Share
বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষকের পদ বাতিলের খবরটা শুনে প্রথমে মনে হয়েছিল, কেউ যেন একটা সস্তা রসিকতা করছে। কিন্তু না, এটা বাস্তব। ইসলামিক কিছু সংগঠনের চাপে সরকার পিঠ বাঁকিয়ে তাদের দাবি মেনে নিয়েছে। এটা শুধু শিক্ষাব্যবস্থার একটা পরিবর্তন নয়, এটা বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর একটা বড় আক্রমণ।
সংগীত আর শরীরচর্চা – এই দুটো বিষয়ই শিশুদের মানসিক এবং শারীরিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। সংগীত শিশুদের সৃজনশীলতা বাড়ায়, তাদের মনকে প্রশস্ত করে, আর শরীরচর্চা তাদের স্বাস্থ্য এবং শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলে। কিন্তু ধর্মান্ধ কিছু মানুষের কাছে এসব কিছুই ‘অনৈসলামিক’। তাদের মতে, শিশুরা শুধু ধর্মীয় শিক্ষা পেলেই চলবে। তারা চায় না বাংলাদেশের শিশুরা সংগীত শিখুক, তারা চায় না তারা খেলাধুলা করে সুস্থ থাকুক। তারা চায় শিশুরা ধর্মের নামে একটা সংকীর্ণ চিন্তার মধ্যে বন্দী হোক।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে যে ধর্মান্ধ রাজনীতি কাজ করছে, তা স্পষ্ট। কিন্তু এর পেছনে আরো কিছু আছে। গত বছরের জুলাই মাসে দেশব্যাপী যে দাঙ্গা হয়েছিল, তার পেছনেও ছিল ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলোর হাত। তাদের সহযোগিতায়, বিদেশি অর্থে এবং সামরিক বাহিনীর সমর্থনে দেশের নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেই অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী সরকার এখন দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে তাদের মতো করে গড়ে তুলতে চায়। তারা চায় না বাংলাদেশের শিশুরা স্বাধীনচেতা হোক, তারা চায় না তারা বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধ শিখুক। তারা চায় শিশুরা ধর্মের নামে একটা অন্ধ বিশ্বাসের মধ্যে বড় হোক।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বা সিরিয়ার মতো ধর্মান্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। যেখানে ধর্মের নামে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে, যেখানে সংস্কৃতি এবং শিক্ষার উপর ধর্মের একচেটিয়া অধিকার কায়েম করা হবে। এই সরকারের কাছে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলোর দাবি মেনে নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণ নয়।
বাংলাদেশের মানুষের উচিত এখনই বুঝতে পারা যে, তাদের দেশকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ধর্মান্ধতা, বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ ক্ষমতার দম্ভের বিরুদ্ধে তাদেরই প্রতিবাদ করতে হবে। না হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অন্ধকারই অপেক্ষা করছে।
আরো পড়ুন

