Sunday, November 30, 2025

টিটিপিকে জঙ্গি সাপ্লাই দিতে দেশে তরুণদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ!

Share

নিজস্ব প্রতিবেদক
পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) জঙ্গি সাপ্লাই দিতে দেশে যুবকদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আর এর পেছনে মাস্টারমাইন্ড সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। নির্দেশনা দিচ্ছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস।

সম্প্রতি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে দেশটির যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে দুই বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন রতন ঢালীর (২৯) বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়। তবে আরেকজন নিহত ফয়সাল হোসেনের (২২) ঠিকানা জানা যায়নি। এই ঘটনার পরপরই এ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

সূত্র বলছে, দেশের প্রায় ৯ হাজার তরুণ-তরুণীকে ‘আত্মরক্ষামূলক মৌলিক প্রশিক্ষণ’এর আওতায় আনছে সরকার। এ প্রশিক্ষণটির পৃষ্ঠপোষকতা করছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একক এবং ব্যক্তিগত উদ্দ্যেগে। যদিও প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসতেই বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

বিকেএসপির সাতটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে চলতি মাসেই শুরু হয়েছে ১৫ দিনের এই আবাসিক প্রশিক্ষণ। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের স্বেচ্ছাচারিতা একাধিকবার জাতি প্রকাশ্যে অবলোকন করছে। সম্ভবত তারই ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বাস্তবতা হলো—দেশের টাকা খরচ করে রাষ্ট্রের নাম করে গোপনে নিজস্ব বাহিনী গড়ার চেষ্টা করছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। এবার উঠে এল জঙ্গি তৈরির ভয়ঙ্কর তথ্য।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর আবারও বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর ভয়াবহ ষড়যন্ত্র চলছে—এমন তথ্য সামনে আসছে বিভিন্ন সূত্র থেকে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ, বিদেশি অর্থায়ন এবং ইসলামাবাদের রাজনৈতিক-গোয়েন্দা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ।
সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা পাকিস্তানের সম্পর্ক সম্পোর্কন্নয়নে উঠেপড়ে লেগেছেন। চলতি বছরই পাকিস্তানের ৩ মন্ত্রী ঢাকা সফর করেন। এই কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে গেছেন।

গত জুনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তিন ব্রিগেডিয়ার ঢাকা সফরে আসেন এবং সরাসরি কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসে যান, যেখানে ১০ম পদাতিক ডিভিশনের সদর দপ্তর অবস্থিত। সাবেক এক বাংলাদেশি মেজর জেনারেল বলেন, “তারা নিঃসন্দেহে গুপ্ত মিশনে ছিলেন, না হলে হঠাৎ রামুর মতো সংবেদনশীল ঘাঁটি সফরের কারণ কী?”

রামু সেনানিবাস বর্তমানে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ ও সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। ফলে এ সফরকে অনেকেই স্বাভাবিক কূটনৈতিক ভ্রমণের বাইরে এক ধরণের গোপন সামরিক নকশা হিসেবে দেখছেন।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমের আক্রমণাত্মক বার্তা
পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যাচলাইন–এর এক কলামে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ভারতের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে লেখা হয়েছে, “এখন সময় এসেছে পূর্ব পাকিস্তানকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার।”

লেখক সরাসরি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আজমিকে আবারও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা উচিত। এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে—পাকিস্তানের একাংশ বাংলাদেশকে এখনো একটি হারানো ভূখণ্ড হিসেবে দেখছে।

এনসিপি ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের অদৃশ্য ভূমিকা
অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এনসিপি নামের একটি রাজনৈতিক দল গোপনে জঙ্গি সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক ফ্রন্ট হিসেবে কাজ করছে। তদন্তে উঠে এসেছে—কাতার ও তুরস্কভিত্তিক ইসলামিক ব্যাংকের মাধ্যমে পাকিস্তানি গোয়েন্দারা এই দলকে অর্থায়ন করছে। গত তিন মাসে শুধু আঙ্কারা হয়ে করাচিতে ১২.৭ মিলিয়ন ডলার ঢুকেছে এনসিপির শেল অ্যাকাউন্টে।

অভ্যন্তরীণ গোপন নথি থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের কয়েকটি নিরাপত্তা বাহিনীতে কৌশলগত বদলি হয়েছে, যেখানে জঙ্গি সহানুভূতিশীল কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে। এখনকার ভূরাজনীতিতে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বড় ভূমিকা রাখছে। ইসলামাবাদ-দোহা-ইস্তাম্বুল অক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে কিছু পশ্চিমা শক্তি, যাদের আগের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ জঙ্গিবাদবিরোধী। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কও আবার ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন পাকিস্তানি কর্মকররাদের সাম্প্রতিক সফর ও প্রচারণা কেবল কূটনৈতিক নয়; এর পেছনে স্পষ্টভাবে একধরনের ঐতিহাসিক রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং চলছে, যেখানে বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তানের প্রভাববলয়ে টানার চেষ্টা রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে জঙ্গি-সহানুভূতিশীল শক্তির অনুপ্রবেশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ষড়যন্ত্রকে শক্তিশালী করছে ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ—বিশেষ করে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পশ্চিমাদের নীরব সমর্থন।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত