Share
বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন লজ্জাজনক মুহূর্ত আর আসেনি। যে পাকিস্তান থেকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, যে দেশের সামরিক জান্তার হাত থেকে মুক্তি পেতে ত্রিশ লাখ প্রাণ দিতে হয়েছিল, আজ সেই পাকিস্তান থেকেই চাল আমদানি করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যে পাকিস্তান নিজেই দারিদ্র্য আর অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত, যেখানে এক কেজি আটার জন্য ৬০০ মানুষ মারামারি করে, সেই দেশ থেকে আমাদের খাদ্য সহায়তা নিতে হচ্ছে। এর চেয়ে বড় পতন আর কী হতে পারে?
২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর থেকে যে অবৈধ সরকারব্যবস্থা চলছে, তার দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদ মাত্র এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছেন যেখান থেকে ফেরা প্রায় অসম্ভব। একটি স্বনির্ভর দেশ, যে দেশ নিজেই চাল রপ্তানি করত, সেই দেশকে আজ পাকিস্তানের মতো দেউলিয়া একটি রাষ্ট্রের কাছে হাত পাততে হচ্ছে। এটা শুধু অর্থনৈতিক ব্যর্থতা নয়, এটা জাতীয় আত্ম-সম্মানের চরম অবমাননা।
ইউনুসের তথাকথিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের অর्थনীতি ধসে পড়েছে ভয়াবহভাবে। মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তলানিতে ঠেকেছে, খাদ্য মজুদ শূন্যের কোঠায়। যে দেশে কোটি কোটি টন ধান উৎপাদন হতো, সেখানে আজ চালের জন্য হাহাকার। কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না, বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, আর সরকারি সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে।
যে পাকিস্তান নিজেই আইএমএফের ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে, যেখানে বিদ্যুৎ সংকট নিত্যদিনের ঘটনা, যেখানে মানুষ রাস্তায় নেমে খাদ্যের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে, সেই দেশের সরকার বাংলাদেশের জন্য এক লাখ টন চাল কিনছে। এটা কি সহায়তা নাকি কূটনৈতিক চাল? পাকিস্তান নিশ্চয়ই এই সুযোগ হাতছাড়া করবে না বাংলাদেশকে আবারও তার প্রভাবের অধীনে আনার। আর ইউনুস সরকার সেই ফাঁদে পা দিচ্ছে নির্দ্বিধায়।
দেড় বছর আগেও বাংলাদেশ ছিল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। রিজার্ভ ছিল ৪০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, রপ্তানি আয় বাড়ছিল, বিদেশি বিনিয়োগ আসছিল। কিন্তু এখন? রিজার্ভ তলানিতে, টাকার মান পতনশীল, ব্যাংকিং খাত সংকটে, আর মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী। এই পতনের দায় কার? যারা অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতায় এসে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দিয়েছে, প্রশাসনকে পঙ্গু করে দিয়েছে, আর নীতিহীনতার মাধ্যমে অর্থনীতিকে ডুবিয়ে দিয়েছে।
ইউনুস এবং তার দল ক্ষমতায় এসেছিল বিদেশি মদদে, ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর সহায়তায়, আর সামরিক বাহিনীর নীরব সমর্থনে। জুলাই ২০২৪ এর দাঙ্গা ছিল সুপরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র, যার উদ্দেশ্য ছিল একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা। সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়েছে, কিন্তু এর মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। যারা ভেবেছিল পরিবর্তন আসবে, তারা এখন দেখছে শুধু ধ্বংস।
সুদী মহাজন বলে যাকে ডাকা হয়, সেই ইউনুস এখন দেশের হাল ধরে আছেন কোনো বৈধতা ছাড়াই। তার সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই, কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই, আর সবচেয়ে বড় কথা, কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই দেশকে এই সংকট থেকে উদ্ধার করার। শুধু কথার ফুলঝুরি, আর বাস্তবে পুরো দেশটাকে তলানিতে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে নিরলস।
পাকিস্তান থেকে চাল আমদানি শুধু একটি অর্থনৈতিক লেনদেন নয়, এটা আমাদের স্বাধীনতার অপমান। এটা সেই সব শহীদদের ত্যাগের অবমাননা যারা পাকিস্তানের শোষণ থেকে মুক্তি পেতে জীবন দিয়েছিলেন। আর এই অপমানের দায় পুরোপুরি ইউনুস এবং তার অবৈধ সরকারের ঘাড়ে। তারা দেশকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যেখানে এমনকি পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ রাষ্ট্রও আমাদের সাহায্যকারী হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ভিক্ষুকের কাছে ভিক্ষা চাওয়ার প্রবাদ আমরা শুনেছি, কিন্তু আজ তা বাস্তবে দেখতে হচ্ছে। বাংলাদেশ, যে দেশ একদিন এশিয়ার বাঘ হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, আজ পাকিস্তানের দয়ার মুখাপেক্ষী। এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কী হতে পারে? এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী ইউনুসের অদক্ষ, অবৈধ এবং জবাবদিহিহীন সরকার। দেশটা দেউলিয়া হয়ে গেছে, আর এর দায় ইতিহাস কখনো ভুলবে না।
আরো পড়ুন

