Tuesday, February 10, 2026

লুটপাটের অর্থ নিয়ে নির্বাচনের পরপরই দেশ ছাড়তে চান ইউনূসের উপদেষ্টা-কর্মকর্তারা

Share

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। নির্বাচনের আগে এমন পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে দায়িত্বকালীন সম্পদের হিসাব প্রকাশ না হওয়া এবং ‘লুটপাটের অর্থ নিয়ে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি’ নেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে।

সূত্রমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক পাসপোর্টে বিদেশ ভ্রমণে বিশেষ সুবিধা থাকলেও দায়িত্ব শেষ হলে তা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে মেয়াদ থাকাকালীনই অনেকে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিদেশ সফরের প্রয়োজনে ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে বা তার স্ত্রী এখনও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেননি।

যাদের নাম উঠে এসেছে

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ২৫ জানুয়ারি কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। পাশাপাশি চুক্তির মেয়াদ থাকলেও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে এনওসি চেয়েছেন আইজিপি বাহারুল আলম। এছাড়া কয়েকজন উপদেষ্টা সরকারি বাসা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দায়িত্ব থাকাকালীন এমন পদক্ষেপ অস্বাভাবিক। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণা অনুসারে উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব এখনও প্রকাশিত হয়নি। এ অবস্থায় পাসপোর্ট পরিবর্তনকে রাজনৈতিক পরিবর্তন বা আইনি জটিলতার আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেউ কেউ ‘লুটপাটের অর্থ নিয়ে দেশ ছাড়ার’ অভিযোগ তুললেও সরকারি কর্মকর্তারা তা অস্বীকার করেছেন। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, তিনি কোথাও যাবেন না।

২১ জানুয়ারির এক সংশোধনীর পর নিয়ম কিছুটা শিথিল হয়েছে। আগের সরকারের সুবিধাভোগী না হলে সহজেই পাসপোর্ট পরিবর্তন সম্ভব। তবে এটি জনমনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মতামত রয়েছে। নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হলে এ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসতে পারে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত