Sunday, November 30, 2025

শেখ হাসিনার রায় ও ৩২ নম্বর ভাঙার নাটক করে বিদেশিদের হাতে বন্দর তুলে দিলেন ইউনূস

Share

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের জন্য সোমবার ছিল এক উল্লেখযোগ্য দিন। এদিন মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দ্বারা পরিচালিত ক্যাঙ্গারু কোর্ট শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। একইদিন জুলাইয়ের জঙ্গিরা আবারও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটিতে আবারও হামলা করতে যান। তবে এসব ঘটনার আড়ালে ঘটে গেছে আরও একটি বড় ঘটনা যা ছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে। তা হলো বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

ইউনূস মূলত পশ্চিমাদের কাছে এসব মুচলেখা দিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন। নির্বাচনের আগে দ্রুত তিনি পশ্চিমাদের কাছে দেওয়া মিশন শেষ করে যাচ্ছেন।

সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলোতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করেছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় বর্তমানে চালু থাকা এনসিটি ও নতুন তিনটি টার্মিনালে জিটুজি ভিত্তিতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের সব প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। পতেঙ্গা টার্মিনাল এক বছর আগে থেকেই পরিচালনা করছে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান।

আজ সোমবার লালদিয়া টার্মিনাল ও পানগাঁও টার্মিনাল নিয়ে নতুন চুক্তি হয়েছে। আগামী মাসে হতে পারে এনসিটি টার্মিনালের চুক্তি। চূড়ান্ত হয়ে আছে বে-টার্মিনালেরও ভবিষ্যৎও। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলে বছরে ৩৩ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডেল করা চট্টগ্রাম বন্দরের ৬০ শতাংশ কনটেইনারই ভবিষ্যতে হ্যান্ডেল করবে বিদেশি প্রতিষ্ঠান। চুক্তির শর্তাবলি ‘গোপন’ রেখেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও টার্মিনাল অপারেটর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এনসিটি টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর এলেও তারা কত টাকা বিনিয়োগ করবে, তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে এনসিটিতে আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড, লালদিয়ার চরের টার্মিনাল পরিচালনায় ডেনমার্কের এপি মুলার মায়ের্স্ক এবং বে টার্মিনাল প্রকল্পের একটিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড, আরেকটিতে সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনালকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড বর্তমানে এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনা করছে। এদের কাছ থেকেই পরে দায়িত্ব নেবে বিদেশি প্রতিষ্ঠান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনা নিয়ে বিদেশিদের সঙ্গে কেন এমন অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চুক্তি হচ্ছে– সেটাই বড় প্রশ্ন। বন্দরে বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাছাই করার আগে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা উচিত বলেও তারা মনে করেন।
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরর মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান। সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক শক্তির প্রাণকেন্দ্র। এমন একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা শক্তির হাতে ব্যবস্থাপনাগতভাবে স্থানান্তর করার যেকোনও উদ্যোগ রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হুমকি এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে।’

একাধিক সূত্র দাবি করছে, পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে “প্রক্সি নেতা” হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁকে জাতিসংঘ মহাসচিব করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা তৈরি ও চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে বাধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় দেশকে যেন কোনো শক্তির হাতিয়ার বানানো না হয়—এ বিষয়ে সরকার ও জনগণ উভয়কেই সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত