Wednesday, April 8, 2026

বাংলা ভাষাকেও ‘চুদলিংপং’ করে দিয়েছেন ইউনূস

Share

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঘটনাবহুল ১৮ মাসের শাসনকাল শেষ করে বিদায় নিয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সংস্কার ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করলেও, বিদায়লগ্নে এই সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি মাতৃভাষা বাংলাকে ধ্বংস করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই আন্দোলনের সময় থেকেই বাংলা ভাষার শব্দচয়নে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, সুকৌশলে বাংলা ভাষাকে বিকৃত করে ‘পাকিস্তানকরণ’ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু শব্দের ব্যবহারে এই পরিবর্তন স্পষ্ট: স্বাধীনতা শব্দের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘আজাদি’। সুবিচার রূপান্তরিত হয়েছে ‘ইনসাফে’। দেশ শব্দটির জায়গায় জায়গা করে নিয়েছে ‘মুলক’।

এছাড়া বর্তমান ‘জেন-জি’ প্রজন্মের মধ্যে ‘চুদলিংপং’-এর মতো অদ্ভুত ও অসংলগ্ন শব্দের প্রচলন বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মতে, এগুলো এখন ‘মবের ভাষা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যা শুনলে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর বর্তমান বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই ভাষা বিকৃতির কড়া সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “বিদেশি বহু ভাষার শব্দ বাংলাকে সমৃদ্ধ করলেও বর্তমান জেন-জিদের পক্ষ থেকে উচ্চারিত ‘ইনকিলাব’ জাতীয় শব্দের কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মকে এই কৃত্রিম ভাষা ছেড়ে মাতৃভাষার দিকে ফিরে আসতে হবে।”

তিনি আরও স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না’। দেশের উন্নয়ন ও প্রকৃত সমৃদ্ধির জন্য নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভাষার লড়াই করে যে জাতি স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই দেশে ভিনদেশি শব্দের আধিপত্য এবং ভাষার বিকৃতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ইউনূস সরকারের আমলে এই ভাষাগত পরিবর্তনের যে ধারা শুরু হয়েছে, তা দেশের মৌলিক পরিচয়ের ওপর আঘাত হানছে বলেও মনে করেন অনেকে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত