Share
এরশাদ যখন ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, তার ঠিক কয়েকদিন আগে কাফকোর সাথে একটা চুক্তি করে গেলেন। মওদুদ আহমেদ নাকি সেই চুক্তির কপি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। ভাবুন একবার, অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষু রোগী যায়, আর এখানে একটা চুক্তি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যেতে হলো। চুক্তিটা নিজেই কতটা মুমূর্ষু ছিল সেটা বোঝা যায় এই ঘটনা থেকেই। সেই চুক্তির ফলাফল কী হয়েছিল? বিশেষ দামে বিশ বছর ধরে কাফকোকে গ্যাস দিতে হয়েছে সার বানানোর জন্য, আর সেই গ্যাস থেকে বানানো সার আমাদের কিনতে হয়েছে আন্তর্জাতিক দামে। দেশের সম্পদ ফিরিয়ে কিনতে হয়েছে কয়েকগুণ দামে। এটাই ছিল ক্ষমতা ছাড়ার আগের শেষ উপহার।
এখন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস চলছে এখন। ২০২৪ এর জুলাই দাঙ্গায় রক্ত ঝরিয়ে, বিদেশি টাকা আর জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারা গত বছর আমেরিকার সাথে একটা গোপন বাণিজ্য চুক্তি করেছেন। কী আছে সেই চুক্তিতে? জানি না। কারণ জনগণকে জানানো হয়নি। আগামী নয় তারিখে আরও একটা চুক্তি হবে আমেরিকার সাথে। সেটাও কি গোপন থাকবে? দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চুক্তি হবে, আর জনগণ জানবে না কী হচ্ছে তাদের নামে?
মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার তথাকথিত সরকার কোন অধিকারে এই চুক্তিগুলো করছেন? নির্বাচিত সরকার নন তারা। ক্যু করে ক্ষমতায় এসেছেন। জনগণের ম্যান্ডেট নেই তাদের। অথচ এমন সব চুক্তি করছেন যার খেসারত দিতে হবে আগামী কয়েক দশক ধরে। কাফকোর চুক্তি যেমন বিশ বছর ধরে দেশকে বিপর্যয়ে ফেলেছিল, এই চুক্তিগুলোও কি তেমনি কিছু?
যারা এখনো বলছেন সব ঠিক হয়ে যাবে, তাদের বলি একটু চোখ খুলে দেখুন। গরিব কৃষকের চৌদ্দটা বাজিয়ে দেওয়া লোকেরা এখন সরকার চালাচ্ছে। আগে শুধু কৃষক মরত, এখন আঠারো কোটি মানুষ ঝুঁকির মুখে। কৃষককে আমরা কখনো মানুষ ভাবিনি, তাই তাদের বাঁচা-মরায় কারো কিছু যায় আসেনি। কিন্তু এবার মধ্যবিত্ত শহুরে মানুষও যদি ধরা খায়, তাহলে কী হবে? আঠারো কোটি অন্ধ মানুষকে চশমা পরাবেন কীভাবে?
ইউনুস সাহেব তো সুদের ব্যবসা করে নোবেল পেয়েছেন। গরিবদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা আদায় করা তার পেশা। এখন পুরো দেশটাকেই কি তিনি তার গ্রাহক বানিয়ে ফেলতে চাইছেন? গোপন চুক্তি করে, জনগণকে অন্ধকারে রেখে, দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন তিনি?
চুক্তি করবেন, আর জনগণকে জানাবেন না কী হলো? এটাই কি নয়াবন্দোবস্ত? ব্রিটিশরাও অন্তত জানাত তারা কী করছে। এখানে তো সেটাও নেই। সামরিক বাহিনীর ছত্রছায়ায়, বিদেশি প্রভুদের মদদে, একটা অবৈধ সরকার দেশের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দিচ্ছে, আর আমরা তাকিয়ে দেখছি।
আগামী যে সরকার আসবে, তাকে বড় একটা ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বসতে হবে। সারা দুনিয়ায় হাত পাততে হবে। কারণ এই চুক্তিগুলোর খেসারত দিতে গিয়ে দেশের কোষাগার ফাঁকা হয়ে যাবে। চশমা কেনার টাকাও থাকবে না তখন। ইউনুস সাহেব আর তার দল যা করে যাচ্ছেন, তার পরিণতি ভোগ করতে হবে কয়েক প্রজন্মকে।
আরো পড়ুন

