Wednesday, February 4, 2026

নোবেলজয়ী, সেক্স ট্রাফিকিং নেটওয়ার্ক ও ডিপ স্টেট: এপস্টিন ফাইলের প্রশ্নবিদ্ধ ইউনূস অধ্যায়

Share

জেফ্রি এপস্টিনের নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে কেবল একজন যৌন অপরাধী হিসেবে নয়, বরং পশ্চিমা ক্ষমতার কাঠামোর এক ভয়ংকর এক্স-রে হিসেবে। রাজনীতি, অর্থ, দাতব্য, মিডিয়া ও মানবাধিকার—সবকিছুর আড়ালে যে বিকৃত নেটওয়ার্ক কাজ করে, এপস্টিন তার মুখোশ খুলে দিয়েছে। সেই উন্মোচিত নথির ভেতরেই বারবার উঠে আসে একটি নাম—ড. মোহাম্মদ ইউনূস। ১৩ বার।

এটা বলা জরুরি—ফাঁস হওয়া নথিতে ইউনূসের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো যৌন অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু প্রশ্নটা আর প্রমাণের সরল অঙ্কে সীমাবদ্ধ নেই। প্রশ্নটা হলো—একই অপরাধ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত মানুষ, পরিবার ও রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ইউনূসের সম্পর্ক কেন এত ঘন, এত ধারাবাহিক, এত গভীর?

এপস্টিনের অপরাধ সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিল ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল। মার্কিন আদালতে প্রমাণিত—তিনি কেবল সহযোগী নন, বরং অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী পাচারের মূল সংগঠক। তার বোন ইসাবেল ম্যাক্সওয়েল আবার ইউনূসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এটি কোনো গুজব নয়, নথিভুক্ত সামাজিক সম্পর্ক।

এখানে প্রশ্নটা সোজা: দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা একটি ভয়াবহ অপরাধ সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় চরিত্রের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব কি রাজনৈতিকভাবে “নিরীহ” হতে পারে? আরও স্পষ্ট করে বললে—এই পরিবার কি সত্যিই কিছুই জানত না?

এপস্টিন ফাইলে ইউনূসের নাম যেসব জায়গায় এসেছে, সেখানে বারবার ঘুরে ফিরে আসে “পরিচয় করিয়ে দেওয়া”, “সামাজিক অনুষ্ঠান”, “অর্জন”—এই শব্দগুলো। কিন্তু এপস্টিন নেটওয়ার্কের বাস্তবতা বলছে, এই তথাকথিত সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোই ছিল আস্থা তৈরি, প্রভাব বিস্তার এবং ক্ষমতার দরজা খোলার প্রাথমিক ধাপ।

ডেমোক্র্যাটিক ডিপ স্টেটের সঙ্গে ইউনূসের সম্পর্ক এখানে নতুন মাত্রা যোগ করে। বিল ও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা, নির্বাচনী অনুদান, ফাউন্ডেশন কানেকশন—সবই প্রকাশ্য। অথচ একই বিল ক্লিনটনের নাম এপস্টিন আইল্যান্ড সংক্রান্ত বিতর্কে বারবার উঠে এসেছে। এই সমীকরণে ইউনূস কি কেবল পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন, নাকি তিনি ছিলেন ব্যবস্থার অংশ?

এই চেইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম হুমা আবেদিন—হিলারি ক্লিনটনের ডান হাত, ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির ভেতরের শক্তিশালী সংগঠক। গ্রামীণ ব্যাংকের আমেরিকান বিস্তারের পেছনে এই বলয়ের ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আর সেই হুমা আবেদিনের বর্তমান স্বামী—অ্যালেক্স সরোস।

এপস্টিন ফাইলে জর্জ সরোসের নাম এসেছে ৪৫৮ বার, অ্যালেক্স সরোসের নামও রয়েছে। এমনকি একটি পার্টির উল্লেখ আছে, যার লোকেশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এপস্টিন আইল্যান্ড ছিল কিনা। ইউনূস ক্ষমতায় আসার পরপরই অ্যালেক্স সরোসের বাংলাদেশ সফর—এগুলো কি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি রাজনৈতিক বিনিয়োগের অংশ?

এখানে আরেকটি দিক উপেক্ষা করা যায় না—নীরবতা। এপস্টিন কেলেঙ্কারিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের অনেকেই প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, আইনজীবীর মাধ্যমে অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। ইউনূসের ক্ষেত্রে সেই দৃশ্যমান ব্যাখ্যার অভাব চোখে পড়ে। নীরবতা কখনো নির্দোষতার ঢাল হতে পারে, আবার কখনো কৌশলগত আত্মরক্ষাও।

সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নটি তাই থেকেই যায়— যদি ইউনূস সত্যিই এই অন্ধকার নেটওয়ার্কের বাইরে থাকতেন, তাহলে কেন একই অপরাধ সাম্রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত পরিবার, একই ডিপ স্টেট বলয়, একই অর্থনৈতিক শক্তি—সব জায়গায় তার নাম ঘুরেফিরে আসে? আজ হয়তো কেউ প্রমাণ দেখাতে পারবে না—ইউনূস কী করেছেন।

কিন্তু ইতিহাস বলে, ক্ষমতার রাজনীতিতে “কোথায় ছিলেন” এবং “কার সঙ্গে ছিলেন”—এই প্রশ্নগুলো একসময় “কি করেছিলেন”-এ রূপ নেয়। ৩০ মিলিয়ন পৃষ্ঠার নথি প্রকাশের পরও যদি সব সত্য বের না হয়, তার মানে একটাই—সব প্রকাশ করার রাজনৈতিক অনুমতি এখনো নেই। যারা আজ মার্কিন স্বার্থের অ্যাসেট, তারা আপাতত সুরক্ষিত।

তাই এই লেখা কোনো রায় নয়।
এটি একটি অভিযোগপত্রও নয়।
এটি একটি সতর্ক ঘণ্টা।
ডটগুলো পাঠকের চোখের সামনেই আছে।
জোড়া লাগানোর দায়িত্ব ইতিহাসের।।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত