Share
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে একটি মসজিদে ঢুকে ইমাম ও মুসল্লিদের ওপর হামলা, মাইক-সাউন্ড সিস্টেম ভাঙচুর, আর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো – “আমাদের অনুমতি ছাড়া আর আযান দেওয়া যাবে না” এমন উদ্ভট হুমকি! বাংলাদেশে এমন দিন আসবে কেউ কি কল্পনা করেছিল? যে দেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেই দেশেই মসজিদে আযান বন্ধ করার হুমকি! এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কী হতে পারে একটি সরকারের জন্য?
মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই তথাকথিত “সংস্কার সরকার” ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে যা চলছে, তা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের লক্ষণ নয়। প্রথমে শুরু হয়েছিল হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা। তাদের মন্দির, মূর্তি, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান – কিছুই রক্ষা পায়নি। পুরোহিত-যাজকদের ওপর আক্রমণ হয়েছে, জমিজমা দখল হয়েছে। আর এখন সেই হামলার ধারা এসে পৌঁছেছে মুসলমানদের ওপরও। এখন মসজিদে হামলা হচ্ছে, ইমামদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আযান বন্ধ করার ভয় দেখানো হচ্ছে।
এটা স্পষ্ট যে ইউনুস সরকারের আমলে কেউই নিরাপদ নয়। সংখ্যালঘু হোক আর সংখ্যাগরিষ্ঠ হোক, কারও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই। যে সরকার জুলাই মাসে দাঙ্গা-হাঙ্গামার মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের কাছে আর কী আশা করা যায়? যে শক্তি দেশের সংবিধান, আইন, গণতন্ত্র – সবকিছু পদদলিত করে ক্ষমতায় এসেছে, তারা কি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা ভাববে?
শেরপুরের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। এটি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ বলেই মনে হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার পর এখন মুসলমানদের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি, মসজিদে হামলা – এসব ঘটনা দেশকে একটি অরাজক অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর এই অরাজকতার সুবিধাভোগী কে? ইউনুস এবং তাকে যারা ক্ষমতায় বসিয়েছে, তারাই। একটি অস্থিতিশীল, বিভক্ত দেশ শাসন করা সহজ। মানুষ যখন নিজেদের মধ্যে লড়তে থাকে, তখন শাসকদের জবাবদিহিতার প্রশ্ন কেউ তোলে না।
ইউনুসের এই সরকার কোনো জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসেনি। তারা এসেছে রাস্তার আন্দোলন, সহিংসতা, আর বিদেশি প্রভুদের আশীর্বাদ নিয়ে। গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে সুদের ব্যবসা করে যে মানুষ ধনী হয়েছেন, যিনি দরিদ্র মানুষদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে তাদের আরও দরিদ্র করেছেন, সেই মানুষের কাছে দেশের সাধারণ মানুষের কী মূল্য থাকতে পারে? তার কাছে মসজিদ, মন্দির, গির্জা – সবই হয়তো ব্যবসার সুযোগ মাত্র।
সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, এই সরকারের পেছনে রয়েছে সামরিক সমর্থন এবং জঙ্গি সংগঠনের আশকারা। একদিকে যারা দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকার কথা, তারা এই অবৈধ ক্ষমতা দখলে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে ধর্মের নামে সন্ত্রাস করা গোষ্ঠীগুলো এখন নতুন উৎসাহে মাঠে নেমেছে। ফলাফল কী? সাধারণ মানুষ, তা সে যে ধর্মেরই হোক না কেন, সবাই এখন অনিরাপদ।
শেরপুরে যে তিন যুবক মসজিদে ঢুকে এমন ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে, তাদের এই সাহস কোথা থেকে এলো? কোন শক্তির বলে তারা মসজিদের ইমামকে বলতে পারে “আমাদের অনুমতি ছাড়া আযান হবে না”? এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো পৃষ্ঠপোষকতা আছে। আর সেই পৃষ্ঠপোষকতার মূল উৎস হলো বর্তমান অবৈধ সরকারের শাসনামলে তৈরি হওয়া এই আইনহীনতার পরিবেশ।
ইউনুস সরকার যদি সত্যিই দেশের মানুষের কল্যাণ চাইত, তাহলে এই ধরনের ঘটনা ঘটার আগেই তারা কঠোর ব্যবস্থা নিত। কিন্তু না, তারা নীরব। কারণ এই অরাজকতা, এই ভয়ভীতি, এই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা – সবই তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার। একটি শান্তিপূর্ণ, সুসংগঠিত সমাজ তাদের প্রশ্ন করবে – তোমরা কারা? কোন অধিকারে ক্ষমতায় বসেছ? কিন্তু একটি বিভক্ত, ভীত সমাজ এসব প্রশ্ন করার সময় পায় না।
বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, কিন্তু সেই দেশেই মসজিদে হামলা হচ্ছে। এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কী হতে পারে একটি সরকারের? ইউনুস এবং তার দল হয়তো ভাবছে এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে তারা দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকতে পারবে। কিন্তু ইতিহাস বলে, যে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, সেই সরকারের পতন অনিবার্য। আর সেই পতন যত দেরিতে হয়, দেশ ততই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এখন প্রশ্ন হলো, কতদিন আর এই অবৈধ শাসন চলবে? কতদিন আর মানুষ নিজ দেশে পরবাসীর মতো বাঁচবে? সংখ্যালঘু থেকে শুরু করে এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ – সবাই যখন আক্রান্ত, তখন বুঝতে হবে সমস্যাটা কোথায়। সমস্যা হলো এই অবৈধ, অগণতান্ত্রিক, জনবিচ্ছিন্ন সরকার। ইউনুস এবং তার দোসররা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, বাংলাদেশে শান্তি আসবে না। এটাই বাস্তবতা।
আরো পড়ুন

