Sunday, November 30, 2025

এনসিপির নেতা সারজিস আলমের পলায়ন,বিচার থেকে কেউ রক্ষা পাবে না

Share

বাংলাদেশ যখন আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামে, পুনর্গঠনের পথে দৃঢ় পা বাড়িয়েছে, তখন একদল তথাকথিত “নেতা” রাতের আঁধারে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের রক্তে লেখা ইতিহাস থেকে কেউ কখনো পালাতে পারেনি, পারবেও না। অথচ ইতিহাসের এই শিক্ষাকে উপেক্ষা করেই পালিয়ে বেড়াচ্ছে এনসিপির সেই নেপথ্য কুশীলবরা—যাদের হাতেই লেগে আছে জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনের রক্তচিহ্ন। সংবাদ এসেছে, সেই সময়ের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও অভিযুক্ত খুনী সারজিস আলম ইতোমধ্যেই দেশ ছেড়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশে যে সহিংসতা, নৈরাজ্য ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল—তার মূল পরিকল্পনা ও মদদদাতা হিসেবে এনসিপির কয়েকজন নেতার নাম তখনই উঠে আসে। জনগণের ন্যায্য আন্দোলনের নামে তারা গড়ে তুলেছিল ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের জাল। রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির ইন্ধনে দেশের ভেতরে বিভ্রান্তি, সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিতে তারা মরিয়া ছিল। সেই ভয়াবহ সময়ের প্রতিটি হত্যাকাণ্ড, প্রতিটি ধ্বংসযজ্ঞ, প্রতিটি নিখোঁজের পেছনে ছিল এই নেপথ্য কুশীলবদের অন্ধকার হাত।

আজ সেই নেতাদের একজন, সারজিস আলম, পালিয়ে গিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে—তারা জানে তাদের পরিণতি কী হতে চলেছে। কিন্তু জনগণ ভুলে যায়নি। কে কোথায় গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল, কে বিদেশি দূতাবাসে আশ্রয় খুঁজেছিল, আর কে রাষ্ট্রবিরোধী মহলের কাছ থেকে অর্থ ও পরামর্শ নিয়েছিল—সবই এই জাতি জানে, মনে রেখেছে।

ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর। অন্যায়, অত্যাচার ও বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস কোনোদিনও চাপা থাকে না। জনগণের ধৈর্য যতই দীর্ঘ হোক, অন্যায়ের সীমা অতিক্রম করলে ইতিহাস নিজেই প্রতিশোধ নেয়। যারা ভেবেছিল ক্ষমতার ছত্রছায়ায় তারা চিরকাল নিরাপদ থাকবে, আজ তাদেরই মুখোশ খুলে গেছে।

দেশ আজ জেগে উঠেছে। মানুষ এখন বুঝে গেছে, কে দেশপ্রেমিক, আর কে মুখোশধারী দেশবিরোধী। তাই সারজিস আলমরা পালিয়ে গেলেও, তাদের অপরাধ বিচার এড়াতে পারবে না। আইন ও ইতিহাসের হাত দীর্ঘ—একদিন না একদিন তাদের কাছে পৌঁছে যাবে।

বিদেশে গিয়ে হয়তো সাময়িকভাবে রক্ষা পাওয়া যায়, কিন্তু দেশের মাটিতে যে রক্ত ঝরানো হয়েছে, তার হিসাব এই মাটিই রাখে। বাংলাদেশের মাটি ক্ষমা করে, কিন্তু ভুলে না। জনগণের বিশ্বাস ও দেশের স্বাধীনতা নিয়ে যারা খেলেছে, তারা একদিন এই মাটিরই বিচারের মুখোমুখি হবে।

সারজিস আলম এবং তার মতো পলাতক নেতাদের জন্য এ এক সতর্ক বার্তা—বাংলাদেশ আর দুর্বল নয়। আজকের রাষ্ট্র জানে, কীভাবে দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার করতে হয়। ইতিহাসে যেমন মুক্তিযুদ্ধের পর রাজাকারদের বিচার হয়েছিল, তেমনি নতুন যুগেও রাষ্ট্রদ্রোহী ও খুনিদের পরিণতি হবে সেই পথেই।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত