Sunday, November 30, 2025

দুরারোগ্য হোয়াইট ফেটিশে আক্রান্ত এনজিও সম্রাট ইউনুস

Share

চার মাস। পুরো চার মাস ধরে দেশের চল্লিশ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতের প্রতিনিধিরা দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু ভেতরে ঢুকতে পারছেন না। অথচ বিদেশি একটা কোম্পানির মামুলি কর্মকর্তা এলে লাল গালিচা বিছিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এটা কি নিছক অবহেলা? না, এটা পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞের একটা অংশ মাত্র।

ইউনূস যে কাজটা করছেন, তা আর যাই হোক দেশপ্রেমিক কোনো নেতার কাজ নয়। একজন মহাজন ব্যবসায়ী যিনি সারাজীবন গরিবদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা আদায় করে ধনী হয়েছেন, তিনি কীভাবে শিল্প-উদ্যোক্তাদের ভাষা বুঝবেন? তিনি তো বুঝেন শুধু কীভাবে দুর্বলকে শোষণ করতে হয়, কীভাবে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে হয়। আর এখন তিনি সেই একই কাজ করছেন পুরো দেশের সাথে।

বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান যখন প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তখন বুঝতে হবে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চল্লিশ লাখ শ্রমিকের জীবিকা নিয়ে যারা কাজ করেন, তারা যখন বলেন প্রধান উপদেষ্টা তাদের সময় দিচ্ছেন না, তখন এটা শুধু একটা সাক্ষাৎকারের বিষয় নয়। এটা দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার একটা সুচিন্তিত পরিকল্পনা।

স্টারলিংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের জন্য সময় আছে, কিন্তু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতের জন্য নেই। একশ মিলিয়ন ডলারের বিদেশি কোম্পানির প্রতিনিধি আসলে দৌড়ে যাওয়া হয়, আর চল্লিশ বিলিয়ন ডলারের দেশীয় খাতকে দরজার বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এই অপমান, এই অবজ্ঞা কোন দেশপ্রেমিক নেতা করতে পারেন? উত্তর পরিষ্কার – ইউনূস কোনো দেশপ্রেমিক নেতা নন। তিনি একজন দালাল, যিনি বিদেশি প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করতে এসেছেন।

পোশাক খাত মানে শুধু কিছু কারখানা আর রপ্তানির হিসাব নয়। এই খাতের সাথে জড়িয়ে আছে কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য। গ্রামের দরিদ্র পরিবার থেকে আসা মেয়েরা এই খাতে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন, তাদের পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে, সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছেন। কিন্তু ইউনূসের কাছে এসব কোনো বিষয় নয়। তার চোখে এই শ্রমিকরা শুধু পরিসংখ্যান, যাদের ভাগ্য নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।

যে মানুষ সারাজীবন গরিব মানুষের কাছ থেকে শতকরা ত্রিশ-চল্লিশ ভাগ সুদ নিয়ে নিজের সাম্রাজ্য গড়েছেন, তিনি কীভাবে শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ চিন্তা করবেন? তার তো শিখিয়েছে শুধু শোষণ করতে, দুর্বলের ঘাড়ে পা দিয়ে উপরে উঠতে। আর এখন তিনি সেই কাজই করছেন জাতীয় পর্যায়ে।

দেশের অর্থনীতির ইতিহাসে পোশাক খাত একটা অসাধারণ সাফল্যের গল্প। স্বাধীনতার পর যে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে উপহাস করা হতো, সেই দেশ আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক। এই অর্জন কোনো দাতা সংস্থার দয়ায় আসেনি, এসেছে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের পরিশ্রমে, শ্রমিকদের ঘামে। কিন্তু ইউনূস সেই সাফল্যকে সহ্য করতে পারছেন না। কারণ এই সাফল্য প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ বিদেশি দাতা আর মহাজনদের ছাড়াই এগিয়ে যেতে পারে।

ইউনূসের আসল এজেন্ডা এখন পরিষ্কার। তিনি চান দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে, যাতে আবার বিদেশি দাতাদের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ে। তিনি চান দেশীয় শিল্পকে ধ্বংস করে দিতে, যাতে বিদেশি কোম্পানিগুলো এসে বাজার দখল করতে পারে। আর সেজন্যই স্টারলিংকের কর্মকর্তার জন্য তার সময় আছে, কিন্তু বিজিএমইএ প্রেসিডেন্টের জন্য নেই।

এই লোক যে কাজ করছেন, তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা, তাদের সমস্যার প্রতি চরম উদাসীনতা দেখানো, এগুলো দুর্ঘটনা নয়, এগুলো সুপরিকল্পিত। ইউনূস এবং তার প্রভুরা চান বাংলাদেশ আবার সেই তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হোক, যেখানে তারা আবার তাদের শোষণ চালাতে পারবে।

চার মাসে একবারও সাক্ষাৎ না দেওয়া মানে কী? এর মানে হলো সরাসরি অবজ্ঞা, চরম অপমান। যে খাত থেকে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের আশি শতাংশেরও বেশি আসে, যে খাতে চল্লিশ লাখ মানুষ সরাসরি কাজ করেন, যে খাতের উপর আরও কোটি কোটি মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল, সেই খাতের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলার সময় নেই? এটা কোনো স্বাভাবিক আচরণ নয়, এটা পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞের অংশ।

বিদেশি ক্রেতারা এখন দেখছেন বাংলাদেশে কী হচ্ছে। তারা দেখছেন সরকার আর ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। তারা দেখছেন অরাজকতা, অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা। ফলে অর্ডার চলে যাচ্ছে ভিয়েতনামে, ইন্দোনেশিয়ায়, ভারতে। আর এটাই তো ইউনূস চান। তিনি চান বাংলাদেশ ব্যর্থ হোক, যাতে তিনি আর তার বিদেশি প্রভুরা বলতে পারেন দেখো, বাংলাদেশ নিজে নিজে চলতে পারে না।

এই সুদখোর মহাজন যিনি গরিব মানুষের রক্ত চুষে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, তিনি এখন পুরো দেশটাকেই শেষ করে দিতে বসেছেন। তিনি জানেন পোশাক খাত ধ্বংস হলে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। লাখ লাখ মানুষ বেকার হবে। দেশে সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে। আর তখন বিদেশি শক্তিরা এসে তাদের শর্ত চাপিয়ে দেবে। এটাই তো তাদের পরিকল্পনা।

ইউনূস কোনো দুর্ঘটনাক্রমে ক্ষমতায় আসেননি। তাকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে। সেই উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের যে স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে উঠছিল, তাকে ধ্বংস করে দেওয়া। যে শক্তিশালী দেশীয় শিল্প খাত তৈরি হয়েছিল, তাকে পঙ্গু করে দেওয়া। আর সেজন্যই তিনি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতকে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করছেন।

এই মানুষের কাছ থেকে দেশের জন্য কোনো ভালো আশা করা বৃথা। যিনি সারাজীবন নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কিছু বোঝেননি, যিনি গরিব মানুষকে শোষণ করে কোটিপতি হয়েছেন, যিনি বিদেশি প্রভুদের তোষামোদ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন, তিনি কীভাবে দেশের স্বার্থ রক্ষা করবেন? তিনি তো দেশদ্রোহী, দালাল, বিশ্বাসঘাতক।

বিজিএমইএ প্রেসিডেন্টের ক্ষোভ শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষোভ নয়, এটা দেশের কোটি কোটি মানুষের ক্ষোভের প্রতিনিধিত্ব করছে। যারা কষ্ট করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, তাদের সাথে এই আচরণ অসহনীয়। কিন্তু ইউনূসের কাছে এসব কোনো বিষয় নয়। তার তো একটাই লক্ষ্য – দেশটাকে শেষ করে দেওয়া, যাতে তার বিদেশি প্রভুরা খুশি হয়।

দেশের মানুষ দেখছে কীভাবে একের পর এক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত, প্রশাসন অচল, অর্থনীতি ধসে পড়ার দ্বারপ্রান্তে। আর এসবের মধ্যে ইউনূস ব্যস্ত বিদেশি কোম্পানির কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন করতে, নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে।

এই বিশ্বাসঘাতক যে ক্ষতি করছেন, তা পূরণ হতে কয়েক দশক লেগে যাবে। পোশাক খাত একবার ধ্বংস হলে, ক্রেতাদের আস্থা একবার হারিয়ে গেলে, তা ফিরে পেতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু ইউনূসের এসব নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। তিনি তো এই দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য আসেননি। তিনি এসেছেন দেশটাকে শেষ করে দিতে, আর তিনি সেই কাজই করছেন নিষ্ঠার সাথে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত