Share
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির মধ্যে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কাকমারি সোবনা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা, দুই সন্তানের জননী দীপা মণ্ডল (৩১) নিখোঁজ হয়েছেন।
গত ২৭ অক্টোবর সোমবার রামকৃষ্ণপুরের মামাবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়রা কোনো তথ্য পাচ্ছেন না, যা দেশজুড়ে সংখ্যালঘু হিন্দু নারীদের নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।
দীপা মণ্ডলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি সোমবার সকালে মামাবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে বের হন। কিন্তু বাড়ি না পৌঁছানোয় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশের তরফ থেকে শুধু আশ্বাস ছাড়া কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এ ঘটনা দেশে উগ্রবাদ, নারী নির্যাতন এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ভয়াবহ বৃদ্ধির সাথে যুক্ত হয়ে উঠেছে, যা নিত্যদিনের দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
বর্তমান সরকারের আমলে নিখোঁজের ঘটনা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নারীদের প্রতি নির্যাতন ও যৌন সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে সমালোচকরা মনে করেন। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নেই, ন্যায়বিচার নেই—এমন অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। দীপা মণ্ডলের মতো ঘটনা কি আরও একটি ট্র্যাজেডির ইঙ্গিত? তিনি জীবিত না আরেকটি শিকার?
দেশের নাগরিকরা আজ ভয়, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় বেঁচে আছে। আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে এর মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু নারী ও শিশুদের। বাংলাদেশ কি আর সবার দেশ? নাকি সংখ্যালঘুদের জীবন এখন সবচেয়ে সস্তা? প্রশ্ন উঠছে, কে দেবে এই নিরাপত্তা?
পরিবারের পক্ষ থেকে দীপা মণ্ডলের খোঁজে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। যেকোনো তথ্য থাকলে স্থানীয় থানা বা পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়। দেশ কোথায় যাচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন সবার মনে।
আরো পড়ুন

