Sunday, November 30, 2025

আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপাতে মাঠে লস্কর-আইএস ও হুজির ৩০০ সদস্য

Share

দেশ যখন রাজনৈতিক উত্তাপে ফুটছে, ঠিক সেই মুহূর্তে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা, আইএস এবং হুজি-সংশ্লিষ্ট একটি সমন্বিত জঙ্গি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে ব্যাপক নাশকতার ছক কষেছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা গেছে। সূত্রগুলোর দাবি, ইতোমধ্যে কমপক্ষে ৩০০ প্রশিক্ষিত জঙ্গি দেশের মাটিতে পৌঁছেছে অথবা স্থানীয় স্লিপার সেলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাঠে নেমেছে।

পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য আওয়ামী লীগের চলমান ও আসন্ন সব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে বাস-গাড়ি-বাজারে অগ্নিসংযোগ, নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, সহিংসতা চালিয়ে তার দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গোয়েন্দারা একে ‘ফলস ফ্ল্যাগ স্ট্র্যাটেজি’ বলে চিহ্নিত করেছেন। এর মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো, রাজনৈতিক সংকট গভীর করা এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল দেখানোই তাদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, জঙ্গিরা ৫০ জনের একটি হত্যা-তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী, কয়েকজন সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শীর্ষ ব্যবসায়ী, কয়েকজন বিএনপি নেতা, জনপ্রিয় বাম ছাত্রনেতা, সাংবাদিক, লেখক, আইনজীবী এবং এমনকি ফুটপাতের দোকানদার, রিকশাচালক, বাসের হেলপার-ড্রাইভারের মতো সাধারণ মানুষও।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মহাপরিকল্পনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তথাকথিত ‘জঙ্গি নিয়ন্ত্রক ও তথ্য উপদেষ্টা’ মাহফুজ। তিনি ১০ সদস্যের একটি কোর কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটিতে নাম এসেছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ব্যক্তিদের। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা খোদাবক্স, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব নাসিমুল গনি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদ আলী, সেনাবাহিনীর এজি ব্রাঞ্চের একজন ব্রিগেডিয়ার, ডিজিএফআই-এর একজন ব্রিগেডিয়ার, এনএসআই-এর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, সিটি এসবির একজন কর্মকর্তা এবং এনসিপির চারজন নেতা।

পাকিস্তান থেকে আসা লস্কর ও আইএস-ঘাঁটির সদস্যরা ইতোমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করেছে। তাদের সঙ্গে স্থানীয় হুজি সদস্য, আইএস-সংশ্লিষ্ট স্লিপার সেল এবং কোর কমিটির মাঠ পর্যায়ের অপারেশন ইনচার্জরা সরাসরি সমন্বয় করছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিকল্পনা ২০০১-২০০৬ সালের মধ্যে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত জঙ্গি তৎপরতার মডেলের সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে। একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, “অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ছাড়া এত বড় অপারেশন কখনোই সম্ভব নয়।”

এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো সংস্থা এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও আলোচনা চলছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি আর সাধারণ রাজনৈতিক সহিংসতা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য একটি সমন্বিত জঙ্গি অপারেশন।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত