Sunday, November 30, 2025

আর্মি অ্যাক্ট না মানলে ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ, রাষ্ট্রকে ফিরতে হবে সংবিধানের পথে

Share

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন কেবল তাত্ত্বিক আদর্শ নয় এটি রাষ্ট্রের টিকে থাকার মূলভিত্তি। বিশেষত সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া ও সংবিধানসম্মত বিধান মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানের ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া শুধু একটি বাহিনীর নয় রাষ্ট্রের সামগ্রিক নৈতিক শক্তি ও জনগণের আস্থার প্রতিফলন।

বাংলাদেশের বিদ্যমান আর্মি অ্যাক্ট, ১৯৫২ পরিষ্কারভাবে নির্দেশ করে, দায়িত্ব পালনকালে কোনো সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে তা অবশ্যই এই আইনের অধীনে তদন্ত ও বিচার করতে হবে। এই আইন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ন্যায্যতা রক্ষার জন্য প্রণীত। অন্যদিকে, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ১৯৭ ধারা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আগে সরকারের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এই দুটি বিধানই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত দায়ের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করে।

তবু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, এসব আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে বিভিন্ন অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল বা বিকল্প আইনি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠছে—আইনের শাসন কি সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে, নাকি প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতা (due process) ব্যাহত হচ্ছে?

ন্যায়বিচারের মৌলনীতি বলছে আইনের উদ্দেশ্য প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায় প্রতিষ্ঠা। তাই কোনো তদন্ত, ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের বৈধতা নির্ভর করবে সংবিধানসম্মত অনুমোদন, নিরপেক্ষ প্রমাণ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ওপর। যদি এই শর্তগুলো পূরণ না হয়, তবে তা আইনের শাসনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বর্তমান বাস্তবতায় রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ভারসাম্য, স্বচ্ছতা ও নৈতিক দায়বদ্ধতা জরুরি হয়ে পড়েছে। সামরিক, প্রশাসনিক ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক আস্থা রক্ষা করেই কেবল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।

ন্যায়বিচার যদি আইনের কাঠামোর বাইরে গিয়ে প্রয়োগ হয়, তবে তা ন্যায়বিচার নয়, বরং ক্ষমতার প্রয়োগে পরিণত হয়। আর তাই রাষ্ট্রের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সংবিধান, আইন ও নৈতিক নীতির পথে ফিরে আসা।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত