Share
রাজনীতিতে কোনো পদ বা ব্যক্তিত্ব নিছক স্থির থাকে না। প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি সফর প্রায়শই কৌশলগত সূচনার অংশ। খলিলুর রহমানের হঠাৎ দিল্লী যাত্রা এমনই একটি ঘটনা, যা সরলভাবে দেখা যায় না। তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং গতিশীলতা প্রমাণ করে, ক্ষমতা কখনো ব্যক্তিগত পরিচয়ের বাইরে থাকে না এটি সবসময় কৌশল, সংযোগ ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
খলিলুর রহমানকে বহুবার রহস্যময় মানুষ হিসেবে দেখা হয়েছে। তার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ পদ নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এটি একককেন্দ্রিক রাজনৈতিক কৌশল, যা তার প্রভাব ও ক্ষমতা সুসংহত করে। ১/১১ ঘটনার পর দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর আবার রাজনীতির মূলকেন্দ্রে প্রবেশ, তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও কৌশলকে আরও দৃঢ় করেছে।
সূত্র বলছে, খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এটি শুধুমাত্র প্রোটোকল নয় এটি দখলদার ইউনূসের সম্ভাব্য নিরাপত্তা, রাজনৈতিক “সেফ অ্যাক্সিট” এবং কৌশলগত সমঝোতার ইঙ্গিত বহন করে। ইতিহাস আমাদের শেখায়, ক্ষমতার পরিবর্তন এবং নিরাপত্তার কৌশল বারবার পুনরাবৃত্তি পায়। ২০০৭-২০০৮ সালে সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের ভারত সফর এবং প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বৈঠক সেই পুনরাবৃত্তির প্রমাণ।
খলিলুর রহমানের সফর কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি রাজনৈতিক কৌশল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তার এক জটিল বিন্যাস। আগের ইতিহাস যেমন নির্দেশ করেছে, বর্তমানও সেই ধারার একটি পুনরাবৃত্তি। তাই এই সফরকে কেবল সংবাদ বা গুজব হিসেবে দেখা উচিত নয় বরং রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা জরুরি।
রাজনীতি কেবল বর্তমানের লড়াই নয় এটি ইতিহাসের ধারার সঙ্গে যুক্ত এক গভীর খেলা। খলিলুর রহমানের দিল্লী সফর সেই রাজনৈতিক খেলাকে আরও স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করছে—যেখানে ক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং কৌশল একত্রে কাজ করে।
আরো পড়ুন

