেন সরকারি সুবিধায়। পদত্যাগ করার পরও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে যাওয়ার এই মানসিকতা আসলে কী বার্তা দিচ্ছে? যে সরকার গঠিত হয়েছে জুলাই মাসের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর, সেই সরকারের প্রতিনিধিরা কি এভাবেই জবাবদিহিতার উদাহরণ তৈরি করবেন?
আরও মজার ব্যাপার হলো, আসিফ মাহমুদ এখন জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য হয়ে সরকারি বাসায় থাকা কোন যুক্তিতে গ্রহণযোগ্য? তারা যে সরকারে ছিলেন সেটা তো অন্তর্বর্তী, দলীয় নয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সুবিধা ভোগ করার ক্ষেত্রে কোনো অন্তর্বর্তী ভাব নেই।
১৯৭৮ সালে কাজী জাফর আহমেদ পদত্যাগ করে সরকারি গাড়িতে পর্যন্ত ওঠেননি। প্রাইভেট গাড়িতে বাসায় ফিরেছিলেন এবং পদত্যাগের দুইদিন আগেই বাসা ছেড়ে দিয়েছিলেন। এখন ২০২৬ সাল। আমরা কি সত্যিই এগিয়ে গেছি, নাকি নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে আরও পিছিয়ে পড়েছি?
ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই সরকার যেভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কিন্তু তারা যদি সত্যিই সংস্কার আর পরিবর্তনের কথা বলতেন, তাহলে নিজেদের লোকদের ক্ষেত্রেও একই মাপকাঠি প্রয়োগ করতেন। পদত্যাগ করার পঞ্চাশ দিন পরও সরকারি বাসা আঁকড়ে থাকা কোনো সংস্কারমুখী সরকারের লক্ষণ নয়।
যে ছাত্ররা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে উপদেষ্টা হয়েছিলেন, তারা এখন নিজেরাই বৈষম্যের চর্চা করছেন। সাধারণ মানুষকে একটা নিয়মে চলতে হয়, আর তাদের জন্য আলাদা নিয়ম। এটাকে কি বলা যায়? কোটায় উপদেষ্টা হলে এরকমই হয় হয়তো। দায়িত্ববোধ থাকে না, থাকে শুধু সুবিধা ভোগের প্রবণতা।
গৃহায়ন মন্ত্রণালয় বা সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এই বিষয়ে কিছু বলতে পারছে না। সবাই নীরব। এই নীরবতা কি সম্মতির লক্ষণ? নাকি এই সরকারের কাছে নীতি-নৈতিকতার চেয়ে ব্যক্তিগত সুবিধাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
‘২৪ এর জুলাই মাসের ঘটনা যাই হোক না কেন, যারা ক্ষমতায় এসেছেন তাদের উচিত ছিল অনুকরণীয় উদাহরণ তৈরি করা। কিন্তু তার বদলে দেখা যাচ্ছে তারা নিজেরাই সেই পুরনো রাজনীতির ধারায় ফিরে গেছেন যেখানে ক্ষমতা মানেই সুবিধা, আর দায়িত্ব মানেই শুধু বক্তৃতা।
এই দুই তরুণ উপদেষ্টার বয়স যথাক্রমে ২৭ আর ৩০। এই বয়সেই তারা শিখে ফেলেছেন কীভাবে সরকারি সুবিধা আঁকড়ে থাকতে হয়, কীভাবে একদিকে কথা বলে অন্যদিকে কাজ করতে হয়। এই শিক্ষা নিয়ে তারা যদি রাজনীতিতে থাকেন, তাহলে ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা সহজেই অনুমেয়।
ইনসাফের কথা বলা আর নিজেরা ইনসাফ করা দুটো আলাদা জিনিস। এই সরকার আর তার প্রতিনিধিরা প্রথমটায় পারদর্শী, কিন্তু দ্বিতীয়টায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এটাই তাদের আসল চেহারা।
আরো পড়ুন

