Sunday, November 30, 2025

মাইক নয়, অপরাধ হলো দরিদ্র হওয়া: ইউনূসের বাংলাদেশ ২.০ আদতে শরিয়া শাসন জারি

Share

শাহজাহান নামের একজন দরিদ্র বাবা তার মেয়ের বিয়েতে একটু আনন্দ করতে চেয়েছিলেন। একটা মাইক বাজিয়েছিলেন। এই ‘অপরাধে’ তাকে এবং তার পুরো পরিবারকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হলো, লাঞ্ছিত করা হলো, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা চাপিয়ে দেওয়া হলো। জামাতার রিকশা কেড়ে নেওয়া হলো। নোয়াখালীর হাতিয়ায় সেপ্টেম্বরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা দেশের বর্তমান অবস্থার একটি ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি মাত্র।

এটা ঠিক যে সালিশ প্রথা আমাদের গ্রামীণ সমাজে বহু পুরনো একটা বিষয়। কিন্তু যখন এই সালিশের নামে প্রকাশ্যে নির্যাতন চলে, যখন একজন গরিব বাবার সামান্য আনন্দের জন্য তাকে এবং তার পরিবারকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়, তখন বুঝতে হবে আমরা কোন অন্ধকার যুগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আর এই অন্ধকার নেমে আসছে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের সেই রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের পর থেকে, যেটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় বসিয়েছে একটি অবৈধ কাঠামোকে।

মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার যে পরিবেশ তৈরি করেছে, সেখানে প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। আইনের শাসনের বদলে চলছে জঙ্গি মানসিকতাসম্পন্ন মৌলবাদী গোষ্ঠীর অলিখিত শাসন। শাহজাহানের পরিবারের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে একটা মানসিকতা যা মনে করে যে কোনো আনন্দ, কোনো উৎসব, কোনো মিউজিক সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তাদের নিজস্ব বিকৃত ব্যাখ্যা অনুযায়ী। এই মানসিকতা তালেবানি শাসনের সাথে মিলে যায় অবিকল।

বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত জুলাইয়ের সেই দাঙ্গা যখন দেশের রাস্তায় রক্ত ঝরিয়েছিল, তখন থেকেই আমরা দেখছি একটার পর একটা ঘটনা যেখানে সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রত্যক্ষ সহায়তায় এবং সামরিক বাহিনীর সমর্থনে যে অবৈধ ক্যু সংঘটিত হয়েছিল, তার ফলাফল এখন স্পষ্ট। দেশে এখন চলছে একধরনের অঘোষিত শরিয়া আইন, যেখানে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিজেদের ইচ্ছামতো বিচার করছে, শাস্তি দিচ্ছে।

ইউনূস সরকারের অধীনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এসব ক্ষেত্রে। শাহজাহান বলছেন, সমাজে অনেকের কাছে গেছেন, কোথাও বিচার পাননি। পুলিশ, প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সবাই যেন চোখ বন্ধ করে আছেন। কারণ এই অবৈধ শাসনামলে যাদের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা, তারা এই ধরনের মৌলবাদী কার্যকলাপকে মদদ দিচ্ছে, অথবা অন্তত চুপ থাকছে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে।

যে দেশে একসময় নারীরা প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন, সে দেশে এখন একটা মেয়ের বিয়েতে মাইক বাজানোই হয়ে উঠছে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সারাদেশে এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটছে, যেগুলোর বেশিরভাগই হয়তো আলোর মুখ দেখছে না। ক্ষমতা দখলকারী এই অবৈধ সরকারের আমলে মৌলবাদী শক্তি এতটাই উৎসাহিত হয়েছে যে তারা এখন প্রকাশ্যে মানুষকে বেত্রাঘাত করতে পারে, জরিমানা আদায় করতে পারে, সম্পত্তি কেড়ে নিতে পারে।

সুদী মহাজন বলে যাকে গালি দেওয়া হচ্ছে, সেই মুহাম্মদ ইউনূস তার মাইক্রোক্রেডিট দিয়ে দরিদ্রদের শোষণ করেছেন বছরের পর বছর। আর এখন ক্ষমতায় এসে তিনি এবং তার দল একটা পুরো দেশকে জিম্মি করে রেখেছে। যে মানুষগুলো জুলাই মাসে রাস্তায় মরেছে, আহত হয়েছে, তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তাদের শাসনে কি পেয়েছে সাধারণ মানুষ? শাহজাহানের মতো হাজারো গরিব মানুষ এখন আরও অসহায়, আরও নিরাপত্তাহীন।

যে দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, সে দেশকে এখন ঠেলে দেওয়া হচ্ছে মধ্যযুগীয় বর্বরতার দিকে। ইসলামিক জেহাদিদের হাতে দেশ চলে গেছে, এটা এখন আর অতিরঞ্জন নয়, বাস্তবতা। একটা বিয়ে বাড়িতে মাইক বাজানোর স্বাধীনতাও যখন থাকে না, তখন বুঝতে হবে আমরা কতটা গভীর সংকটে পড়েছি।

ইউনূস এবং তার অবৈধ সরকার এসব ঘটনায় নীরব থেকে কার্যত সমর্থন জানাচ্ছে মৌলবাদী শক্তিকে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায়, তাদের উস্কানিতে দেশজুড়ে এক ধরনের ভয়ের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। যারা ভেবেছিল ক্ষমতার পরিবর্তন এনে দেবে মুক্তি, তারা এখন আবিষ্কার করছে যে এসেছে আরও ভয়াবহ শৃঙ্খল।

শাহজাহানের মেয়ের জামাইয়ের যে রিকশাটা আটকে রাখা হয়েছে, সেটা একটা পরিবারের জীবিকার একমাত্র উপায় ছিল। কিন্তু এই অবৈধ শাসনব্যবস্থায় কার কী আসে যায়? ক্ষমতা দখলকারীরা তো বিদেশি টাকায় পালিত, তাদের কাছে দেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট কোনো বিষয়ই নয়।

দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। যে গতিতে মৌলবাদী শক্তি মাথা তুলছে, যেভাবে স্থানীয় পর্যায়ে একধরনের জঙ্গি শাসন চলছে, তাতে শীঘ্রই হয়তো দেখব আরও ভয়াবহ সব ঘটনা। সামরিক সমর্থনপুষ্ট এই অবৈধ সরকার যতদিন থাকবে, ততদিন শাহজাহানের মতো হাজারো মানুষকে এভাবে লাঞ্ছিত হতে হবে, নির্যাতিত হতে হবে।

বাংলাদেশ এখন দাঁড়িয়ে আছে এক ভয়ংকর মোড়ে। একদিকে তালেবানি মানসিকতার উত্থান, অন্যদিকে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী একটি সরকার যার কোনো গণভিত্তি নেই, নেই গণতান্ত্রিক বৈধতা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সেই কালো অধ্যায় থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা কোথায় নিয়ে যাবে দেশকে, সেটা ভাবলেই শঙ্কিত হতে হয়। আর তার মাঝেই একজন গরিব বাবার অপরাধ শুধু এটুকু যে তিনি মেয়ের বিয়েতে একটু আনন্দ করতে চেয়েছিলেন। এই হলো ইউনূসের বাংলাদেশ, এই হলো অবৈধ ক্যু সরকারের উপহার।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত